হোরির রঙ লাগে আজি গোপিনীর তনু মনে

বাণী

হোরির রঙ লাগে আজি গোপিনীর তনু মনে।
অনুরাগে-রাঙা গোরীর বিধু-বদনে॥
ফাগের লালী আনিল কে,
কাজল-কালো চোখে
কামনা-আবির ঝরে রাঙা নয়নে॥
অশোক রঙন ফুলের আভা জাগে ডালিম-ফুলী গালে,
নাচিছে হৃদয় আজি রসিয়ার নাচের তালে।
তাম্বুলীরাঙা ঠোঁটে ফাগুনের ভাষা ফোটে,
(তার) প্রাণের খুশির রং লেগেছে রাঙা বসনে॥

যাবার বেলায় মিনতি আমার

বাণী

যাবার বেলায় মিনতি আমার (শুধু) রাখিও মনে
ডাক দিও গো সাঁঝের ছায়ে সাঙ্গোপনে।।
যখন সন্ধ্যাবধূ আঁকবে রঙের আলপনা
আমার হিয়া দুলবে তখন তোমার প্রদীপ সনে
যখন নিরালাতে গাঁথবে মালা আনমনে।।
(আমি) রইব ঘিরে তোমার মালার গন্ধ সনে (প্রিয় আমার)
আমি দুলিয়ে যাব অলক তব মৃদু পবনে
ওগো একটি মালা গলায় নিও আমার স্মরণে।।

আজ যুগের পরে ঘরে ফিরে

বাণী

	আজ যুগের পরে ঘরে ফিরে মায়ের কথা পড়লো মনে।
	শূন্য ঘরে মন বসে না গুমরে মরে হিয়ার বনে।।
		আজো সে ঘর সবাই আছে,
		মা কেবলই নেই গো কাছে, — 
	ঐ দাওয়া আর ঐ কানাচে আজো মায়ের স্বরটি রনে।।
	যত্ন কারুর সইতে নারি, কণ্ঠ ছিঁড়ে কান্না আসে;
	ওষ্ঠ চেপে যায় না রাখা, রূপ যে তোমার চক্ষে ভাসে!
		পাইনি মাগো সাতটি বরষ
		একটুকু ক্ষীণ স্নেহের পরশ, — 
(ও মা)	‘বুনো’ তোমার হ’ল না বশ চল্‌লো ফিরে ফের বিজনে।
	হার্‌লো স্নেহ বাঁধন-হারার বাঁধ্‌তে নিয়ে ডোর-সৃজনে।।

১. ঘরকে

সদা মন চাহে মদিনা যাবো

বাণী

সদা মন চাহে মদিনা যাবো,
আমার রসূলে আরবী, না হেরে নয়নে,
			কি সুখে গৃহে র’বো।।
মদিনার বুকে রয়েছে ঘুমায়ে আমার বুকের নিধি
তায় বুকে তার মিলাইব বুক পায়ে লুটাইব নিরবধি
ধূলিকণা হবো, আমি ধূলিকণা হবো
(ওগো) নবী পদরেখা যেই পথে আঁকা 
			সেই পথে বিছাইবো।
আবিল হতে দেবো না, মধুর স্বপন তপ্ত বরণ
আবিল হতে দেবো না।
সদা আকুল পিয়াসা জাগে
পদমুখো হ'য়ে কদম রসূল
চুম্‌ দিবো অনুরাগে।
ধূলি হ’বো, আমি সেই পথের ওই ধূলি হ’বো
নবী যে পথ দিয়ে চলেছিলেন
সেই পথের ওই ধূলি হবো
শুধু পায়ের চিহ্ন পরশ পাবো
			সেই পথের ওই ধূলি হ’বো।।
প্রিয় নবীর রাঙা পা দু'খানি
চুমিব সদা দিবস-যামী,
আমার জীবনে লেগেছে নয়নের স্বাদ
জুড়াতে আমার দেখিবো
পোড়া নয়নের মোর আছে বড় খেদ
মিটেনি আমার তৃষা গো
হেথা নয়নের তৃষা অধরে মিটাতে
			এবার আমি ধূলি হ’বো।।

লেটোদলের গান
কীর্তনের সুরে নাত-এ রসুল

কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে

বাণী

কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে পুষ্প-চোর।
ডাকছে পাখি, ‘বৌ গো জাগো’ আর ঘুমায়ো না, রাত্রি ভোর।।
যুঁই-কুঁড়িরা চোখ মেলে চায় চুম্‌কুড়ি দেয় মৌমাছি
শাপলা-বনে চাঁদ ডুবে যায় ম্লান চোখে হায় চায় চকোর।।
ঘোম্‌টা ঠেলি’ কয় চামেলি গোল ক’রো না গুল্‌-ডাকাত,
ঢুলছে নয়ন, দুলছে গলায় বেল-টগরের ছিন্ন ডোর।।
গুন্‌গুনিয়ে মোর আঙিনায় কোন্‌ সতীনের গাইছ গুন্‌
কার মালঞ্চে ফুল ফোটায়ে হুল ফোটালে বক্ষে মোর।।

মানবতাহীন ভারত শ্মশানে

বাণী

মানবতাহীন ভারত শ্মশানে দাও মানবতা হে পরমেশ।
কি হবে লইয়া মানবতাহীন ত্রিশ কোটি মানুষ মেষ।।
		কলের পুতুল এরা প্রাণহীন
		পাষাণ আত্মা বিশ্বাসহীন,
নিজেরে ইহারা চিনে না জানে না, কেমনে চিনিবে নিজের দেশ।।
		ভারত শ্মশানে ফেরে প্রেতপাল,
		নর নাই, শুধু নর-কঙ্কাল;
এই চির অভিশপ্তের মাঝে জাগাও হে প্রভু প্রাণের রেশ।।
		ভায়ে ভায়ে হেথা নাহি প্রেমবোধ,
		কেবলি কলহ, কেবলি বিরোধ;
হে দেশ-বিধাতা, দূর কর এই লজ্জা ও গ্লানি, এ দীন বেশ।।