আজো ফোটেনি কুঞ্জে মম কুসুম

বাণী

আজো ফোটেনি কুঞ্জে মম কুসুম ভোমরাকে যেতে বল।
সখি	গুঞ্জরি ফেরে কেন কুঞ্জে বৃথাই এত ছল।।
	কত কি শুনিয়ে যায়, গুনগুনিয়ে হায়-
	পাতার ঝরকায়, ঘোরে সে অবিরল।।
আমার প্রাণের ভেতর কেন উঠায় সে ঝড়
তারে	ফেরালে ফেরে না হাসে কেবল,
সে	ফিরিয়া গেলে চোখে আসে জল।
	একি হল দায়, আঁখি নাহি চায়
	না দেখিলে তায়, প্রাণ পাগল।।

স্বাগতা কনক-চম্পক বর্ণা

বাণী

স্বাগতা কনক-চম্পক বর্ণা।
ছন্দিতা চপল নৃত্যের ঝর্না।।
মঞ্জুলা বিধুর যৌবন-কুঞ্জে
যেন ও-চরণ-নূপুর গুঞ্জে,
মন্দিরা মুরলী-শোভিত হাতে
এসো গো বিরহ-নীরস-রাতে,
হে প্রিয়া করিব প্রাণ অপর্ণা।।

মম বেদনার শেষ হ’ল কি এতদিনে

বাণী

মম বেদনার শেষ হ’ল কি এতদিনে।
বুঝি তাই এলে প্রিয় পথ চিনে।।
	বরষার নবধারা ছন্দে
	এলে বন-মুকুলের গন্ধে,
তব চরণ ছোঁয়ায় আজি বাজিল কি সুর মোর মনো-বীণে।।
কত যুগ ধরি’ চেয়ে আছি পথ আজি কি হ’ল সফল,
তাই সহসা কানন মোর মৌন বিহগ-তানে মুখর চপল।
	তৃষিত চাতক-হিয়া সম
	কাঁদে হায়! ‘এসো প্রিয়তম’,
হের শূন্য এ অন্তর-মন্দির মোর তোমা-বিনে।।

মালা যদি মোর ধূলায় মলিন হয়

বাণী

মালা যদি মোর ধূলায় মলিন হয়
ব'সে আছি তাই অঞ্চলে নিয়ে কুসুমেরি সঞ্চয়।।
	ফুলহার যদি কর অবহেলা
	তাই ভাবি আর ব'য়ে যায় বেলা
হৃদয়ে থাকুক লুকানো আমার হৃদয়ের পরিচয়।।
বিফল যদি গো হয় পূজা নিবেদন
মন্দির-দ্বারে দাঁড়াইয়া তাই পাষাণেরই নারায়ণ।।
	কেন কাছে আসি, এসে ফিরে যাই
	যদি ফেল জেনে ভয় মানি তাই
সকলি সহিব, সহিতে নারিব হৃদয়ের পরাজয়।।

ঐ চলে তরুণী গোরী গরবী

বাণী

ঐ চলে তরুণী গোরী গরবী।
ডাকে দূর পারাবার ডাকে তারে বন পার —
লালসে ঝরে তার পায় রাঙা করবী।।
	চলে বালা দুলে দুলে
	এলো খোঁপা পড়ে খুলে,
চাহি ভ্রমর কুসুম ভুলে — তনুর তার সুরভি।।
	নাচের ছন্দে দোলে
	টলে তার চরণ চটুল,
	হরিণী চায় পথ বেভুল —
মায়া লোক বিহারিণী রচি’ চলে ছায়াছবি।।

ওরে ব্যাকুল বেণুবন

বাণী

	ওরে ব্যাকুল বেণুবন!
	তোকে দিয়েই হতো শ্যামের মুরলি মোহন।।
	তোর শাখাতে লেগে আছে শ্যামের হাতের ছোঁওয়া।
	আজো কি তার পরশ-লোভে ডালগুলি তার নোওয়া।
	আমার পড়লো মনে তোরে দেখে ও-বেণুবন পড়লো মনে,
	বৃন্দাবনে যে সাতটি সুর বাজাত শ্যাম বাঁশির সনে।।
	তার প্রথম সুরে আয় আয় ব’লে গোপিকায় ডাকে দূরে,
	তার দ্বিতীয় সুরে বহে যমুনা উজান ব্রজকুমারী ঝুরে।
	তার তৃতীয় সুরে সেই সুরে বাজে তার পায়ের নূপুর
	সেই সুর শুনে নাচে বনের ময়ূর।
	শুনি চতুর্থ সুর গুরু-গম্ভীর রোল,
	মেঘে মৃদঙ্গ বাজে লাগে ঝুলনায় দোল্।
	পঞ্চম সুরে তার কোয়েলা বোলে
	ব্রজ-বসন্ত আসে মাতে হোরির রোলে।
	ষষ্ঠ সুরে কেঁদে ডাকে সে রাধায়
	সপ্তমে নিষাদ সে ভুবন কাঁদায়।
আখর	: [নিষাদ সে তাই সাধ মিটিল না
	ডাকিয়া বাঁশির সুরে বধে হরিণীরে — নিষাদ সে
	তারে ভালোবেসে সাধ মেটে না — নিষাদ সে।।]