শোন্ ও-সন্ধ্যা-মালতী বালিকা তপতী

বাণী

শোন্ 	ও-সন্ধ্যা-মালতী, বালিকা তপতী
	বেলা শেষের বাঁশি বাজে, বাজে।
	শোনো মাধবী চাঁদের মধুর মিনতি
	উদাস আকাশ মাঝে।।
তব	মৌন ব্রত ভাঙ্গো কও কথা কও
মোর	নৃত্য আরতির সঙ্গিনী হও,
	মাধবী হেনা হের এলো বাহিরে —
	রসরাজে হেরি’ রাস-নৃত্যের সাজে।।
তুমি	যার লাগি’ সারাদিন, বিরহ ধ্যান-লীন একাকিনী কুঞ্জে।
	সুন্দর দাঁড়ায়ে তব দ্বারে আঁধারে
	মঞ্জরি-দীপ জ্বালো ডাকো তারে,
	বুকের চন্দন-সুরভি ঢালো —
	পাতার আঁচলে মুখ ঢেকো না লাজে।।

পরদেশি বঁধুয়া এলে কি এতদিনে

বাণী

পরদেশি বঁধুয়া, এলে কি এতদিনে
আসিলে এতদিন কেমনে পথ চিনে।।
তোমারে খুঁজিয়া কত রবি-শশী
অন্ধ হইল প্রিয় নিভিল তিমিরে
তব আশে আকাশ-তারা দ্বীপ জ্বালি'
জাগিয়াছে নিশি ঝুরিয়া শিশিরে।
শুকায়েছে স্বরগ দেবতা তোমা বিনে।।
কত জনম ধরি' ছিলে বল পাসরি'
এতদিনে বাঁশরি বাজিল কি বিপিনে।।

জয় হরপ্রিয়া শিবরঞ্জনী

বাণী

জয় হরপ্রিয়া শিবরঞ্জনী।
শিব-জটা হতে সুরধুনী স্রোতে ঝরি’ শতধারে ভাসাও অবনি।
দিবা দ্বিপ্রহরে প্রথম বেলা কাফি-সিন্ধুর তীরে কর খেলা
দীপ্ত নিদাঘে সারঙ্গ রাগে অগ্নি ছড়ায় তব জটাব ফণী॥
কভু ধানশ্রীতে মায়া রূপ ধর,
জ্ঞানী শিবের তেজ কোমল কর
পিলু বারোঁয়ার বিষাদ ভোলানো
নূপুরের চটুল ছন্দ আনো
বাগীশ্বরী হ’য়ে মহিমা শান্তি ল’য়ে
আসো গভীর যবে হয় রজনী॥
বরষার মল্লারে মেঘে তুমি আসো,
অশনিতে চমকাও, বিদ্যুতে হাসো
সপ্ত সুরের রঙে সুরঞ্জিতা ইন্দ্রধনু-বরণী॥

চঞ্চল মলয় হাওয়া শোন

বাণী

চঞ্চল মলয় হাওয়া শোন শোন মিনতি।
গুণ্ঠন খুলো না মোর, আমি নব যুবতী।।
অঙ্গে জাগেনি যার আজিও অনঙ্গ
অসময়ে কেন তার কর রস ভঙ্গ,
লুকায় মুকুল হের পাতার আঁচলে
ভোমরার ভয়ে ভীরু বন-মালতী।।

নাটক : ‘অন্নপূর্ণা’

আজ বাদল ঝরে মোর একেলা ঘরে

বাণী

আজ		বাদল ঝরে		মোর		একেলা ঘরে।
হায়		কী মনে পড়ে	মন		এমন করে।।
আজ		এমন দিনে		কোন্ 		নীড়হারা পাখি
যাও		কাঁদিয়া কোথায়	কোন্ 		সাথীরে ডাকি’।
তোর		ভেঙেছে পাখা	কোন্ 		আকুল ঝড়ে।।
আয়		ঝড়ের পাখি		আয়		আমার এ বুকে
আয়		দিব রে আশয়	মোর		গহন-দুখে।
আয়		বাঁধিব বাসা		আজ		নূতন ক’রে।।

পাষাণের ভাঙালে ঘুম

বাণী

	পাষাণের ভাঙালে ঘুম			কে তুমি সোনার ছোঁয়ায়,
	গলিয়া সুরের তুষার			গীতি –নির্ঝর ব’য়ে যায়।।
	উদাসী বিবাগী মন			যাচে আজ বাহুর বাঁধন,
	কত জনমের কাঁদন			ও –পায়ে লুটাতে চায়।।
ওগো	তোমার চরণ ছন্দে মোর		মুঞ্জরিল গানের মুকুল
	তোমার বেণীর বন্ধে গো		মরিতে চায় সুরের বকুল
	চম্‌কে ওঠে মোর গগন		ঐ হরিণ–চোখের চাওয়ায়।।