একডালি ফুলে ওরে সাজাব কেমন ক’রে

বাণী

একডালি ফুলে ওরে সাজাব কেমন ক’রে।
মেঘে মেঘে এলোচুলে আকাশ গিয়াছে ভ’রে।।
কেন দিলে বনমালী এইটুকু বন-ডালি,
সাজাতে কি না সাজাতে কুসুম হইল খালি।
ছড়ায়েছে ফুলদল অভিমানে ডালি ধ’রে।।
কেতকী ভাদর-বধু ঘোমটা টানিয়া কোণে
লুকায়েছে ফণি-ঘেরা গোপন কাঁটার বনে।
কামিনী ফুল মানা মানে না ছুঁতে পড়েছে ঝ’রে।।
গন্ধ-মাতাল চাঁপা দুলিছে নেশার ঝোঁকে,
নিলাজী টগর-বালা চাহিয়া ডাগর চোখে,
দেখিয়া ঝরার আগে বকুল গিয়াছে ম’রে।।

ফুটিল মানস মাধবী কুঞ্জে

বাণী

ফুটিল মানস-মাধবী-কুঞ্জে প্রেম কুসুম পুঞ্জে পুঞ্জে
মাধব, তুমি এসো হে।
হে মধু-পিয়াসী চপল মধুপ, হৃদে এসো হৃদয়েশ হে।
(নীল) মাধব, তুমি এসো হে।।
তুমি আসিলে না বলি’ শ্যামরায়
অভিমানে ফুল লুটায় ধূলায়
মাধব, তুমি এসো হে।।
বনমালী! বনে বন-ফুল হায়
হায়! শুকাইয়া যায়, আঁখিজলে তায়
জিয়াইয়া রাখি কত আর?
এসো গোপন পায়ে! চিতচোর এসো গোপন পায়ে!
যেমন নবনী চুরি করে খেতে, এসো শ্যাম সেই গোপন পায়ে।
যেমন নবনী চুরি করে খেতে এসো হে তেমনি গোপন পায়ে।
না হয় নূপুর খুলিও,
শ্যাম, যমুনায় থির নীরে বাঁশরির তানে না হয় লহরি না তুলিও!
যেমন নীরবে ফোটে ফুল,
যেমন নীরবে রেঙে ওঠে সন্ধ্যা-গগন-কুল —
এসো তেমনি গোপন পায়ে
অনুরাগ-ঘসা হরি-চন্দন শুকায়ে যায় —
আর রহিতে নারি, এসো হৃষিকেশ শ্যামরায়।।১

১. পাঠান্তর :
মম মানস মাধবী লতার কুঞ্জে, এই তো প্রথম মধুপ গুঞ্জে।
(নীল) মাধব তুমি এসো হে, হে মধু পিয়াসী চপল মধুপ
হৃদে এসো হে হৃদয়েশ হে।
তোমার আমার পথ চেয়ে হায় অভিমানে ফুল লুটায় ধূলায়
(নীল) মাধব তুমি এসো হে।।
বনমালী বিনে বন ফুল হার
(হায়) শুকাইয়া যায় আঁখি জলে তায় জিয়াইয়া রাখি কত আর।
চিতচোর এসো গোপন পায়ে
যেমন নবনী চুরি করে খেতে, এসো শ্যাম সেই গোপন পায়ে।।
না হয় নূপুর খুলিও
(শ্যাম) যমুনার থির নীরে বাঁশরির তানে না হয় লহরি না তুলিও।
(যেমন) নীরবে ফোটে ফুল,
যেমন নীরবে রেঙে ওঠে সন্ধ্যা গগন কুল।
এসো তেমনি গোপন পায়ে
অনুরাগ-ঘষা হয়ে চন্দন শুকায়ে যায়।

নাটিকা : ‘ধ্রুব’

মণি-মঞ্জির বাজে অরুণিত চরণে

বাণী

মণি-মঞ্জির বাজে অরুণিত চরণে সখি
রুনু ঝুনু রুনু ঝুনু মণি-মঞ্জির বাজে।
হের গুঞ্জা-মালা গলে বনমালী চলিছে কুঞ্জ মাঝে।।
চলে নওল কিশোর,
হেলে দুলে চলে নওল কিশোর।
হেরি সে লাবনি কৌস্তুভমণি নিষ্প্রভ হ’ল লাজে।
চরণ-নখরে শ্যামের আমার চাঁদের মালা বিরাজে।। সখি গো —
বঁধূর চলার পথে পরান পাতিয়া র’ব চলিতে দলিয়া যাবে শ্যাম;
আমি হইয়া পথের ধূলি বক্ষে লইব তুলি’ চরণ-চিহ্ন অভিরাম।
ভুলে যা তোরা রাধারে কৃষ্ণ-নিশির আঁধারে
হারায়ে সে গেছে চিরতরে,
কালো যমুনার জলে ডুবেছে সে অতল তলে
ভেসে গেছে সে শ্যাম-সাগরে।।
ঐ বাঁশি বাজিছে শোন রাধা ব’লে,
তরুণ তমাল চলে, অঙ্গ-ভঙ্গে শিখি-পাখা টলে।
তা’র হাসিতে বিজলি, কাজল-মেঘে যেন উঠিছে উছলি’।
রূপ দেখে যা দেখে যা,
কোটি চাঁদের জোছনা-চন্দন মেখে যা, মোর শ্যামলে দেখে যা।।

রিমি ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া

বাণী

রিমি 		ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া।
শুনি’		শিহরে কদম, বিদরে কেয়া।।
			ঝিলে শাপলা কমল
			ওই মলিল দল,
		মেঘ-অন্ধ গগন, বন্ধ খেয়া।।
		বারি-ধারে কাঁদে চারিধার
		ঘরে ঘরে রুদ্ধ দুয়ার,
		তেপান্তরে নাচে একা আলেয়া।।
কাঁদে 	চখাচখি, কাঁদে বনে কেকা
		দীপ নিভায়ে কাঁদি আমি একা,
আজ 	মনে পড়ে সেই মন দেয়া-নেয়া।।

বেদনার বেদীতলে পেতেছি আসন

বাণী

বেদনার বেদীতলে পেতেছি আসন, হে দেবতা!
সেথা আর কেহ নাই আমরা দু’জন, কহিব কথা।।
	বাহির ভুবনে তব কত পূজারি
	সেথায় মনের কথা কহিতে নারি,
তাই হৃদয় দেউলে রেখে’ দিয়েছি আগল —
সেথা তোমার চরণ-তলে জানাব গোপন প্রাণের ব্যথা।।
	পূজা-মন্দির হ’তে এসে চুপে চুপে
	হে দেবতা! সাজায়েছি প্রিয় রূপে!
সবার সমুখে তাই মালা দিতে লাজ পাই —
প্রেমের বাসর ঘরে পরাব বরণ-মালা, হব প্রণতা।।

ভোরে স্বপনে কে তুমি দিয়ে দেখা

বাণী

	ভোরে স্বপনে কে তুমি দিয়ে দেখা, লুকালে সহসা
মোর	তপনের রাঙা কিরণ যেন ঘিরিল তমসা।।
	না ফুটিতে মোর কথার কুড়িঁ
	চপল বুলবুলি গেলে উড়ি'
গেলে	ভাসিয়া ভোরের সুর যেন বিষাদ অলসা।।
	জেগে দেখি হায়, ঝরা ফুলে আছে ছেয়ে তোমার পথতল,
	ওগো অতিথি, কাদিছেঁ বনভূমি ছড়ায়ে ফুল দল!
	মুখর আমার গানের পাখি
	নীরব হলো হায় বারেক ডাকি'
যেন	ফাগুনের জোছনা-বর্ষিত রাতে নামিল বরষা।।