আমারে ভাসালে অসীম আকাশে

বাণী

ঘুম	:	আমারে ভাসালে অসীম আকাশে তোমারে ভাসানু জলে।
স্বপন	:	মাটির মানুষ বোঝে না বেদনা, বুঝিত দেবতা হলে।।
ঘুম	:	ওগো সুন্দর তুমি ত জানো না
		ভালোবাসার কি নিবিড় বেদনা,
স্বপন	:	জান না ত আমি কাঁদি কত তোমারে কাঁদাই ব’লে।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)

কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়

বাণী

	কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়
	শ্যামের নামে হউক এবার আমার পরিচয়।।
		কলঙ্কিনীর তিলক এঁকে
		কলঙ্ক-চন্দন মেখে'
আমি	শোনাব গো ডেকে ডেকে কলঙ্কেরি জয়, কৃষ্ণ-কলঙ্কেরি জয়।।
	ভুবনে মোর ঠাঁই পেয়েছি ভবন হতে নেমে'
হয়ে	বৈরাগিনী আমার কৃষ্ণ-প্রিয়তমের প্রেমে।
	যারে কৃষ্ণ টানে বিপুল টানে
	সে কি কুলের বাধা মানে
এই	বিশ্ববৃজে ভাগ্যবতী সেই শ্রীমতী হয়।।

মুখের কথায় নাই জানালে

বাণী

মুখের কথায় নাই জানালে, জানিও গানের ভাষায়।
এসেছিলে মোর কাছে হে পথিক, কিসের আশায়।।
	তোমার মনের কামনারে
	রাখলে আড়ালে অন্ধকারে,
আপনি তুমি করলে হেলা আপন ভালোবাসায়।।
সাধ ছিল যে হাত দিয়ে গো পরিয়ে দেবে হার,
দ্বিধা ভরে সেই হাতে হায় করলে নমস্কার।
	নিশুত রাতে ব’লো সুরে
	কেন থাক দূরে দূরে,
কেন এমন গোপন কর বুক-ভরা পিপাসায়।।

মাকে আমার এলাম ছেড়ে মা অভয়া

বাণী

মাকে আমার এলাম ছেড়ে মা অভয়া, মাকে দেখো।
মোর তরে মা কাঁদে যদি তুমি তাকে ভুলিয়ে রেখো।।
	মায়ের যে বুক শূন্য ক’রে 
	এলাম আমি দেশান্তরে
শূন্য করে সেই খালি বুক মহামায়া তুমি থেকো।।

নাটিকাঃ ‘শ্রীমন্ত’

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া

বাণী

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া মজনুঁ গো আঁখি খোলো।
প্রিয়তম! এতদিনে বিরহের নিশি বুঝি ভোর হলো।।
মজনুঁ! তোমার কাঁদন শুনিয়া মরু–নদী পর্বতে
বন্দিনী আজ ভেঙেছে পিঞ্জর বাহির হয়েছে পথে।
আজিদখিনা বাতাস বহে অনুকূল,
		ফুটেছে গোলাপ নার্গিস ফুল,
ওগো বুলবুল, ফুটন্ত সেই গুলবাগিচায় দোলো।।
বনের হরিণ–হরিণী কাঁদিয়া পথ দেখায়েছে মোরে,
হুরী ও পরীরা ঝুরিয়া ঝুরিয়া চাঁদের প্রদীপ ধ’রে।
		আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া
		কি বলিতে চাও, হে পরান–পিয়া!
নাম ধ’রে ডাকো ডাকো মোরে স্বামী
		ভোলো অভিমান ভোলো।।

বাসন্তী রং শাড়ি প’রো খয়ের রঙের টিপ্‌

বাণী

বাসন্তী রং শাড়ি প’রো খয়ের রঙের টিপ্‌।
সাঁঝের বেলায় সাজবে যখন জ্বাল্‌বে যখন দীপ্॥
	দুলিয়ে দিও দোলন্ খোঁপায়
	আমের মুকুল বকুল চাঁপায়,
মেখ্‌লা ক’রো কটি-তটে শিউরে-ওঠা নীপ্॥
কর্ণ-মূলে দুল দুলিও দুলাল চাঁপার কুঁড়ি,
বন্-অতসীর কাঁকন প’রো, কনক-গাঁদার চুড়ি।
	আধখানা চাঁদ গরব ভরে
	হাসে হাসুক আকাশ ’পরে,
তুমি বাকি আধখানা চাঁদ ধরার মণি-দীপ্॥