ঐ সর্ষে ফুলে লুটালো কার

বাণী

ঐ	সর্ষে ফুলে লুটালো কার হলুদ-রাঙা উত্তরী।
	উত্তরী-বায় গো —
ঐ	আকাশ-গাঙে পাল তুলে যায় নীল সে পরীর দূর-তরী।।
তা’র	অবুঝ বীণার সবুজ সুরে
	মাঠের নাটে পুলক পুরে,
ঐ	গহন বনের পথটি ঘু’রে — আস্‌ছে দূরে কচিপাতা দূত্ ওরি।।
	মাঠ-ঘাট তার উদাস চাওয়ায় হুতাশ কাঁদে গগন মগন
	বেণুর বনে কাঁপ্‌চে গো তার দীঘল শ্বাসের রেশটি সঘন।।
তার	বেতস-লতায় লুটায় তনু
	দিগ্বিলয়ে ভুরুর ধনু,
সে	পাকা ধানের হীরক-রেণু
	নীল নলিনীর নীলিম-অণু — মেখেছে মুখ-বুক্‌-ভরি।।

গাগরী ভরণে চলে চপলা

বাণী

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী
যৌবন-লাবনি অঙ্গে বিথারি’।
কাজল-কালো নয়ন গরল মাখানো বাণ,
চকিত চাহনি হানে চতুরা শিকারী।।
চঞ্চল-অঞ্চল উড়ায়ে সাঁজের বায়
আধো আলো আধো ছায়া লুকোচুরি খেলে যায়,
রাঙা তপন হেসে লুকায় লতার পাশে কাঁদে দরশ-ভিখারি।।

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই

বাণী

বিদায়–সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
হে প্রিয়, আমার, যাত্রা–পথ অশ্রু–পিছল ক’রোনা আর।।
		এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
		তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার।।
		হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
		যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাই হৃদি ভালোবাসার।
		তুমি বুঝিবেনা কি অভিমান
		মিলনের মালা করিল ম্লান
উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার।।

ইয়া মোহাম্মদ বেহেশত্‌ হতে

বাণী

ইয়া মোহাম্মদ, বেহেশেত্‌ হতে খোদায় পাওয়ার পথ দেখাও
এই দুনিয়ার দুঃখ থেকে এবার আমায় নাজাত দাও।।
পীর মুর্শীদ পাইনি আমি, তাই তোমায় ডাকি দিবস-যামী,
তোমারই নাম হউক হজরত আমার পরপারের নাও।।
অর্থ-বিভব-যশ-সম্মান চেয়ে চেয়ে নিশিদিন
দুঃখে শোকে জ্ব’লে মরি পরান কাঁদে শ্রান্তিহীন।
আল্লা ছাড়া ত্রিভুবনে, শান্তি পাওয়া যায় না মনে
কোথায় পাব সে আবহায়াত ইয়া নবীজী রাহ্‌ বাতাও।।

বিষ্ণুসহ ভৈরব অপরূপ মধুর

বাণী

বিষ্ণুসহ ভৈরব
অপরূপ মধুর মিলন শম্ভু মাধব।
দক্ষিণে শঙ্কর শ্রীহরি বামে,
মিলিয়াছে যেন রে কানু বলরামে
দেখি এক সাথে যেন দেখি রে
		স্বয়ম্ভু কেশব।।
বিমল চেতনা আনন্দ মদন
শিব-নারায়ণের যুগল মিলন,
এক সাথে ব্রজধাম শিবলোকে
অরূপ স্বরূপ নেহারি চোখে —  
শোন্ রে একসাথে বেণূকার প্রণব।।

দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়

বাণী

দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়
কবে সে ডুবিলি অতল পাথারে উঠিলি না আর হায় মা হায়॥
	মন্থনে শুধু উঠে হলাহল
	শিব নাই পান কে করে গরল
অমৃত ভান্ড লয়ে আয় মাগো জ্বলিয়া মরি বিষের জ্বালায়॥
হরিৎ ক্ষেত্রে সোনার শস্যে দুলে না আর তোর আঁচল
শুকায়েছে মাগো মায়ের স্তন্য গাভীর দুগ্ধ নদীর জল।
	চাই না মোক্ষ চাই মা বাঁচিতে
	অক্ষয় আয়ু লয়ে ধরণীতে
চাই প্রাণ চাই ক্ষুধায় অন্ন মুক্ত আলোকে মুক্ত বায়॥