বাণী
উত্তরীয় লুটায় আমার ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়। আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥ ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে আমার রবি-ফসল দুলে, নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥
হৈমন্তী
রাগ ও তাল
রাগঃ
তালঃ তেওড়া
উত্তরীয় লুটায় আমার ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়। আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥ ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে আমার রবি-ফসল দুলে, নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥
হৈমন্তী
রাগঃ
তালঃ তেওড়া
ওমা ফিরে এলে কানাই মোদের এবার ছেড়ে দিস্নে তায়। তোর সাথে সব রাখাল মিলে বাঁধ্ব সে-ননী চোরায়।। তা’রে তুই যখন মা রাখতিস্ বেঁধে ছাড়ায়েছি কেঁদে কেঁদে’, তখন জান্তো কে, যে খুললে বাঁধন পালিয়ে যাবে মথুরায়।। এবার আমরা এসে ডাকলে শ্যামে গোঠে যেতে দিস্নে তায়, ঐ পথে অক্রুর মুনির সাথে পালিয়ে যাবে শ্যামরায়।। মোরা কেউ যাব না বনে মা আর খেল্ব তার এই আঙিনায়, শুধু খেলব লুকোচুরি লো আগ্লাতে চোরের রাজায়।।
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্ণি, আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি! আমি উন্মন মন উদাসীর, আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর। আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের, আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের! আমি অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়, চিত-চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর! আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-ক’রে দেখা অনুখন, আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন! আমি চির-শিশু, চির-কিশোর, আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর! আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পূরবী হাওয়া, আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া। আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি, আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি! আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ! আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ! আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী, মহা-সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্ঝুম মম বাঁশরীর তানে পাশরি’। আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী। আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার, নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার! মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না — অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না — বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত। আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন, আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন! আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন! আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন! আমি চির-বিদ্রোহী বীর — বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর - বল উন্নত মম শির! বল বীর, বল বীর।
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

ভোর হোল ওঠ্ জাগ্ মুসাফির আল্লা-রসুল বোল্ গাফ্লিয়াতি ভোল্ রে অলস্ আয়েশ আরাম্ ভোল্॥ এই দুনিয়ার সরাইখানায় জনম্ গেল ঘুমিয়ে হায় ওঠ রে সুখ-শয্যা ছেড়ে মায়ার বাঁধন খোল্॥ দিন ফুরিয়ে এলো যে রে দিনে দিনে তোর দীনের কাজে অবহেলা কর্লি জীবন ভোর। যে দিন আজো আছে বাকি খোদারে তুই দিস্নে ফাঁকি আখেরে পার হবি যদি পুল্ সেরাতের পোল্॥
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

গভীর রাতে জাগি’ খুঁজি তোমারে। দূর গগনে প্রিয় তিমির–‘পারে।। জেগে যবে দেখি বঁধু তুমি নাই কাছে আঙিনায় ফুটে’ ফুল ঝ’রে পড়ে আছে, বাণ–বেঁধা পাখি সম আহত এ প্রাণ মম — লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।। মৌনা নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে, এসো প্রিয়, এই বেলা বক্ষে নীরবে। কত কথা কাঁটা হ’য়ে বুকে আছে বিঁধে কত আভিমান কত জ্বালা এই হৃদে, দেখে যাও এসো প্রিয়১ কত সাধ ঝ’রে গেল — কত আশা ম’রে গেল হাহাকারে।।
১. দেখিবে এসো প্রিয়
রাগঃ রবিকোষ
তালঃ ত্রিতাল
শিল্পীঃ নাহিদ সুলতানা সুমি

রুমু রুমু রুমু ঝুমু ঝুমু বাজে নূপুর তালে তালে দোদুল দোলে নাচের নেশায় চুর।। চঞ্চল বায়ে আঁচল উড়ায়ে চপল পায়ে ও কে যায় নাটনী কল তটিনীর প্রায় চিনি বিদেশিনী চিনি গো তায় শুনি’ ছন্দ তারি এ হিয়া ভরপুর।। নাচন শিখালে ময়ুর মরালে মরিচী-মায়া মরুতে ছড়ালে বন-মৃগের মন হেসে ভুলালে ডাগর আঁখির নাচে সাগর দুলালে। গিরিদরি বনে গো দোল লাগে নাচনের শুনে তারি সুর।।
রাগঃ বেহাগ-খাম্বাজ
তালঃ ফের্তা (কাহার্বা ও দাদ্রা)
