আমি বাঁধন যত খুলিতে চাই

বাণী

আমি	বাঁধন যত খুলিতে চাই জড়িয়ে পড়ি তত।
	শুভদিন এলো না দিনে দিনে দিন হল হায় গত।।
		শত দুঃখ অভাব নিয়ে
		জগৎ আছে জাল বিছিয়ে
	অসহায় এ পরান কাঁদে জালে মীনের মত।।
	বোঝা যত কমাতে চাই ততই বাড়ে বোঝা,
	শান্তি কবে পাব কবে চল্‌ব হয়ে সোজা।
		দাও ব’লে হে জগৎ-স্বামী
		মুক্তি কবে পাব আমি?
কবে	উঠবে ফুটে জীবন আমার ভোরের ফুলের মত।।

জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী বিশাল

বাণী

জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী বিশাল।
কভু প্রশান্ত উদার, কভু কৃতান্ত করাল॥
	কভু পার্থ-সারথি-হরি
	বংশীধারী কংস-অরি,
কভু গোপাল বনমালী কিশোর রাখাল॥
বিপুল মহা-বিরাট কভু বৃন্দাবন-বিলাসী,
শঙ্খ-গদা-চক্র-পাণি মুখে মধুর হাসি।
	সৃষ্টি বিনাশে
	লীলা-বিলাসে,
মগ্ন তুমি আপন ভাবে অনাদিকাল॥

আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে

বাণী

মা, মা গো —
আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে কাঠুরিয়ার মেয়ে,
কত নিরস তরু হ'ল মঞ্জুরিত তোর চরণ-পরশ পেয়ে।।
রোদে পুড়ে জলে ভিজে মা দিয়েছি ফুল ফল
শাখায় আমার, নীড় বেঁধেছে বিহঙ্গের দল।
বটের মত সারা দেহ মাগো মায়ার জটে আছে ছেয়ে।।
ও মা মূল আছে তাই বৈতরণীর কূলে আছি পড়ি
নইলে হ'তাম খেয়াঘাটের পারাপারের তরী।
	তুই খড়গের ভয় দেখাস মিছে
	মুক্তি আছে এরি পিছে মাগো
তোর হাসির বাঁশি শুনতে পাবো অসির আঘাত খেয়ে।।

ঘুম আয় ঘুম ঘুম

বাণী

ঘুম আয় ঘুম, ঘুম ঘুম ঘুম।
আকাশ-বাতাস জল থল উপবন সব হোক নিঝ্ঝুম।।
শান্ত হোক সব অশান্ত কলরোল
রে পথিক! জীবন-পথের ক্লান্তি ভোল্
নয়নে লাগুক সুখ-স্বপনের কুঙ্কুম।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)

আজ শেফালির গায়ে হলুদ

বাণী

আজ শেফালির গায়ে হলুদ
	উলু দেয় পিক পাপিয়া।
প্রথম প্রণয়-ভীরু বালা
	লাজে ওঠে কাঁপিয়া।।
বনভূমি বাসর সাজায়
	ফুলে পাতায় লালে নীলে,
ঝরে শিশির আশিস-বারি
	গগন-ঝারি ছাপিয়া।।
বৃষ্টি-ধোওয়া সবুজ পাতার
	শাড়ি করে ঝলমল,
ননদিনী ‘বৌ কথা কও’
	ডাকে আড়াল থাকিয়া।।
দেখতে এলো দিগ্‌বালিকা	
	সাদা মেঘের রথে ঐ,
শরৎ-শশীর মঙ্গল-দীপ
	জ্বলে গগন ব্যাপিয়া।।
অতীত্ প্রণয়-স্মৃতি স্মরি’
	কেঁদে যায় আশিন-হাওয়া,
উড়ে বেড়ায় বর সে ভ্রমর
	কমল-পরাগ মাখিয়া।।

ভীরু এ মনের কলি ফোটালে না কেন

বাণী

ভীরু এ মনের কলি ফোটালে না কেন ফোটালে না —
জয় করে কেন নিলে না আমারে, কেন তুমি গেলে চলি।।
		ভাঙ্গিয়া দিলে না কেন মোর ভয়,
		কেন ফিরে গেলে শুনি অনুনয়;
কেন সে বেদনা বুঝিতে পার না মুখে যাহা নাহি বলি।।
কেন চাহিলে না জল নদী তীরে এসে,
সকরুণ অভিমানে চলে গেলে মরু–তৃষ্ণার দেশে।।
		ঝোড়ো হাওয়া ঝরা পাতারে যেমন
		তুলে নেয় তার বক্ষে আপন
কেন কাড়িয়া নিলে না তেমনি করিয়া মোর ফুল অঞ্জলি।।