আমার দেওয়া ব্যথা ভোলো

বাণী

আমার দেওয়া ব্যথা ভোলো।
আজ যে যাবার সময় হলো।।
নিব্‌বে যখন আমার বাতি 
আসবে তোমার নূতন সাথি, 
আমার কথা তা'রে বলো।।
ব্যথা দেওয়ার কী যে ব্যথা 
জানি আমি, জানে দেবতা।
জানিলে না কী অভিমান 
করেছে হায় আমায় পাষাণ, 
দাও যেতে দাও, দুয়ার খোলো।।

মোর বেদনার কারাগারে জাগো

বাণী

মোর  বেদনার কারাগারে জাগো, জাগো- বেদনাহারী হে মুরারি।
	অসীম দুঃখ ঘেরা কৃষ্ণা তিথিতে এসো এসো হে কৃষ্ণ গিরিধারী।।
	ব‍্যথিত এ চিত দেবকীর সম মূর্ছিত পাষাণেরি ভারে
	ডাকে প্রাণ-যাদব, এসো এসো মাধব উথলিছে প্রেম আঁখিবারি
		মুরারি উথলিছে প্রেম আঁখিবারি।।
	হৃদয়-ব্রজে মম ভক্তি প্রীতি জাগিয়া আছে আশায়,
কদম্ব ফুল সম উঠিছে শিহরি’ মম শ‍্যাম-বরষায়।
ওগো বনশীওয়ালা, তব না শোনা বাঁশি
	শোনে অনুরাগ রাধা প্রণয় পিয়াসি,
গোপন ধ‍্যানের মধুবনে তব নুপুর শুনি, হে কিশোর বনচারী।।

তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে

বাণী

স্ত্রী	:	তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে
		ওগো অচেনা বিদেশি নেয়ে॥
পুরুষ	:	যেতে এই পথে তরী বেয়ে
		দেখি নদীর ধারে তোমায় বারে বারে
		সজল কাজল বরণী মেয়ে॥
স্ত্রী	:	তোমার তরণীর আসার আশায়
		বসে থাকি কূলে কলস ভেসে যায়।
পুরুষ	:	তুমি পরো যে শাড়ি ভিন গাঁয়ের নারী
		আমি নাও বেয়ে যাই তারি সারি গান গেয়ে।
স্ত্রী	:	গাগরির গলায় মালা জড়ায়ে
		দিই তোমার তরে বঁধু স্রোতে ভাসায়ে॥
পুরুষ	:	সেই মালা চাহি’, নিতি এই পথে গো
		আমি তরী বাহি।
উভয়ে	:	মোরা এক তরীতে একই নদীর স্রোতে
		যাব অকূলে ধেয়ে॥

জাগো যুবতী আসে যুবরাজ

বাণী

জাগো যুবতী! আসে যুবরাজ।
অশোক-রাঙা বসনে সাজ।।
আসন-পাতা-বনে অঞ্চল আধো
বন্দনা-গীতি-ভাষা বাধো বাধো,
		কপোলে লাজ।।
উছলি’ ওঠে যৌবন আকুল তরঙ্গে,
খেলিছে অনঙ্গ নয়নে, বুকে, অঙ্গে আকুল তরঙ্গে।
আগমনী-ছন্দ মেঘ-মৃদঙ্গে
ভবন-শিখী গাহে বন-কুহু সঙ্গে,
বাজো হৃদি-অঙ্গনে বাঁশরি বাজো।।

নাটক : ‘আলেয়া’ (কাকলি ও বন্দিনীগণের গান)

কত নিদ্রা যাও রে কন্যা

বাণী

কত নিদ্রা যাও রে কন্যা		জাগো একটু খানি
যাবার বেলায় শুনিয়া যাই		তোমার মুখের বাণী।।
নিশীথিনীর ঘুম ভেঙে যায়	চন্দ্র যখন হেসে তাকায় গো
চাতাকিনী ঘুমায় কি গো		দেখলে মেঘের পানি।।
ফুলের কুঁড়ি চোখ মেলে চায়	যেই না ভ্রমর বোলে (রে কন্যা)
বসন্ত আসিলে রে কন্যা		বনের লতা দোলে (রে কন্যা)
যারা আছে প্রাণে প্রাণে		জাগে তারা ঘুম না জানে
আমি যখন রইব না গো		(তখন) জাগবে তুমি জানি।।

শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়

বাণী

শূন্য এ–বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয় ফিরে আয়!
তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল অকালে ঝরিয়া যায়।।
		তুই নাই ব’লে ওরে উন্মাদ
		পান্ডুর হ’ল আকাশের চাঁদ,
কেঁদে নদী–জল করুণ বিষাদ ডাকে: ‘আয় ফিরে আয়’।।
		গগনে মেলিয়া শত শত কর
		খোঁজে তোরে তরু, ওরে সুন্দর!
তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড় লুটায় লতা ধূলায়!
		তুই ফিরে এলে, ওরে চঞ্চল
		আবার ফুটিবে বন ফুল–দল
ধূসর আকাশ হইবে সুনীল তোর চোখের চাওয়ায়।।