কালো জল ঢালিতে সই

বাণী

		কালো জল ঢালিতে সই চিকন কালারে পড়ে মনে।
		কালো মেঘ দেখে শাওনে সই পড়্ল মনে কালো বরণে॥
			কালো জলে দীঘির বুকে
			কালায় দেখি নীল-শালুকে
(আমি)	চম্‌কে উঠি, ডাকে যখন কালো কোকিল বনে॥
		কল্‌মিলতার চিকন পাতায় দেখি আমার শ্যামে লো
		পিয়া ভেবে দাঁড়াই গিয়ে পিয়াল গাছের বামে লো।
			উড়ে গেলে দোয়েল পাখি
			ভাবি কালার কালো আঁখি
		আমি নীল শাড়ি পরিতে নারি কালারি কারণে লো কালারি কারণে॥

হে প্রিয় নবী রসূল আমার

বাণী

হে প্রিয় নবী রসূল আমার
প’রেছি আভরণ নামেরি তোমার।।
নয়নের কাজলে তব নাম
ললাটের টীপে জ্বলে তব নাম
গাঁথা মম কুন্তলে আহমদ
বাঁধা মোর অঞ্চলে তব নাম
দুলিছে গলে মোর তব নাম মণিহার।।
তাবিজ অঙ্গুরী তব নাম
বাজু ও পৈচী চুড়ি তব নাম
ভয়ে ভয়ে পথে পথে ঘুরি যে
পাছে কেউ করে চুরি তব নাম
ঐ নাম রূপ মোর ঐ নাম আঁখি ধার।।
বুকের বেদনা ঢাকা তব নাম
ধ্যানে মোর জ্ঞানে মোর তুমি যে
প্রেম-ভক্তি মাখা তব নাম
প্রিয় নাম আহমদ জপি আমি অনিবার।।

বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর

বাণী

বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর
বহিছে তরলতর পুবালি পবন।
মেঘলা যামিনী, দামিনী চমকায়
কালো মেয়ের ভীরু প্রেমের মতন।।
আমি ভুলে গেছি, মেঘেরা ভোলেনি
সেই কালো চোখ, সেই বিনুনী-বেণী,
প্রিয়ার দূতী সম, স্বরণে আনে মম
এসেছিল একদিন এমন শুভ-লগন।।
আর কিছু ছিল কি, ছিল না ত’ স্মরণে,
শুধু জানি দুই জন ছিনু এই ভুবনে।
সহসা মোদের মাঝে ছুটে এলো পারাপার
কে কোথায় হারাইনু, কূল নাহি পেনু আর,
মনে পড়ে বরষায়, তার সেই অসহায়
বিদায় বেলার আঁখি অশ্রু-সঘন।।

কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া

বাণী

কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া ফিরে ফুল-বনের গলি।
‘ফিরে যাও চপল পথিক’, দু’লে কয় কুসুম-কলি।
		দু’লে কয় কুসুম-কলি॥
ফেলিছে সমীর দীরঘ শ্বাস —  
আসিবে না আর এ মধুমাস,
কহে ফুল, ‘জনম জনম এমনি গিয়াছ ছলি’।
		জনম জনম গিয়াছ ছলি’॥
কাঁদে বায়, ‘নিদাঘ আসে
আমি যাই সুদূর বাসে’,
ফুটে ফুল হাসিয়া ভাসে, ‘প্রিয়তম যেয়োনা চলি’।
		ওগো প্রিয়তম যেয়োনা চলি’॥

ওরে এ কোন্ স্নেহ-সুরধুনী

বাণী

ওরে এ কোন্ স্নেহ-সুরধুনী নামলো আমার সাহারায়।
বক্ষে কাঁদার বান ডেকেছে, আজ হিয়া কূল না হারায়।।
কণ্ঠে চেপে শুষ্ক তৃষা
মরুর সে-পথ তপ্ত সীসা,
চ’লতে একা পাইনি দিশা ভাই,
বন্ধ নিঃশ্বাস — একটু বাতাস্!
এক ফোঁটা জল জহর-মিশা! মিথ্যা আশা, নাই সে নিশানা’ই
হঠাৎ ও-কার ছায়ার মায়া রে —
যেন ডাক-নাম আজ গাল্-ভরা ডাক ডাকছে কে ঐ মা-হারায়।।
লক্ষ যুগের বক্ষ-ছায়া তুহিন্ হ’য়ে যে ব্যথা আর কথা ছিল ঘুমা,
কে সে ব্যথায় বুলায় পরশ রে?
ওরে গলায় তুহিন্ কাহার কিরণ-তপ্ত সোহাগ-চুমা?
ওরে ও-ভূত, লক্ষ্মী-ছাড়া
হতভাগা বাঁধন-হারা,
কোথায় ছুটিস্! একটু দাঁড়া, হায়!
ঐ ত তোরে ডাক্‌ছে স্নেহ
হাতছানি দেয় ঐ ত গেহ,
কাঁদিস্ কেন পাগল-পারা তায়?
এত ডুক্‌রে’ কিসের তিক্ত কাঁদন তোর?
অভিমানী! মুখ ফেরা দেখ্ যা পেয়েছিস্ তা’ও হারায়!
হায়, বুঝ্‌বে কে যে স্নেহের ছোঁওয়ায় আমার বাণী রা’ হারায়।।

ও-তুই যাস্‌নে রাই-কিশোরী কদমতলাতে

বাণী

ও-তুই যাস্‌নে রাই-কিশোরী কদমতলাতে,
সেথা ধরবে বসন-চোরা ভূতে, পারবিনে আর পালাতে॥
	সে দেখলে কি আর রক্ষে আছে,
	ও-তোর বসন গিয়ে উঠ্‌বে গাছে,
ওলো গোবর্ধন-গিরিধারী সে — পারবিনে তায় টলাতে॥
	দেখতে পেলে ব্রজবালা,
	ঘট কেড়ে সে ঘটায় জ্বালা,
(ওলো) নিজেই গ’লে জল হ’বি তুই পারবিনে তায় গলাতে॥
	ঠেলে ফেলে অগাধ-নীরে
	সে হাসে লো দাঁড়িয়ে তীরে,
শেষে ভাসিয়ে নিয়ে প্রেম-সাগরে ওলো দোলায় নাগরদোলাতে॥