ভুলে যেয়ো ভুলে যেয়ো

বাণী

	ভুলে যেয়ো, ভুলে যেয়ো সেদিন যদি পড়ে আমায় মনে
যবে	চৈতী বাতাস উদাস হয়ে ফিরবে বকুল বনে।।
		তোমার মুখের জোছনা নিয়ে
		উঠবে যে চাঁদ ঝিলমিলিয়ে,
	হেনার সুবাস ফেলবে নিশাস তোমার বাতায়নে।।
		শুনবে যেন অনেক দূরে
		ক্লান্ত বাঁশির করুন সুরে —
	বিদায় নেওয়া কোন বিরহীর কানে কাঁদে নিরজনে।।

ভবনে আসিল অতিথি সুদূর

বাণী

ভবনে আসিল অতিথি সুদূর।
সহসা উঠিল বাজি রুমু রুমু ঝুম
	নীরব অঙ্গনে চঞ্চল নূপুর।।
মুহু-মুহু বন-কুহু বোলে
দোয়েল ধ্যান ভুলি চমকি আঁখি খোলে
	কে গো কে বলে বন-ময়ূর।।
দগ্ধ হিয়ার জ্বালা জুড়ায়ে
সজল মেঘের শীতল চন্দন কে দিল বুলায়ে?
বকুল কেয়া বীথি হ'তে
ছুটে এলো সমীরণ চঞ্চল স্রোতে
চাঁদিনী নিশীথের আবেশ আনে
	মিলন তন্দ্রাতুর অলস-দুপুর।।

বিশ্ব ব্যাপিয়া আছ তুমি জেনে

বাণী

বিশ্ব ব্যাপিয়া আছ তুমি জেনে শান্তি ত’ নাহি পাই।
রূপ ধরে এসো, দাঁড়াও সুমুখে, দেখিয়া আঁখি জুড়াই॥
	আমার মাঝারে যদি তুমি রহ
	কেন তবে এই অসীম বিরহ
কেন বুকে বাজে নিবিড় বেদনা মনে হয় তুমি নাই॥
চাঁদের আলোকে ভরে না গো মন, দেখিতে চাই যে চাঁদ,
ফুলর গন্ধ পাইলে, জাগে যে ফুল দেখিবার সাধ।
	(ওগো) সুন্দর, যদি নাহি দেবে ধরা
	কেন প্রেম দিলে বেদনায় ভরা
রূপের লাগিয়া কেন প্রাণ কাঁদে রূপ যদি তব নাই॥

মাধবী-তলে চল মাধবিকা-দল

বাণী

মাধবী-তলে চল মাধবিকা-দল
		আইল সুখ-মধুমাস।
বহিছে খরতর থরথর মরমর
		উদাস চৈতী-বাতাস।।
পিককুল কলকর অবিরল ভাষে,
মদালস মধুপ পুষ্পল বাসে।
		বেণু-বনে উঠিছে নিশাস।।
তরুণ নয়ন সম আকাশ আনীল,
তট-তরু-ছায়া ধরে নীর নিরাবিল
		বুকে বুকে স্বপন-বিলাস।।

মুক্তি আমায় দিলে হে নাথ মোর যে প্রিয়

বাণী

মুক্তি আমায় দিলে হে নাথ মোর যে প্রিয় তারে নিয়ে।
আমি কিছু রাখতে নারি দেখ্‌লে বারে বারে দিয়ে॥
	যত্ন আদর পায়নি হেথা
	স’য়ে গেল শত ব্যথা।
তোমার দান সইলো না মোর গেল বুঝি তাই হারিয়ে॥
তোমার প্রিয় এসেছিল অতীত হয়ে আমার দ্বারে,
ফিরে গেল অভিমানে বুঝি আমার অনাদরে।
	যে ছিল নাথ মোর প্রাণাধিক
	সে যে তোমার বুকের মানিক
(প্রভু) এবার সে আর হারাবে না বাঁচ্‌ল তোমার কাছে গিয়ে॥

রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে

বাণী

রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে
ফিরায়ে দিয়াছি যারে অনাদরে অকারণে।
উদাসী অলস দুপুরে
মন উড়ে' যেতে চায় সুদূরে
যে বন-পথে সে ভিখারির বেশে
করুণা জাগায়ে ছিল সকরুণ নয়নে।।
তার বুকে ছিল তৃষ্ণা মোর ঘটে ছিল বারি
পিয়াসি ফটিকজল জল পাইল না গো
ঢলিয়া পড়িল হায় জলদ নেহারি।
তার অহ্জলির ফুল পথ-ধূলিতে
ছড়ায়েছি-সেই ব্যথা নারি ভুলিতে
অন্তরালে যারে রাখিনু চিরদিন
অন্তর জুড়িয়া কেন কাঁদে সে গোপনে।।