কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া

বাণী

কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া ফিরে ফুল-বনের গলি।
‘ফিরে যাও চপল পথিক’, দু’লে কয় কুসুম-কলি।
		দু’লে কয় কুসুম-কলি॥
ফেলিছে সমীর দীরঘ শ্বাস —  
আসিবে না আর এ মধুমাস,
কহে ফুল, ‘জনম জনম এমনি গিয়াছ ছলি’।
		জনম জনম গিয়াছ ছলি’॥
কাঁদে বায়, ‘নিদাঘ আসে
আমি যাই সুদূর বাসে’,
ফুটে ফুল হাসিয়া ভাসে, ‘প্রিয়তম যেয়োনা চলি’।
		ওগো প্রিয়তম যেয়োনা চলি’॥

আমার বিদায়-রথের চাকার ধ্বনি

বাণী

আমার বিদায়-রথের চাকার ধ্বনি ঐ গো এবার কানে আসে।
পুবের হাওয়া তাই কেঁদে যায় ঝাউ-এর বনে দীঘল শ্বাসে।।
	ব্যথায়-বিবশ গুলঞ্চ ফুল
	মালঞ্চে আজ তাই শোকাকুল,
মাটির মায়ের কোলের মায়া ওগো আমার প্রাণ উদাসে।।
অঙ্গ আসে অলস হ’য়ে নেতিয়ে-পড়া অলস ঘুমে,
স্বপন-পারের বিদেশিনীর হিম-ছোঁওয়া যায় নয়ন চুমে।
	হাতছানি দেয় অনাগতা
	আকাশ ডোবা বিদায়-ব্যথা,
লুটায় আমার ভুবন ভরি’ বাঁধন-ছেঁড়ার কাঁদন-ত্রাসে।।
মোর বেদনার কর্পূর-বাস ভরপুর আজ দিগ্বলয়ে,
বনের আঁধার লুটিয়ে কাঁদে হরিণটি তার হারার ভয়ে।
	হারিয়ে-যাওয়া মানসী হায়
	নয়ন-জলে শয়ন তিতায়,
ওগো, এ কোন্ যাদুর মায়ায় দু’চোখ আমার জলে ভাসে।।
আজ আকাশ-সীমায় শব্দ শুনি অচিন পায়ের আসা-যাওয়ার,
তাই মনে হয় এই যেন শেষ আমার অনেক দাবিদাওয়ার।
	আজ কেহ নাই পথের সাথি
	সামনে শুধু নিবিড় রাতি,
আমায় দূরের বাঁশি ডাক দিয়েছে, রাখ্‌বে কে আর বাঁধন-পাশে।।

রাধা শ্যাম কিশোর প্রিয়তম কৃষ্ণগোপাল

বাণী

রাধা শ্যাম কিশোর প্রিয়তম কৃষ্ণগোপাল বনমালী ব্রজের রাখাল।
কৃষ্ণ গোপাল শ্রীকৃষ্ণগোপাল শ্রীকৃষ্ণগোপাল
কভু শ্যাম রাঘব, কভু শ্যাম মাধব, কভু সে কেশব যাদব ভূপাল॥
যমুনা বিহারী মুরলীধারী, বুন্দাবনে সখা গোপী মনহারী,
কভু মথুরাপতি কভু পার্থসারথি কভু ব্রজে যশোদা আনন্দ দুলাল॥
দোলে গলে তাহার মন বন ফুলহার,
বাজে চরণে নূপুর গ্রহ তারকার কোটি গ্রহ তারকার।
কালিয়-দমন কভু, করাল মুরারি কাননচারী শিখী পাখা ধারী;
শ্যামল সুন্দর গিরিধারীলাল।
কৃষ্ণগোপাল শ্রীকৃষ্ণগোপাল শ্রীকৃষ্ণগোপাল॥

দারুণ পিপাসায় মায়া-মরীচিকায়

বাণী

	দারুণ পিপাসায়
	মায়া-মরীচিকায়
চাহিতে এলি জল বনের হরিণী।
	দগ্ধ মরুতল
	কে তোরে দেবে জল
ঝরিবে আঁখি-নীর তোরই নিশিদিনই।।
নিবায়ে গৃহ-দীপ আপন-নিশাসে
আলেয়ার পিছে এলি সুখ-আশে,
	সে-সুখ অবসান
	সুমুখেতে শ্মশান —
পিছনে অন্ধকার চির-নিশীথিনী।।
কেন তুই বনফুল বিলাস-কাননে
করিয়া পথ ভুল এলি অকারণে।
	ছিঁড়ে সাঁঝে তোরে
	মালা গাঁথি’ ভোরে
দ’লিল বিলাসী পথ-ধূলি সনে।
সন্ধ্যা-গোধূলির রাঙা রূপে ভুলে’
আসিলি এ কোথায় তমসার কূলে।
	শ্রাবণ-মেঘ হায়
	ভাবিয়া কুয়াশায়
হারালি পথ তোর রে হতভাগিনী।।

কলহংসিকা বাহনা পদ্মিনী-পাণি

বাণী

কলহংসিকা বাহনা পদ্মিনী-পাণি
মণি মঞ্জীরা শোভনা, ছন্দিতা বাণী।
বন্দে দামিনী-বর্ণা রাধা বৃন্দা-বন-চন্দে
মত্ত-ময়ূর-ছন্দে নাচে কৃষ্ণ প্রেমানন্দে।।
পল্লব-ঘন চক্ষে ঝরে অশ্রু-রস-ধারা
পূব হাওয়াতে বংশী ডাকে আয় রে পথ-হারা,
রুমঝুম ঝুম্ মঞ্জীর বাজে কঙ্কণ মণি বন্ধে।।
রিম্ ঝিম্ রিম্ ঝিম্ ঝিম্ কেকা-বন ঘন বর্ষে
তৃষ্ণ-তৃপ্ত আত্মা নাচে নন্দালোক হর্ষে,
ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর তাল বাজে শূন্যে মেঘ মন্দ্রে।।

ব’লো না ব’লো না ওলো সই

বাণী

ব’লো না ব’লো না ওলো সই
		আর সে কথা।।
তরু কি লতার কাছে
এসে কভু প্রেম যাচে
তরু বিনা নাহি বাঁচে
		অসহায় লতা।।
ভুলিতে যার নাই তুলনা
সখি তার কথা তুলো না
প্রাণহীন পাষাণে গড়া
		সে যে দেবতা।।