যুঁই-কুঞ্জে বন-ভোমরা কেন গুঞ্জে গুন্‌গুন্

বাণী

যুঁই-কুঞ্জে বন-ভোমরা কেন গুঞ্জে গুন্‌গুন্।
প্রেম-ঝর্নার মধু-মঞ্জরি বাজে বক্ষে রুনুঝুন্।।
মন-গোলাপের পাপড়ি কাঁপে কেন গো
স্বপন দেখে পালিয়ে যাওয়া বুল্‌বুলি যেন গো,
চুড়ি কঙ্কণে কোন্ আন্‌মনা সাকি পেয়ালা বাজায় রিনিঠিনি ঠুনঠুন।।
ছল ছল চোখে চাঁদ আসমানে জলসায়
সঙ্গিনী তারাদের ভুলে ধরার কুমুদীর পানে কেন চায়,
হৃদয়ের এই নির্দয় খেলা দেখে হাস্নুহানা হেসে খুন।।

শ্রাবণ রাতের আঁধারে নিরালা ব’সে

বাণী

শ্রাবণ রাতের আঁধারে নিরালা ব’সে আছি বাতায়নে
রেবা নদীর খরস্রোত বহে বেগে আমার মনে॥
		দিগন্তে করুণ কাতর
		শুনি কার ক্রন্দন স্বর
ভেসে বন-মর্মর ঝরঝর সজল উতল পুবালি পবনে॥
বিরহী যক্ষ কাঁদে একাকী কোথায় কোন্ দূর চিত্রকূটে
আমার গানে যেন তার বেদনার সকরুণ ভাষা ফুটে।
		আমার মনের অলকায়
		কোন্ বিরহিণী পথ চায়
মালবিকার আঁখি-ধার ঝরে হায় অঝোর ধারায় মোর নয়নে॥

জাগো যুবতী আসে যুবরাজ

বাণী

জাগো যুবতী! আসে যুবরাজ।
অশোক-রাঙা বসনে সাজ।।
আসন-পাতা-বনে অঞ্চল আধো
বন্দনা-গীতি-ভাষা বাধো বাধো,
		কপোলে লাজ।।
উছলি’ ওঠে যৌবন আকুল তরঙ্গে,
খেলিছে অনঙ্গ নয়নে, বুকে, অঙ্গে আকুল তরঙ্গে।
আগমনী-ছন্দ মেঘ-মৃদঙ্গে
ভবন-শিখী গাহে বন-কুহু সঙ্গে,
বাজো হৃদি-অঙ্গনে বাঁশরি বাজো।।

নাটক : ‘আলেয়া’ (কাকলি ও বন্দিনীগণের গান)

তুমি যে-হার দিলে ভালোবেসে

বাণী

(তুমি)	যে-হার দিলে ভালোবেসে সে-হার আমার হ’ল ফাঁসি।
(প্রিয়)	সেই হার আজ বক্ষে চেপে আকুল নয়ন-জলে ভাসি।।
		তুমি জান অন্তর্যামী
		দান তো তোমার চাইনি আমি,
	তোমায় শুধু চেয়েছিলাম সাধ ছিল মোর হ’তে দাসী।।
	দুখের মালা কেড়ে নিয়ে কেন দিলে মতির মালা,
	মালায় শীতল হবে কি নাথ! শূন্য আমার বুকের জ্বালা?
	(মোরে)	রেখো না আর সোনার রথে
			ডাকো তোমার তীর্থ-পথে,
(আমার) সুখের ঘরে আগুন জ্বালো শোনাও বাঁশি সর্বনাশী।।

১. চেয়েছিলাম তোমায় স্বামী

বন-দেবী এসো গহন-বন-ছায়ে

বাণী

পুরুষ	: বন-দেবী এসো গহন-বন-ছায়ে।
স্ত্রী	: এসো বসন্তের রাজা নূপুর-মুখর পায়ে।।
পুরুষ	: তুমি কুসুম-ফাঁদ
স্ত্রী	: তুমি মাধবী চাঁদ,
উভয়ে	: আমরা আবেশ ফাল্গুনের ভাসিয়া চলি স্বপন-নায়ে।।
পুরুষ	: কল্প-লোকের তুমি রূপবাণী লো প্রিয়া,
	  অপাঙ্গে ফোটাও যুঁই চম্পা টগর মোতিয়া।
স্ত্রী	: নিষ্ঠুর পরশ তব (হায়) যাচিয়া জাগে বনভূমি
	  ফুলদল পড়ে ঝরি’ তব চারু পদ চুমি’,
উভয়ে	: সুন্দরের পথ সাজাই ঝরা-কুসুম-দল বিছায়ে।।

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে

বাণী

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে
এই বিশ্বের সকল ধ্বনির মাঝে।।
জীবের ভাষায় পাখির মধুর গানে,
সাগর রোলে নদীর কলতানে
সমীরণের মরমরে শুনি সকাল সাঁঝে।।
আমার প্রতি নিঃশ্বাসে মা রক্তধরার মাঝে
প্রাণের অনুরণনে তোর চরণধ্বনি বাজে।
গভীর প্রণব ওঙ্কারে তোর কালি (মা গো মহাকালী)
সেই নৃত্যলীলার স্তবগাথা গান চরণতলে নটরাজে।।