এলে তুমি কে কে ওগো

বাণী

পুরুষ	:	এলে তুমি কে, কে ওগো
		তরুণা অরুণা করুণা সল চোখে।
স্ত্রী	:	আমি তব মনের বনের পথে
		ঝিরি ঝিরি গিরি-নির্ঝরিণী
		আমি যৌবন-উন্মনা হরিণী মানসলোকে।।
পুরুষ	:	ভেসে যাওয়া মেঘের সজল ছায়া
		ক্ষণিক মায়া তুমি প্রিয়া
		স্বপনে আসি' বাজায়ে বাঁশি স্বপনে যাও মিশাইয়া।
স্ত্রী	:	বাহুর বাঁধনে দিই না ধরা —
		আমি স্বপন-স্বয়ম্বরা
		সঙ্গীতে জাগাই ইঙ্গিতে ফোটাই
		তোমার প্রেমের যুঁই-কোরকে।
পুরুষ	:	আধেক প্রকাশ 
স্ত্রী	:	আধেক গোপন
পুরুষ	:	আধো জাগরণ 
স্ত্রী	:	আধেক স্বপন
উভয়ে	:	খেলিব খেলা ছায়া-আলোকে।।

প্রাণের ঠাকুর লীলা করে আমার দেহের আঙিনাতে

বাণী

প্রাণের ঠাকুর লীলা করে আমার দেহের আঙিনাতে
রসের লুকোচুরি খেলা নিত্য আমার তারই সাথে।।
তারে নয়ন দিয়ে খুঁজি যখন
অন্তরে সে লুকায় তখন
অন্তরে তায় ধরতে গেলে লুকায় গিয়ে নয়ন-পাতে।।
ঐ দেখি তার হাসির ঝিলিক আমার ধ্যানের ললাট-মাঝে
ধরতে গেলে দেখি সে নাই কোন্ সুদূরে নূপুর বাজে।
এত কাছে রয় সে তবু পাই না তারে হাতে হাতে।।

সুন্দর হে দাও দাও সুন্দর জীবন

বাণী

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ, সকল অশোভন।।
	এ প্রাণ প্রভাতী-তারার প্রায়
	ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ নিশায় আন পূর্ণ চাঁদের স্বপন।।
সকল বিরস-হৃদয়-মন সরস কর হে,
আশার সূর্য্যে মৃত্যু-গহন বিপদ হর হে।
	কাঁটার ঊর্ধ্বে ফোটাও ফুল
	ভোলাও পথের দুঃখ ভুল,
এ বিশ্ব হোক পূজা-দেউল পবিত্র-মোহন।।

দিনের সকল কাজের মাঝে তোমায় মনে পড়ে

বাণী

দিনের সকল কাজের মাঝে
		তোমায় মনে পড়ে।
কাজ ভুলে যাই (আমি), মন চ’লে যায়
		সুদূর দেশান্তরে।।
	তুলসী তলায় দীপ জ্বালিয়ে
	দূর আকাশে রই তাকিয়ে,
সাঁঝের ঝরা ফুলের মতো অশ্রু বারি ঝরে।।
আঁধার রাতে বাতায়নে একলা ব’সে থাকি,
চাঁদকে শুধায় তোমার কথা ঘুমহারা মোর আঁখি।
	প্রভাত বেলায় গভীর ব‍্যথায়
	মন কেঁদে কয় তুমি কোথায়,
শূন্য লাগে এ তিন ভুবন প্রিয় তোমার তরে।।

করুণা তোর জানি মাগো আসবে শুভদিন

বাণী

		করুণা তোর জানি মাগো আসবে শুভদিন।
		হোক না আমার চরম ক্ষতি থাক না অভাব ঋণ।।
			আমায় ব্যথা দেওয়ার ছলে
			টানিস্ মা তোর অভয় কোলে,
		সন্তানে মা দুঃখ দিয়ে রয় কি উদাসীন।।
(তোর)	কঠোরতার চেয়ে বেশি দয়া জানি ব’লে,
		ভয় যত মা দেখাস্ তত লুকাই তোরই কোলে।
			সন্তানে ক্লেশ দিস্ যে এমন
			হয়ত মা তার আছে কারণ,
তুই		কাঁদাস্ ব’লে বল্‌ব কি মা হ’লাম মাতৃহীন।।

আজ সুদিনের আসল ঊষা

বাণী

আজ সুদিনের আসল ঊষা, নাই অভাব আজ নাই অভাব।
অরুণ রবির মতন রাঙা পেয়ালা ভরি’ আন্‌ শারাব।।
ঊষার করে পেয়ালা রবির, উপচে পড়ে কিরণ-মদ,
মধুর ‍উজল সময় এমন, আজ করো না দিল্‌ খারাব।।
শান্ত কুটির, বন্ধু সাকি, মধুর-কণ্ঠ গায় গজল,
আয়েশ-সুখের আরাম গো তায় নৌ-জোয়ানী বে-হিসাব।।
নাচছে প্রিয়া সাকির সাথে, সুর-পিয়াসি দেয় তালি,
সাকির আঁখির মদির লীলা টুটায় মদের বদ্‌-খোয়াব।।
মদের নেশায় মিঠার লোভে, সাবাস চতুর ফুল-মালী —
লুকিয়ে রাখ সুবজ পাতায় শারাব-মধুর লাল গোলাব।।
পর্‌ল প্রিয়া যেদিন কানে গানের মোতি হাফিজের,
সেদিন হতে উর্বশী মোর শুনছে গানের বীণ্‌-রবাব্‌।।