অশিব শক্তি হতে হে শঙ্কর

বাণী

অশিব শক্তি হতে হে শঙ্কর
অষ্টসিদ্ধিরে কর ত্রাণ, ত্রাণ কর শঙ্কর।।

নাটক : ‘অন্নপূর্ণা’

মম প্রাণ-শতদল হোক প্রণামী-কমল

বাণী

মম প্রাণ-শতদল হোক প্রণামী-কমল (ওগো) তব চরণে
আমার এ হৃদয় নাথ হোক তন্ময় তোমারি স্বরণে তোমারি স্বরণে॥
তব পূজার বেদী হোক আমার এ মন
হোক্ আরতি-প্রদীপ মোর এ দুটি নয়ন
নাথ, লহ মোরে পায় তোমারি সেবায় জীবনে-মরণে॥
মম দুঃখে সুখে মম তৃষিত বুকে তুমি বিরাজ,
মোর সকল কাজে বীণা-বেণু সম নিশিদিন বাজো॥
মোর দেহখানি, নাথ চন্দন প্রায়
হোক্ ক্ষয় তব মন্দির-পাষাণ-শিলায়,
পাই যেন লয়, নাথ, তব সৃষ্টির রূপে বরণে॥

আমি মৃতের দেশে এনেছি রে

বাণী

আমি মৃতের দেশে এনেছি রে মাতৃ নামের গঙ্গা ধারা।
আয় রে নেয়ে শুদ্ধ হবি অনুতাপে মলিন যারা।।
	আয় আশাহীন ভাগ্য হত
	শক্তি-বিহীন পদানত,
	(আয় রে সবাই আয়),
এই অমৃতে, আয়, উঠ্‌বি বেঁচে জীবন্মৃত সর্বহারা।।
	ওরে এই শক্তির গঙ্গা-স্রোতে
	অনেক আগে এই সে-দেশে,
মৃত সগর-বংশ বেঁচে উঠেছিল এক নিমেষে।
	এই গঙ্গোত্রীর পরশ লেগে
	নবীন ভারত উঠ্ল জেগে,
এই পুণ্য স্রোত ভেঙেছিল ভেদবিভেদের লক্ষ কারা।।

সোনার আলোর ঢেউ খেলে যায়

বাণী

সোনার আলোর ঢেউ খেলে যায় মাঠের ঘাসে ঘাসে।
বাউল হাওয়ায় কানাকানি মা বুঝি ঐ আসে॥
	কাশের চামর নদীর চরে
	প্রণাম হয়ে লুটিয়ে পড়ে
আনন্দেরি জোয়ার এলো ভোরের নীলাকাশে।
		মোদের মা জননী আসে॥
বেণু বনের মর্মরে আজ বাজে ছুটির বাঁশি
বরষ পরে ঘরে ফিরে এলো পরবাসী।
	দুঃখী ছেলেমেয়ের মুখে
	হাসির আলো ফুটল সুখে
আগমনীর আনন্দে আজ কুসুম হয়ে হাসে॥

তব চলার পথে আমার গানের

বাণী

তব	চলার পথে আমার গানের ফুল ছড়িয়ে যাই গো।
তারা	ধুলায় প’ড়ে কেঁদে বলে ‘তোমার পরশ (আল্‌তা) হ’তে চাই গো।।
		ওরা রাঙা হ’য়ে অনুরাগের রসে
		তোমার চরণ-তলে পড়ে খ’সে,
	ওদের দ’লে যেও, নাই যদি হয় বক্ষে তেমার ঠাঁই গো।।
ওরা	বুক পেতে দেয় পায়ের কাছে, অশ্রু-টলমল,
বলে	‘ধূলির পথে চলো না গো, ফুলেরপেথে চল।’
	(তুমি)	চরণ ফেল কেন ভয়ে ভয়ে
		বিরহ মোর ফুটেছে ফুল হ’য়ে,
	কাঁটা আছে আমার বুকে, ফুলে কাঁটা নাই গো।।

শুক বলে মোর গোঁফের রূপে ভোলে গোপনারী

বাণী

শুক বলে, ‘মোর গোঁফের রূপে ভোলে গোপনারী’
সারী বলে, ‘গোঁফের বড়াই আছে বলে দাড়ি
		(ও) আমার গোঁফ পিয়ারি।।’
শুক বলে, ‘মোর বাঁকা গোঁফে দেখে ভুবন ভোলে’
সারী বলে, ‘ঝুলন রাসের দোলনা যে দোলে
		(ও) আমার দাড়ির আশে।’
শুক বলে, ‘গোঁফ ওষ্ঠে থাকেন গোষ্ঠে যেন কালা’
সারী বলে, ‘আমার দাড়ি কুলের কুলবালা
		(ও) চলেন হেলে দুলে।’
শুক বলে, ‘বীর শিকারিরা এই গোঁফে দেয় চাড়া’
সারী বলে, ‘মুনি ঋষির দেখবে দাড়ি ন্যাড়া
		(ও) কিবা বাহার তোলে।’
শুক বলে, ‘মোর ত্রিভঙ্গিম ঠোঁট বিহারী গোঁফ’
সারী বলে, ‘তমাল কানন আমার দাঁড়ির ঝোপ
		(আ, ও) দখিন হাওয়ায় দোলে।’
শুক বলে, ‘গোঁফ খুরির দধি চুরি করে খায়’
সারী বলে, ‘দাড়ি মেদীর রং লেগেছে গায়
		(ও, আচ্ছাচ্ছা) যেন হোরির আবির।’
সারী বলে, ‘দাড়ি বড় গোঁফের গরব মিছে’
শুক বলে, ‘দাড়ি যতই বাড়ুক তবু গোঁফের নীচে
		(ও) সারী টিকবে বল’।।