মোরা আর জনমে হংস-মিথুন ছিলাম

বাণী

মোরা আর জনমে হংস–মিথুন ছিলাম নদীর চরে
যুগলরূপে এসেছি গো আবার মাটির ঘরে।।
তমাল তরু চাঁপা–লতার মত
জড়িয়ে কত জনম হ’ল গত,
সেই বাঁধনের চিহ্ন আজো জাগে হিয়ার থরে থরে।।
বাহুর ডোরে বেঁধে আজো ঘুমের ঘোরে যেন
ঝড়ের বন–লতার মত লুটিয়ে কাঁদ কেন।
বনের কপোত কপোতাক্ষীর তীরে
পাখায় পাখায় বাঁধা ছিলাম নীড়ে
চিরতরে হ’ল ছাড়াছাড়ি নিঠুর ব্যাধের শরে।।

আদরিণী মোর কালো মেয়ে

বাণী

	আদরিণী মোর কালো মেয়ে রে কেমনে কোথায় রাখি।
তারে	রাখিলে চোখে বাজে ব্যথা বুকে বুকে রাখিলে দুখে ঝুরে আঁখি।।
	কাঙাল যেমন পাইলে রতন লুকাতে ঠাঁই নাহি পায়;
	তেমনি আমার শ্যামা মেয়েরে জানি না রাখিব কোথায়।
			দুরন্ত মোর এই মেয়েরে
			বাঁধব আমি কি দিয়ে রে,
(তাই)পালিয়ে যেতে চায় সে যবে আমি অমনি মা ব’লে ডাকি।।

তুই কালি মেখে জ্যোতি ঢেকে

বাণী

তুই কালি মেখে জ্যোতি ঢেকে পারবি না মা ফাঁকি দিতে।
ঐ অসীম আঁধার হয় যে উজল মা, তোর ঈষৎ চাহনিতে।।
		মায়ের কালি মাখা কোলে
		শিশু কি মা, যেতে ভোলে?
আমি দেখেছি যে, বিপুল স্নেহের সাগর দোলে তোর আঁখিতে।।
কেন আমায় দেখাস মা ভয় খড়গ নিয়ে, মুন্ডু নিয়ে?
আমি কি তোর সেই সন্তান ভুলাবি মা ভয় দেখিয়ে।
		তোর সংসার কাজে শ্যামা,
		বাধা আমি হব না মা,
মায়ার বাঁধন খুলে দে মা ব্রহ্মময়ী রূপ দেখিতে।।

দিও ফুলদল বিছায়ে পথে

বাণী

দিও ফুলদল বিছায়ে পথে বঁধুর আমার।
পায়ে পায়ে দলি’ ঝরা সে-ফুলদল আজি তার অভিসার।।
	আমার আকুল অশ্রুবারি দিয়ে
	চরণ দিও তার ধোয়ায়ে,
মম পরান পুড়ায়ে জ্বেলো দীপালি তাহার।।

বকুল তলে ব্যাকুল বাঁশি কে বাজায়

বাণী

বকুল তলে ব্যাকুল বাঁশি কে বাজায়
যে বাঁশরি শুনে কিশোরী সহসা যেন গো যৌবন পায়॥
রয় না মন ঘরে সেই বাঁশির সুরে
	দূরে ভেসে যেতে চায়
পরান ঘুরে মরে তাহার রাঙা পায়॥
তারি নূপুর শুনি নিশিদিনই প্রাণে মোর
নিশীথ রাতে আসে পাশে বসে মনোচোর।
তারে কি মালা দিব অশ্রু-মুক্তা গাঁথা
বিছাবো পথে কি তার মরা ফুল ঝরা পাতা
	প্রাণের দীপালি জ্বালি তারি আশায়॥

অম্বরে মেঘ-মৃদঙ বাজে

বাণী

অম্বরে মেঘ-মৃদঙ বাজে জলদ-তালে
লাগিল মাতন ঝড়ের নাচন ডালে ডালে।।
	দিগন্তের ঐ দুর্গ-মূলে
	ধূলি-গৈরিক কেতন দুলে
কে দুরন্ত আগল খুলে ঘুম ভাঙালে।।
থির সাগরের নীল তরঙ্গে আনন্দেরি
সেই নাচনের তালে তালে বাজিল ভেরি।
	মাভৈঃ মাভৈঃ ডাক শুনি যার
	পথ ছেড়ে দে রথ এল তাঁর।
দুর্দিনে সে বজ্র-শিখার আগুন জ্বালে।।