ছয় লতিফার ঊর্ধ্বে আমার

বাণী

	ছয় লতিফার ঊর্ধ্বে আমার আরফাত ময়দান।
	তারি মাঝে আছে কারা জানে বুজর্গান।।
যবে	হজরতেরি নাম জপি ভাই হাজার হজের আনন্দ পাই,
	জীবন মরণ দুই উঠে ভাই দেই সেথা কোরবান্।।
	আমি তুর পাহাড়ে সুর শুনে ভাই প্রেমানন্দে গলি,
	ফানাফির রসুলে আমি হেরার পথে চলি।
	হজরতেরি কদম চুমি হিজরে আসোয়াদ
	ইব্রাহিমের কোলে চ’ড়ে দেখি ঈদের চাঁদ,
মোরে	খোতবা শুনাব ইমাম হয়ে জিব্রাইল কোরআন।।

অধীর অম্বরে গুরু গরজন মৃদঙ বাজে

বাণী

অধীর অম্বরে গুরু গরজন মৃদঙ বাজে।
রুমু রুমু ঝুম্ মঞ্জীর-মালা চরণে আজ উতলা যে॥
এলোচুলে দু’লে দু’লে বন-পথে চল আলি,
মরা গাঙে বালুচরে কাঁদে যথা বন্-মরালী।
		উগারি’ গাগরি ঝারি
		দে লো দে করুণা ডারি
ঘুঙট উতারি’ বারি ছিটা লো গুমোট সাঁঝে॥
তালীবন হানে তালি, ময়ুরী ইশারা হানে,
আসন পেতেছে ধরা মাঠে মাঠে চারা-ধানে।
মুকুলে ঝরিয়া পড়ি’ আকুতি জানায় যূথী
ডাকিছে বিরস শাখে তাপিতা চন্দনা-তুতি।
		কাজল-আঁখি রসিলি
		চাহে খুলি ঝিলিমিলি,
চল, লো চল সেহেলি, নিয়ে মেঘ-নটরাজে॥

নাটকঃ ‘সেতুবন্ধ’

মোরে পূজারি কর তোমার

বাণী

মোরে পূজারি কর তোমার ঠাকুর ঘরে হে ত্রিজগতের নাথ।
মোর সকল দেহ লুটাক তোমার পায়ে (হয়ে) একটি প্রণিপাত।।
	নিত্য যেন তোমারি মন্দিরে
	চিত্ত আমার ব্যাকুল হয়ে ফিরে
গ্রহ যেমন সূর্যলোক ঘিরে ঘুরে দিবস রাত।।
মোর নয়ন যেন তোমারি রূপ হেরে সকল দেখার মাঝে
যেন এ রসনা জপে তোমারি নাম হে নাথ সকল কাজে।
	তোমার চরণ রয় যে শতদলে
	তারি পানে মোর মন যেন চলে
নিত্য তোমায় নমস্কারের ছলে (যেন) যুক্ত থাকে হাত।।

বনপথে কে যায়

বাণী

বনপথে কে যায়।
মনে হয় যেন তারে চিনি আমি হায়।।
ছন্দে জাগায়ে সে-নিশীথ নিঝুম
বাজে নূপুর তার রুমা ঝুমা ঝুম্,
জাগে নিশীথিনী এলোচুলে পাষাণ বুকে নির্ঝর জাগায়।।

কে নিবি ফুল কে নিবি ফুল

বাণী

		কে নিবি ফুল, কে নিবি ফুল —
		টগর যূথী, বেলা মালতী
		চাঁপা, গোলাপ, বকুল, নার্গিস ইরানি-গুল।।
		আমার যৌবন-বাগানে
		হাওয়া লেগেছে ফুল-জাগানে,
		চ'লে যেতে ঢ'লে পড়ি, খুলে পড়ে এলো চুল;
		তনু-মন আকুল আঁখি ঢুলুঢুল্‌।।
(ওগো) 	ফুটেছে এত ফুল, ফুলমালী কই?
		গাঁথিবে মালা কবে? সেই আশে রই;
		এ মালা দেব কা'রে ভেবে সারা হই,
		সহিতে পারি না এ ফুল-ঝামেলা, চামেলি-পারুল।।

বৈঁচি মালা রইল গাঁথা

বাণী

বৈঁচি মালা রইল গাঁথা পিয়াল পাতা ঢাকা (লো)।
সে এলো না, সয় না লো আর এক্‌লা ঘরে থাকা (লো)।।
	সে বর্শা ধনুক নিয়ে হাতে
	ঘুরে বেড়ায় কাহার সাথে?
(সে) আসবে কবে, চাঁচর কেশে বেঁধে পাখির পাখা (লো)।।
(সে) বলেছিল, ডাগর হবে টগর-চারা যবে
লুকিয়ে এসে আমার হাতের বৈঁচি-মালা লবে (লো)।।
	আজ টগর গাছে ফুল ফুটেছে
	ফাগুন মাসের চাঁদ উঠেছে।
আঙিনাতে ফুল ছড়িয়ে কাঁদে পলাশ-পাখা (লো)।।