কিশোরী মিলন-বাঁশরি

বাণী

	কিশোরী, মিলন-বাঁশরি
শোন	বাজায় রহি’ রহি’ বনের বিরহী —
	লাজ বিসরি’ চল জল্‌কে।
তার	বাঁশরি শুনি’ কথার কুহু
	ডেকে ওঠে কুহুকুহু - মুহুমুহু;
	রস-যমুনা-নীর হ’ল অধীর, রহে না থির;
ও তার 	দু-কূল ছাপায়ে তরঙ্গদল ওঠে ছল্‌কে॥    
	কেন লো চম্‌কে দাঁড়ালি থম্‌কে —
পেলি	দেখতে কি তোর প্রিয়তম্‌কে!
পেয়ে	তারি কি দেখা নাচিছে কেকা,
হ’ল	উতলা মৃগ কি দেখে চপল্‌কে॥

নাটকঃ ‘চক্রব্যূহ’

ওরে এ কোন্ স্নেহ-সুরধুনী

বাণী

ওরে এ কোন্ স্নেহ-সুরধুনী নামলো আমার সাহারায়।
বক্ষে কাঁদার বান ডেকেছে, আজ হিয়া কূল না হারায়।।
কণ্ঠে চেপে শুষ্ক তৃষা
মরুর সে-পথ তপ্ত সীসা,
চ’লতে একা পাইনি দিশা ভাই,
বন্ধ নিঃশ্বাস — একটু বাতাস্!
এক ফোঁটা জল জহর-মিশা! মিথ্যা আশা, নাই সে নিশানা’ই
হঠাৎ ও-কার ছায়ার মায়া রে —
যেন ডাক-নাম আজ গাল্-ভরা ডাক ডাকছে কে ঐ মা-হারায়।।
লক্ষ যুগের বক্ষ-ছায়া তুহিন্ হ’য়ে যে ব্যথা আর কথা ছিল ঘুমা,
কে সে ব্যথায় বুলায় পরশ রে?
ওরে গলায় তুহিন্ কাহার কিরণ-তপ্ত সোহাগ-চুমা?
ওরে ও-ভূত, লক্ষ্মী-ছাড়া
হতভাগা বাঁধন-হারা,
কোথায় ছুটিস্! একটু দাঁড়া, হায়!
ঐ ত তোরে ডাক্‌ছে স্নেহ
হাতছানি দেয় ঐ ত গেহ,
কাঁদিস্ কেন পাগল-পারা তায়?
এত ডুক্‌রে’ কিসের তিক্ত কাঁদন তোর?
অভিমানী! মুখ ফেরা দেখ্ যা পেয়েছিস্ তা’ও হারায়!
হায়, বুঝ্‌বে কে যে স্নেহের ছোঁওয়ায় আমার বাণী রা’ হারায়।।

জাগো জাগো গোপাল নিশি হ’ল ভোর

বাণী

জাগো	জাগো গোপাল নিশি হ’ল ভোর,
কাঁদে		ভোরের তারা হেরি’ তোর ঘুম-ঘোর॥
		দামাল ছেলে তুই জাগিস্‌নি তাই
বনে		জাগেনি পাখি ঘুমে মগ্ন সবাই ,
		বাতাস নিশ্বাস ফেলে খুঁজিছে বৃথাই
তোর		বাঁশরি লুটায়ে কাঁদে আঙিনায় মোর॥
তুই		উঠিস্‌নি ব’লে দেখ রবি ওঠেনি
ঘরে		আনন্দ নাই, বনে ফুল ফোটেনি।
		ধোয়াবে বলিয়া তোর মুখের কাজল
		থির হ’য়ে আছে ঘাটে যমুনার জল,
		অঞ্চল-ঢাকা মোর, ওরে চঞ্চল,
আমি		চেয়ে আছি কবে ঘুম ভাঙিবে তোর॥

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা

বাণী

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা, চাঁদের চেয়েও জ্যোতি।
তুমি দেখাইলে মহিমান্বিতা নারী কী শক্তিমতী।।
শিখালে কাঁকন চুড়ি পরিয়াও নারী,
ধরিতে পারে যে উদ্ধত তরবারি,
না রহিত অবরোধের দুর্গ, হতো না এ দুর্গতি।।
তুমি দেখালে নারীর শক্তি স্বরূপ – চিন্ময়ী কল্যাণী,
ভারত জয়ীর দর্প নাশিয়া মুছালে নারীর গ্লানি।
তুমি গোলকুন্ডার কোহিনূর হীরা সম
আজো ইতিহাসে জ্বলিতেছে নিরুপম,
রণরঙ্গিণী ফিরে এসো,
তুমি ফিরিয়া আসিলে, ফিরিয়া আসিবে লক্ষী ও সরস্বতী।।

ইরানের বুলবুলি কি এলে

বাণী

ইরানের বুলবুলি কি এলে পথ ভুলে
গোলাপের স্বপ্ন ল’য়ে সিন্ধু নদী-কূলে।
চন্দনের গন্ধে কবি মিশালে হেনার সুরভি
তোমার গানে মরুভূমির দীর্ঘশ্বাস দুলে।।
কোন সাকির আঁখির করুণা নাহি পেয়ে
মরুচারী হে বিরহী, এলে মেঘের দেশে ধেয়ে।
	হেথা 	কাজল আঁখি নিরখি’
		তৃষ্ণা তব জুড়াল কি,
লালা ফুলের বেদনা ভুলিবে কি পলাশ ফুলে।।

কাল কাল ক’রে গেল কতকাল

বাণী

কাল কাল ক’রে গেল কতকাল কালের নাহিক শেষ।
কাল যাই যথা বন্ধু রে ল’য়ে যাব আমি সেই দেশ।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’