সুন্দর অতিথি এসো এসো কুসুম-ঝরা বনপথে

বাণী

সুন্দর অতিথি এসো, এসো, কুসুম-ঝরা বনপথে,
তোমার আশায় মুকুলগুলি চেয়ে আছে প্রভাত হ'তে।।
	তোমার আসার অনুরাগে
	পাতায় পাতায় শিহর লাগে
কণ্ঠে কুহুর কুজন জাগে ভাসলো আকাশ আলোর স্রোতে।।
চলতে যদি বেদনা পায় তব কোমল চরণ-কমল
বন-বীথিকার পথ-ধূলি ঝরা পল্লব পাপড়ি-দল।
	পেয়ে আজি আসার আভাস
	উতল হ'ল মন্দ বাতাস
চেয়ে আছে উদাসী আকাশ আসবে কবে সোনার রথে।।

বিরহী বেণুকা যেন বাজে সখি ছায়ানটে

বাণী

বিরহী বেণুকা যেন বাজে সখি ছায়ানটে।
উথলি’ উঠিল বারি শীর্ণা যমুনাতটে।।
	নীরব কুঞ্জে কুহু
	গেয়ে ওঠে মুহু মুহু,
আঁধার মধু বনে বকুল চম্পা ফোটে।।
সহসা সরস হল বিরস বৃন্দাবন,
চন্দ্রা যামিনী হাসে খুলি মেঘ-গুণ্ঠন।
	সে এলো, তারে নিরখি’
	পরান কি রবে সখি,
আবেশে অঙ্গ মম থরথর কেঁপে ওঠে।।

বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ

বাণী

বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ বন্ধনে কাঁদিছে শ্যাম রাই।
মিলনের মাঝে এত বেদনা যে বাজে গো – দেখি নাই, শুনি নাই।।
সাগরে মিশে নদী, তবু কাঁদে নিরবধি, বুঝি না কেন গো –
বুকে যত পায়, তত তৃষ্ণা বেড়ে যায়, সাধ মেটে না যেন গো।।
সাধ কি মেটে গো চাঁদকে হেরে চকোরিণীর সাধ কি মেটে গো –
মেঘ দেখে চাতকিনীর সাধ কি মেটে গো।
হের, নব নাগরি নব নাগর মাতিল প্রেম-রসে,
নব প্রভাত-কমলে যেন বন ভ্রমর বসে।
নব সোনার শতদলে যেন নব মেঘের ছায়া
কনকমালা ঘিরিল যেন বন নীল গিরি কায়া।
গিরিধারীরে ধরিল, ধিরিধিরি রাধা গিরিধারীরে ধরিল।।
আধ অধরে ধরে নাক’ হাসি, আধ-অধরে বাঁশি,
হেরি’ আধ অঙ্গ দাস হতে চায়, আধ অঙ্গ দাসী;
শ্রীচরণ ঘিরিয়া মন মধুকর গাহে, চরণাম্বুজ-রজ মাধুকরী চাহে।।
বলে, ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও –
ওই চরণ কমল-মধু ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও,
ঐ যুগল-রূপ রাধা-শ্যাম দেখি যেন অবিরাম (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
আমি আনন্দ-যমুনা হয়ে, চরণ ধুয়ে যাব বয়ে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
আমি নিত্য হৃদি-ব্রজধামে
হেরিব মোর রাধা-শ্যামে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)।।

বেতার গীতিচিত্রঃ ‌‘যুগল মিলন’

এলো বরষা শ্যাম সরসা প্রিয়-দরশা

বাণী

এলো বরষা শ্যাম সরসা প্রিয়-দরশা।।
দাদুরি পাপিয়া চাতকী বোলে নব জলধারা-হরষা।।
	নাচে বন-কুন্তলা যামিনী উতলা
	খুলে পড়ে গগনে দামিনী মেখলা,
চলে যেতে ঢ’লে পড়ে অভিসারে চপল যৌবন-মদ অলসা।।
	একা কেতকী বনে কেকা কুহরে,
	বহে পূব-হাওয়া কদম্ব শিহরে।
	দুরন্ত ঝড়ে কোন্ অশান্ত চাহি রে
	ঘরে নাহি রহে মন, যেতে চায় বাহিরে,
যত ভয় জাগে তত সুন্দর লাগে শ্রাবণ-ঘন-তমসা।।

ওরে ডেকে দে দে লো

বাণী

ওরে ডেকে দে, দে লো মহুয়া বনে ফুল ফোটাতো বাজিয়ে বাঁশি কে।
বনের হরিণ নাচাতো, পাখিকে গান গাওয়াতো
			ঢেউ ওঠাতো ঝর্ণা জলে পাহাড়তলিতে।।
তার গানের কথা জানিয়ে দিত ফুলের মধুকে
তার সুরের নেশা করতো ব্যাকুল মনের বঁধুকে,
বুকের মাঝে বাজতো নূপুর চপল হাসিতে।।
আঁধার রাতে ফোটাত সে হলুদ গাঁদার ফুল,
সে বন কাঁদাতো মন কাঁদাতো, কাজ করাতো ভুল।
আর সে বাঁশি শুনি না, ধোঁয়ার ছলে কাঁদি না,
রাঙা শাড়ি পরি না, নোটন খোঁপা বাঁধি না —
আমি রইতে নারি না হেরে সেই বন উদাসী কে গো।।

কোথা চাঁদ আমার

বাণী

		কোথা চাঁদ আমার!
		নিখিল ভুবন মোর ঘিরিল আঁধার।।
ওগো		বন্ধু আমার, হ’তে কুসুম যদি,
		রাখিতাম কেশে তুলি’ নিরবধি।
		রাখিতাম বুকে চাপি’ হ’তে যদি হার।।
আমার		উদয়-তারার শাড়ি ছিঁড়েছে কবে,
		কামরাঙা শাঁখা আর হাতে কি রবে।
		ফিরে এসো, খোলা আজো দখিন-দুয়ার।।