আমি যার নূপুরের ছন্দ

বাণী

আমি যার নূপুরের ছন্দ বেণুকার সুর - 
কে সেই সুন্দর কে! 
আমি যার বিলাস-যমুনা বিরহ-বিধুর 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যাহার গানের আমি বনমালা 
আমি যার কথার কুসুম-ডালা, 
না-দেখা সুদূর - 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যার শিখী-পাখা লেখনী হয়ে 
গোপনে মোরে কবিতা লেখায় 
সে রহে কোথায় হায়! 
আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা 
নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-রেখা, 
যে মম অঙ্গে কাঁকন-কেয়ূর 
কে সেই সুন্দর কে।। 

মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর

বাণী

মোর		ঘুমঘোরে এলে মনোহর নমো নম, নমো নম, নমো নম।
		শ্রাবণ-মেঘে নাচে নটবর রমঝম, রমঝম, ঝমরম
			(ঝমঝম, রমঝম, রমঝম)।।
শিয়রে		বসি চুপি চুপি চুমিলে নয়ন
মোর		বিকশিল আবেশে তনু নীপ-সম, নিরুপম, মনোরম।।
মোর		ফুলবনে ছিল যত ফুল
			ভরি ডালি দিনু ঢালি’ দেবতা মোর
হায়		নিলে না সে ফুল, ছি ছি বেভুল,
			নিলে তুলি’ খোঁপা খুলি’ কুসুম-ডোর।
স্বপনে		কী যে কয়েছি তাই গিয়াছ চলি’
জাগিয়া	কেঁদে ডাকি দেবতায় প্রিয়তম, প্রিয়তম, প্রিয়তম।।

মধুর রসে উঠ্‌ল ভ’রে মোর বিরহের দিনগুলি

বাণী

মধুর রসে উঠ্‌ল ভ’রে মোর বিরহের দিনগুলি।
হেলায় খেলায় দিবস ফুরায় অতীত স্মৃতির ফুল তুলি’।।
	ক্ষণেকের তরে পেয়েছিনু কাছে
	সেই আনন্দে প্রাণ ভ’রে আছে,
আমার মনের চাঁপা গাছে গাহিছে গানের বুলবুলি।।
পাইনে ব’লে নিত্য জাগে পরানে পাওয়ার আশা,
বাসি হ’ল নাকো মোর ফুলহার আমার এ ভালোবাসা।

১. গানটি মূল পান্ডুলিপিতে এ পর্যন্তই আছে।

নাম মোহাম্মদ বোল রে মন

বাণী

নাম মোহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল।
যে নাম নিয়ে চাঁদ-সেতারা আস্‌মানে খায় দোল।।
	পাতায় ফুলে যে নাম আঁকা
	ত্রিভুবনে যে নাম মাখা,
যে নাম নিতে হাসিন ঊষার রাঙে রে কপোল।।
	যে নাম গেয়ে ধায় রে নদী,
	যে নাম সদা গায় জলধি,
যে নাম বহে নিরবধি পবন হিল্লোল।।
	যে নাম রাজে মরু-সাহারায়,
	যে নাম বাজে শ্রাবণ-ধারায়,
যে নাম চাহে কাবার মসজিদ — মা আমিনার কোল।।

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল

বাণী

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, প্রেমের লহর তোল
	রে মন মায়ার বন্ধন খোল।।
নিরালা হৃদয়-যমুনাতে কে বাজায় বাঁশি আধেক রাতে
তুই কুল ভুলে চল তাহারি সাথে প্রেম-আনন্দে দোল।
	ও তুই প্রেম-আনন্দে দোল।।
সে গোলক হাতে ভালবাসে গোকুল বৃন্দাবন
মধুর প্রেমের-ভিখারি সে মদন মোহন।
প্রেম দিয়ে যে বাঁধতে পারে, সাধ কবে তার কাছে হারে
মুনি-ঋষি পায় না তারে গোপীরা পায় কোল।
	ও তার গোপীরা পায় কোল।।

গত রজনীর কথা পড়ে মনে

বাণী

গত রজনীর কথা পড়ে মনে রজনীগন্ধার মদির গন্ধে।
এই সে ফুলেরই মোহন-মালিকা জড়ায়ে ছিল সে কবরী-বন্ধে।।
বাহুর বল্লরী জড়ায়ে তার গলে
আধেক আঁচলে বসেছি তরুতলে,
		দুলেছে হৃদয় ব্যাকুল ছন্দে।।
মুখরা ‘বউ কথা কও’ ডেকেছে বকুল-ডালে,
লাজে ফুটেছে লালী গোলাপ-কুঁড়ির গালে।
কপোলের কলঙ্ক মোর মেটেনি আজো যে সই
জাগিছে তা’রি স্মৃতি চাঁদের কপোলে ঐ,
		কাঁদিছে নন্দন আজি নিরানন্দে।।

১. হাসিছে নন্দন আমি পরমানন্দে।।