মালা যদি মোর ধূলায় মলিন হয়

বাণী

মালা যদি মোর ধূলায় মলিন হয়
ব'সে আছি তাই অঞ্চলে নিয়ে কুসুমেরি সঞ্চয়।।
	ফুলহার যদি কর অবহেলা
	তাই ভাবি আর ব'য়ে যায় বেলা
হৃদয়ে থাকুক লুকানো আমার হৃদয়ের পরিচয়।।
বিফল যদি গো হয় পূজা নিবেদন
মন্দির-দ্বারে দাঁড়াইয়া তাই পাষাণেরই নারায়ণ।।
	কেন কাছে আসি, এসে ফিরে যাই
	যদি ফেল জেনে ভয় মানি তাই
সকলি সহিব, সহিতে নারিব হৃদয়ের পরাজয়।।

আরো কত দিন বাকি

বাণী

আরো কতদিন বাকি
তোমারে পাওয়ার আগে বুঝি হায়! নিভে যায় মোর আঁখি।।
কত আখি-তারা নিভিয়া গিয়াছে কাদিয়া তোমার লাগি'
সেই আখিগুলি তারা হয়ে আজো আকাশে রয়েছে জাগি
		যেন নীড়-হারা পাখি।।
যত লোকে আমি তোমারি বিরহে ফেলেছি অশ্রু-জল
ফুল হয়ে সেই অশ্রু ছুইতে চাহে, চাহে তব পদতল
		সে-সাধ মিটিবে নাকি।।

এসো শঙ্কর ক্রোধাগ্নি হে প্রলয়ঙ্কর

বাণী

এসো শঙ্কর ক্রোধাগ্নি হে প্রলয়ঙ্কর।
রুদ্রভৈরব! সৃষ্টি সংহর, সংহর।।
জ্ঞান-হীন তমসায় মগ্ন পাপ-পঙ্কিলা
বিশ্ব জুড়ি’ চলে শিবহীন যজ্ঞের লীলা,
শক্তি যথায় করে আত্ম-বিসর্জন ঘৃণায় —
ধ্বংস কর সেই অশিব-যজ্ঞ — অসুন্দর।।
যথা দেবী শক্তি — নারী অপমান সহে
গ্লানিকর হানাহানি চলে ধরমের মোহে,
হানো সংঘাত, অভিসম্পাৎ সেথা নিরন্তর।।

শুক্লা জোছনা তিথি ফুল্ল পুষ্পবীথি

বাণী

শুক্লা জোছনা তিথি, ফুল্ল পুষ্পবীথি গন্ধ-বন-গীতি আকুল উপবন।
চিত্ত স্মপ্নাতুর, তঙ্গ চুর চুর মাগে হৃদি-পুর সুন্দর-পরশন।।
	চন্দন-গন্ধিত মন্দ দখিনা-বায়
	নন্দন-বাণী ফুলে ফুলে ক’য়ে যায়,
তনুমন জাগে রাঙা অনুরাগে, মনে লাগে আজ (আজি মাধবী) বাসর-জাগরণ।।

নাটকঃ ‘সাবিত্রী’

দারুণ পিপাসায় মায়া-মরীচিকায়

বাণী

	দারুণ পিপাসায়
	মায়া-মরীচিকায়
চাহিতে এলি জল বনের হরিণী।
	দগ্ধ মরুতল
	কে তোরে দেবে জল
ঝরিবে আঁখি-নীর তোরই নিশিদিনই।।
নিবায়ে গৃহ-দীপ আপন-নিশাসে
আলেয়ার পিছে এলি সুখ-আশে,
	সে-সুখ অবসান
	সুমুখেতে শ্মশান —
পিছনে অন্ধকার চির-নিশীথিনী।।
কেন তুই বনফুল বিলাস-কাননে
করিয়া পথ ভুল এলি অকারণে।
	ছিঁড়ে সাঁঝে তোরে
	মালা গাঁথি’ ভোরে
দ’লিল বিলাসী পথ-ধূলি সনে।
সন্ধ্যা-গোধূলির রাঙা রূপে ভুলে’
আসিলি এ কোথায় তমসার কূলে।
	শ্রাবণ-মেঘ হায়
	ভাবিয়া কুয়াশায়
হারালি পথ তোর রে হতভাগিনী।।

ব্রজগোপী খেলে হোরী

বাণী

ব্রজ–গোপী খেলে হোরী
খেলে আনন্দ নবঘন শ্যাম সাথে।
রাঙা অধরে ঝরে হাসির কুম্‌কুম্‌
অনুরাগ–আবীর নয়ন–পাতে।।

পিরীতি–ফাগ মাখা গোরীর সঙ্গে
হোরি খেলে হরি উন্মাদ রঙ্গে।
বসন্তে এ কোন্ কিশোর দুরন্ত
রাধারে জিনিতে এলো পিচ্‌কারী হাতে।।

গোপীনীরা হানে অপাঙ্গ খর শর ভ্রুকুটি ভঙ্গ
অনঙ্গ আবেশে জর জর থর থর শ্যামের অঙ্গ।

শ্যামল তনুতে হরিত কুঞ্জে
অশোক ফুটেছে যেন পুঞ্জে পুঞ্জে
রঙ–পিয়াসি মন ভ্রমর গুঞ্জে
ঢালো আরো ঢালো রঙ প্রেম–যমুনাতে।।