সকরুণ নয়নে চাহ আজি মোর

বাণী

সকরুণ নয়নে চাহ আজি মোর বিদায়-বেলা
ভুলিতে দাও বিদায়-দিনে হেনেছ যে অবহেলা॥
হাসিয়া কহ কথা আজ হাসিতে যেমন আগেতে
হেরিবে মোর জীবন-সাঁঝে গোধূলি রঙের খেলা॥
হে বন্ধু, বন্ধুর পথে কে কাহার হয়েছে সাথি
তেমনি থাকিয়া যায় সব যাবার যে যায় সে একেলা॥

শুক বলে মোর গোঁফের রূপে ভোলে গোপনারী

বাণী

শুক বলে, ‘মোর গোঁফের রূপে ভোলে গোপনারী’
সারী বলে, ‘গোঁফের বড়াই আছে বলে দাড়ি
		(ও) আমার গোঁফ পিয়ারি।।’
শুক বলে, ‘মোর বাঁকা গোঁফে দেখে ভুবন ভোলে’
সারী বলে, ‘ঝুলন রাসের দোলনা যে দোলে
		(ও) আমার দাড়ির আশে।’
শুক বলে, ‘গোঁফ ওষ্ঠে থাকেন গোষ্ঠে যেন কালা’
সারী বলে, ‘আমার দাড়ি কুলের কুলবালা
		(ও) চলেন হেলে দুলে।’
শুক বলে, ‘বীর শিকারিরা এই গোঁফে দেয় চাড়া’
সারী বলে, ‘মুনি ঋষির দেখবে দাড়ি ন্যাড়া
		(ও) কিবা বাহার তোলে।’
শুক বলে, ‘মোর ত্রিভঙ্গিম ঠোঁট বিহারী গোঁফ’
সারী বলে, ‘তমাল কানন আমার দাঁড়ির ঝোপ
		(আ, ও) দখিন হাওয়ায় দোলে।’
শুক বলে, ‘গোঁফ খুরির দধি চুরি করে খায়’
সারী বলে, ‘দাড়ি মেদীর রং লেগেছে গায়
		(ও, আচ্ছাচ্ছা) যেন হোরির আবির।’
সারী বলে, ‘দাড়ি বড় গোঁফের গরব মিছে’
শুক বলে, ‘দাড়ি যতই বাড়ুক তবু গোঁফের নীচে
		(ও) সারী টিকবে বল’।।

সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ এসেছে ফিরে

বাণী

সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ এসেছে ফিরে
		ভেসে আকুল অশ্রুনীরে।
আজ মদিনার গোলাপ বাগে বাতাস বহে ধীরে
		ভেসে আকুল অশ্রুনীরে।।
	তপ্ত বুকে আজ সাহারার
	উঠেছে রে ঘোর হাহাকার
মরুর দেশে এলো আঁধার শোকের বাদল ঘিরে।।
চবুতরায় বিলাপ করে কবুতরগুলি খোঁজে নবীজীরে।
কাঁদিছে মেষশাবক, কাঁদে বনের বুলবুলি গোরস্থান ঘিরে।।
	মা ফাতেমা লুটিয়ে প’ড়ে
	কাঁদে নবীর বুকের পরে
আজ দুনিয়া জাহান কাঁদে কর হানি শিরে।।

একটুখানি দাও অবসর বসতে কাছে

বাণী

একটুখানি দাও অবসর বসতে কাছে,
তোমায় আমার অনেক যুগের অনেক কথা বলার আছে।।
গ্রহ ঘিরে উপগ্রহ, ঘোরে যেমন অহরহ;
আমার আকুল এ বিরহ তেমনি প্রিয় তোমায় যাচে॥
চিরকালই রইলে তুমি আমার পাওয়ার বহুদূরে
আজকে ক্ষণিক কইব কথা সকরুণ গানের সুরে।
করব পূজা গানে গানে, চাইব না আর নয়ন পানে;
আমার চোখের অশ্রুলেখা দেখে তুমি চেন পাছে॥

আমিনার কোলে নাচে হেলে দুলে

বাণী

আমিনার কোলে নাচে হেলে দুলে
শিশু নবী আহমদ রূপের লহর তুলে।।
রাঙা মেঘের কাছে ঈদের চাঁদ নাচে
যেন নাচে ভোরের আলো গোলাব গাছে।
চরণে ভ্রমরা গুঞ্জরে গুল ভুলে।।
সে খুশির ঢেউ লাগে আরশ কুরসি পাশে
হাততালি দিয়ে হুরী সব বেহেশতে হাসে
সুখে ওঠে কেঁপে হিয়া চরণ মূলে।।
চাঁদনি রাঙা অতুল মোহন মোমের পুতুল
আদুল গায়ে নাচে খোদার প্রেমে বেভুল
আল্লার দয়ার তোহ্ফা এলো ধরার কূলে।।

কোন্ কুসুমে তোমায় আমি

বাণী

কোন্ কুসুমে তোমায় আমি পূজিব নাথ বল বল।
তোমার পূজার কুসুম-ডালা সাজায় নিতি বনতল।।
	কোটি তপন চন্দ্র তারা
	খোঁজে যা’রে তন্দ্রাহারা,
খুঁজি তা’রে ল’য়ে আমার, ক্ষীণ এ-নয়ন ছলছল।।
	বিশ্ব-ভুবন দেউল যাহার
	কোথায় রচি মন্দির তাঁর,
লও চরণে ব্যথায়-রাঙা আমার হৃদয়-শতদল।।