আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায়

বাণী

আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদি।
খুলে দাও রং মহলার তিমির-দুয়ার ডাকিলে যদি।।
গোপনে চৈতী হাওয়ায় গুল্‌-বাগিচায় পাঠালে লিপি,
দেখে তাই ডাক্‌ছে ডালে কু কু ব’লে কোয়েলা ননদী।।
পাঠালে ঘূর্ণি-দূতী ঝড়-কপোতী বৈশাখে সখি
বরষায় সেই ভরসায় মোর পানে চায় জল-ভরা নদী।।
তোমারি অশ্রু ঝলে শিউলি তলে সিক্ত শরতে,
হিমানীর পরশ বুলাও ঘুম ভেঙে দাও দ্বার যদি রোধি।।
পউষের শূন্য মাঠে একলা বাটে চাও বিরহিণী,
দুঁহু হায় চাই বিষাদে, মধ্যে কাঁদে তৃষ্ণা-জলধি।।
ভিড়ে যা ভোর-বাতাসে ফুল-সুবাসে রে ভোমর কবি
ঊষসীর শিশ্‌-মহলে আস্‌তে যদি চাস্‌ নিরবধি।।

আমি গত জনমে হে প্রিয়

বাণী

আমি গত জনমে, হে প্রিয়, যত কথা বলেছিনু তব কাছে।
ফুল হয়ে সেই কথা আজ পৃথিবীতে ফুটিয়াছে।।
	কাঁদিয়া কাঁদিয়া যত আঁখি মম
	নিভিয়া গিয়াছে ওগো প্রিয়তম
তারা হয়ে সেই আঁখিগুলি মোর তব পথ চেয়ে আছে।।
যত দীপ জ্বেলে নিশি জেগেছিনু একা বাতায়ন তলে,
কমল কুমুদ হয়ে সেই দীপ ফুটেছে সায়র জলে।
	চকোরিনী হয়ে অপূর্ণ সাধ
	আজো কেঁদে যায় ওগো মোর চাঁদ,
চাতকিনী হয়ে আজো মোর প্রাণ তৃষ্ণার জল যাচে।।

আল্লা নামের নায়ে চ’ড়ে

বাণী

	আল্লা নামের নায়ে চ’ড়ে যাব মদিনায়।
	মোহাম্মদের নাম হ’বে মোর (ও ভাই) নদী-পথে পুবান বায়।।
	চার ইয়ারের নাম হ’বে মোর সেই তরণীর দাঁড়
	কল্‌মা শাহাদতের বাণী হাল ধরিবে তা’র,
	খোদার শত নামের শুন্ টানিব (ও ভাই) নাও যদি না যেতে চায়।।
মোর	নাও যদি না চলিতে দেয় সাহারার বালি,
	মরুভূমে বান ডাকাব, (চোখের) পানি দিব ঢালি’।
	তাবিজ হ’য়ে দুল্‌বে বুকে কোরান, খোদার বাণী
	আঁধার রাতে ঝড়-তুফানে আমি কি ভয় মানি!
	আমি তরে’ যাব রে তরী যদি ডুবে’ তারে না পায়।।

১. দুর্দিনেরই ঝড়-তুফানে, ২. ডুবে তাঁহার এলাকায়

শহীদী ঈদগাহে দেখ্‌ আজ জমায়েত ভারি

বাণী

শহীদী ঈদগাহে দেখ্‌ আজ জমায়েত ভারি।
হবে দুনিয়াতে আবার ইসলামী ফর্‌মান জারি।।
তুরান ইরান হেজাজ মেসের হিন্দ মোরক্কো ইরাক,
হাতে হাত মিলিয়ে আজ দাঁড়ায়েছে সারি সারি।।
ছিল বেহোঁশ যারা আঁসু ও আফসোস ল’য়ে।
তুইও আয় এই জমাতে ভুলে যা’ দুনিয়াদারী।।
ছিল জিন্দানে যারা আজকে তারা জিন্দা হ’য়ে,
ছোটে ময়দানে দারাজ-দিল্‌ আজি শমশের ল’য়ে।
তকদির বদলেছে আজ উঠেছে তকবির তারি।।

তোর রাঙা পায়ে নে মা শ্যামা

বাণী

তোর রাঙা পায়ে নে মা শ্যামা আমার প্রথম পূজার ফুল।
ভজন, পূজন জানি না মা হয়ত হবে কতই ভুল।।
	দাঁড়িয়ে দ্বারে ‘মা মা’ বলে
	ভাসি আমি নয়ন জলে।
ভয় হয় মা ছুঁই কেমনে মা তোর পূজার বেদী-মূল।।
আশ্রয় মোর নাই জননী ত্রিভুবনে কোথাও হায়!
দাঁড়াই মাগো কাহার কাছে তুইও যদি ঠেলিস পায়।
	হানে হেলা সবাই যা’রে
	তুই নাকি কোল দিস্‌ মা তা’রে	
আমি সেই আশাতে এসেছি মা অকূলে তুই দে মা কূল।।

আমায় যারা দেয় মা ব্যথা

বাণী

আমায় যারা দেয় মা ব্যথা আমায় যারা আঘাত করে,
	তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!
আমায় যারা ভালবাসে বন্ধু ব’লে বক্ষে ধরে, -
	তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!!
	আমার আপমান করে যে
	মাগো তোরই ইচ্ছা সে যে
আমায় যারা যায় মা ত্যেজে যারা আমার আসে ঘরে,
	তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী॥
আমার ক্ষতি করতে পারে অন্য লোকের সাধ্য কি মা;
দুঃখ যা পাই তোরই সে দান, মাগো সবই তোর মহিমা!
	তাই পায়ে কেহ দলে যবে
	হেসে সয়ে যাই নীরবে,
কে কারে দুখ্ দেয় মা কবে তোর আদেশ না পেলে পরে
তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!!