আঁধারের এলোকেশ ছড়িয়ে এলে

বাণী

আঁধারের এলোকেশ ছড়িয়ে এলে
			তুমি ধূসর সন্ধ্যা।
তোমারে অর্ঘ্য দিতে বনে ফুটিল কি তাই
			রজনীগন্ধা?
গোধূলির রং সম তব মুখ, হায়!
তরুণ হাসি কেন চকিতে মিলায়?
সহসা মহুয়া বনে চঞ্চল বায়
			হ’ল নিথর সুমন্দা।।
বিষাদ-গভীর তব নয়ন যেন নিশীথের সিন্ধু;
মুদিত কমলের দলিত দলে তুমি শিশিরের বিন্দু।
তুমি সকরুণ প্রার্থনা বেলাশেষের,
পথ-হারা পাখি তুমি দূর বিদেশের,
স্নিগ্ধ-স্রোত তুমি দূর অমরার অলকানন্দা।।

শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চির–নির্মল

বাণী

শুভ্র সমুজ্জ্বল, হে চির–নির্মল শান্ত অচঞ্চল ধ্রুব–জ্যোতি
অশান্ত এ চিত কর হে সমাহিত সদা আনন্দিত রাখো মতি।।
দুঃখ–শোক সহি অসীম সাহসে
অটল রহি যেন সম্মানে যশে
তোমার ধ্যানের আনন্দ–রসে
	নিমগ্ন রহি হে বিশ্বপতি।।
মন যেন না টলে খল কোলাহলে, হে রাজ–রাজ!
অন্তরে তুমি নাথ সতত বিরাজ, হে রাজ–রাজ!
বহে তব ত্রিলোক ব্যাপিয়া, হে গুণী,
ওঙ্কার–সংগীত–সুর–সুরধুনী,
হে মহামৌনী, যেন সদা শুনি
	সে সুরে তোমার নীরব আরতি।।

একি অসীম পিয়াসা

বাণী

একি অসীম পিয়াসা
শত জনম গেল তবু মিটিল না
	তোমারে পাওয়ার আশা।।
সাগর চাহিয়া চাঁদে চির জনম কাঁদে
তেমনি যত নাহি পায় তোমা পানে ধায়
		অসীম ভালোবাসা।।
তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন
সেই জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন
তোমার স্মৃতি তার মরণের সাথি হয়
	মেটে না প্রেমের পিয়াসা।।

কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর

বাণী

		কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর, কেহ বলে তুমি জ্যোতি!
		আমি জানি প্রভু তুমি যে আমার চির-জনমের পতি।।
			কেহ বলে তুমি চিরদিন দূরে রহ
			কেহ বলে, আছে অন্তরে অহরহ,
যার		যাহা সাধ ডাকে সেই নামে (প্রভু) তোমার নাহিক ক্ষতি।।
		অন্ধ দেখে না চন্দ্র-সূর্য তবু জানে আলো আছে,
(আমি) 	দেখিনি, তবুও তোমার প্রকাশ সহজ-আমার কাছে
			রূপ কি অরূপ কাহারেও নাহি দুষি,
			নাই দেখি ফুল সুরভি পেয়েই খুশি,
(আমি)		অঞ্জলি ভরি’ অমৃত চাই, পাত্রে নাহিক মতি।।

মহাকালের কোলে এসে

বাণী

	মহাকালের কোলে এসে গৌরী হ’ল মহাকালী,
	শ্মশান–চিতার ভস্ম মেখে ম্লান হ’ল মার রূপের ডালি।।
		তবু মায়ের রূপ কি হারায়
	সে যেছড়িয়ে আছে চন্দ্র তারায়,
	মায়ের রূপের আরতি হয় নিত্য সূর্য–প্রদীপ জ্বালি’ ।।
	উমা হ’ল ভৈরবী হায় বরণ ক’রে ভৈরবেরে,
হেরি’	শিবের শিরে জাহ্নবী রে শ্মশানে মশানে ফেরে।
		অন্ন দিয়ে ত্রি–জগতে
		অন্নদা মোর বেড়ায় পথে,
	ভিক্ষু শিবের অনুরাগে ভিক্ষা মাগে রাজদুলালী।।

আজি বাদল বঁধূ এলো শ্রাবণ-সাঁঝে

বাণী

আজি বাদল বঁধূ এলো শ্রাবণ-সাঁঝে —
নীপের দীপ ঢাকি’ আঁচল ভাঁজে।।
	জ্বালি’ হেনার ধুনা
	যাচি’ কার করুণা
বন-তুলসী তলে এলে পূজারিণী সাজে।।
সেদিন এমনি সাঁঝে মোর বেদীর মূলে
প্রিয়া জ্বালিলে এ দীপ, তাহা গেছ কি ভুলে?
	সেই সন্ধ্যা-স্মৃতি
	সে যে করুণ গীতি,
দূরে দাদুরি আনে বহি’ মরম মাঝে।।