হে পার্থসারথি বাজাও বাজাও

বাণী

হে পার্থসারথি! বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ
চিত্তের অবসাদ দূর কর কর দূর
	ভয়–ভীত জনে কর হে নিঃশঙ্ক।।
ধনুকে টঙ্কার হানো হানো,
গীতার মন্ত্রে জীবন দানো;
	ভোলাও ভোলাও মৃত্যু–আতঙ্ক।।
মৃত্যু জীবনের শেষ নহে নহে —
শোনাও শোনাও — অনন্ত কাল ধরি’
অনন্ত জীবন প্রবাহ বহে।
দুর্মদ দুরন্ত যৌবন–চঞ্চল
ছাড়িয়া আসুক মা’র স্নেহ–অঞ্চল;
বীর সন্তানদল করুক সুশোভিত মাতৃ–অঙ্ক।।

দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী

বাণী

দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী।
শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে শ্মশান মাঝে শিব-দুলালী॥
	আজ শান্ত সিন্ধু তীরে
	অশান্ত ঝড় থেমেছে রে,
মা’র কালো রূপ উপ্‌চে পড়ে ছাপিয়ে ভুবন গগন-ডালি॥
আজ অভয়ার ওষ্ঠে জাগে শুভ্র করুণ শান্ত হাসি,
আনন্দে তাই বসন ফেলি’ মহেন্দ্র ঐ বাজায়-বাঁশি,
	ঘুমিয়ে আছে বিশ্ব ভুবন
	মায়ের কোলে শিশুর মতন,
পায়ের লোভে মনের বনে ফুল ফুটেছে পাঁচমিশালি॥

যেদিন রোজ হাশরে করতে বিচার

বাণী

যেদিন		রোজ হাশরে করতে বিচার তুমি হবে কাজী
		সেদিন তোমার দিদার আমি পাব কি আল্লাজী।।
		সেদিন নাকি তোমার ভীষণ কাহ্‌হার রূপ দেখে
		পীর পয়গম্বর কাঁদবে ভয়ে ‘ইয়া নফসী’ ডেকে;
		সেই সুদিনের আশায় আমি নাচি এখন থেকে।
আমি		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজী।
আল্লাহ 		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজি।।
		যেরূপে হোক বারেক যদি দেখে তোমায় কেহ
		দোজখ্‌ কি আর ছুঁতে পারে পবিত্র তাঁর দেহ।
সে 		হোক না কেন হাজার পাপী হোক না বে-নামাজী।।
		ইয়া আল্লাহ, তোমার দয়া কত তাই দেখাবে ব’লে
		রোজ-হাশরে দেখা দেবে বিচার করার ছলে, —
		প্রেমিক বিনে কে বুঝিবে তোমার এ কারসাজি।।

কে তুমি দূরের সাথি

বাণী

কে তুমি দূরের সাথি
		এলে ফুল ঝরার বেলায়।
বিদায়ের বংশী বাজে
		ভাঙা মোর প্রাণের মেলায়॥
গোধূলির মায়ায় ভুলে
এলে হায় সন্ধ্যা-কূলে,
দীপহীন মোর দেউলে
		এলে কোন্‌ আলোর খেলায়॥
সেদিনো প্রভাতে মোর 
		বেজেছে আশাবরি,
পূরবীর কান্না শুনি
		আজি মোর শূন্য ভরি।
অবেলায় কুঞ্জবীথি
এলে মোর শেষ অতিথি,
ঝরা ফুল শেষের গীতি
		দিনু দান তোমার গলায়॥

নিখিল ঘুমে অচেতন সহসা শুনিনু আজান

বাণী

নিখিল ঘুমে অচেতন সহসা শুনিনু আজান
শুনি’ সে তকবিরের ধ্বনি আকুল হল মন-প্রাণ
বাহিরে হেরিনু আসি বেহেশতী রৌশনীতে রে
ছেয়েছে জমিন ও আসমান
আনন্দে গাহিয়া ফেরে ফেরেশ্‌তা হুর গেলেমান —
এলো কে, কে এলো ভুলোকে! দুনিয়া দুলিয়া উঠিল পুলকে।।
তাপীর বন্ধু, পাপীর ত্রাতা, ভয়-ভীত পীড়িতের শরণ-দাতা
মুকের ভাষা নিরাশার আশা, ব্যথার শান্তি, সান্ত্বনা শোকে
এলো কে ভোরের আলোকে।।
দরুদ পড় সবে : সাল্লে আলা, মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
কেহ বলে, এলো মোর কম্‌লিওয়ালা — খোদার হাবীব কেহ কয় নিরালা
মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
কেহ বলে, আহমদ নাম মধু ঢালা — মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
মজনুঁরও চেয়ে হল দীওয়ানা সবে, নাচে গায় নামের নেশায় ঝোঁকে।।

নতুন চাঁদের তক্‌বীর শোন্‌

বাণী

নতুন চাঁদের তক্‌বীর শোন্‌ কয় ডেকে ঐ মুয়াজ্জিন —
আসমানে ফের ঈদুজ্জোহার চাঁদ উঠেছে মুসলেমিন।।
এলো স্মরণ করিয়ে দিতে ঈদুজ্জোহার এই সে চাঁদ,
তোরা ভোগের পাত্র ফেল্‌ রে ছুঁড়ে ত্যাগের তরে হৃদয় বাঁধ।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।।
প্রাণের যা তোর প্রিয়তম আজকে সে সব আন্‌,
খোদারই রাহে আজ তাহাদের কর রে কোরবান্‌।
কি হবে ঐ বনের পশু খোদারে দিয়ে,
তোর কাম-ক্রোধাদি মনের পশু জবেহ্‌ কর্‌ নিয়ে।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।।
বিলিয়ে দেওয়ার খুশির শিরনি তশ্‌তরিতে আন,
পর্‌ রে তোরা সবাই ত্যাগের রঙিন পিরহান্‌।
মোদের যা কিছু প্রিয় বিলাব সবে
নবীর উম্মত তবে সকলে কবে।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।।