সখি দখিনা মলয় ঝিরি ঝিরি বয়

বাণী

‍
সখি দখিনা মলয় ঝিরি ঝিরি বয় কানে কথা কয় ধীরে ধীরে ধীরে।
চোখের মতন কেন ঘোরে অকারণ আমার ফুলবন ঘিরে।।
সখি! ব’লে দিস্ মলয়ারে, যেন সে আসে না
চাঁদের প্রিয়া আমি চৈতালি হেনা,
করুণা যাচে কেন মোর কাছে ফিরে ফিরে।।

নাটক : ‘সর্বহারা’

আবার ভালোবাসার সাধ জাগে

বাণী

আবার ভালোবাসার সাধ জাগে।
সেই পুরাতন চাঁদ আমার চোখে আজ নূতন লাগে।।
	যে ফুল দলিয়াছি নিঠুর পায়ে
	সাধ যায় ধরি তারে বক্ষে জড়ায়ে,
উদাসীন হিয়া হায় রেঙে ওঠে অবেলায় সোনার গোধূলি-রাগে।।
আবার ফাগুন-সমীর কেন বহে,
আমার ভুবন ভরি’ কেঁদে ওঠে বাঁশরি অসীম বিরহে।
	তপোবনের বুকে ঝর্নার সম
	কে এলে সহসা হে প্রিয়তম,
মাথুরের গোকুল সহসা রাঙাইলে রাসের কুঙ্কুম-ফাগে।।

যে রসুল বলতে নয়ন ঝরে

বাণী

যে রসুল বলতে নয়ন ঝরে সেই রসুলের প্রেমিক আমি।
চাহে আমার হৃদয়-লায়লী সে-মজনুঁরে দিবস-যামী।।
	ফরহাদ সে, আমি শিঁরি
	ঐ নামের প্রেমে পথে ফিরি,
ঈমান আমার রইল কিনা জানেন তিনি অন্তর্যামী।।
প্রেমে তাঁর দীওয়ানা হ’য়ে গেল দুনিয়া আখের সবি,
কোথায় রোজা, কোথায় নামাজ, কেবল কাঁদি — ‘নবী নবী।’
	রোজ-কেয়ামত আসবে কবে
	কখন তাঁহার দিদার হবে,
নিত্য আমার রোজ-কেয়ামত বিনে জীবন-স্বামী।।

ঝড়ের বাঁশিতে কে গেলে ডেকে

বাণী

ঝড়ের বাঁশিতে কে গেলে ডেকে হে তরুণ অশান্ত।
গুরু গুরু বাজিল মেঘ-মৃদঙ্গ দুলিয়া উঠিল বন-বনান্ত।।
		সাগর তরঙ্গ মাঝে
		তব মণি-মঞ্জির বাজে,
অম্বর ব্যাপিয়া দোলে ধূলি-গৈরিক তব বসন-প্রান্ত।।
		শাওন-ঘন তব লাবনি
		বিন্দু বিন্দু ঝরি’ ভরিল অবনী,
কৃষ্ণ-চূড়ার রাঙা অঞ্জলি ঝরে চঞ্চল তব চরণে হে কান্ত।।

সপ্ত-সিন্ধু ভরি’ গীত-লহরী

বাণী

‍
সপ্ত-সিন্ধু ভরি’ গীত-লহরী।
হিল্লোলি’ হিল্লোলি’ ওঠে দিবা বিভাবরী।।
	এসো এসো বিরহী
	আমি এনেছি বহি’,
(সেই) সিন্ধুতে সাঁতরিতে সোনার তরী।।
কেন তীরের বালুকা ল’য়ে খেলিছ খেলা,
গাহন করিবে এসো (হের) ফুরায় বেলা।
	বল বল সে কবে
	অভিষেক হবে,
হে বিজয়ী! শুকাইল তীর্থ-জলের গাগরী।।

ওমা তোর চরণে কি ফুল দিলে

বাণী

ওমা	তোর চরণে কি ফুল দিলে পূজা হবে বল।
	রক্ত-জবা অঞ্জলি মোর হ’লো যে বিফল।।
		বিশ্বে যাহা আছে মাগো
		তাতেও পূজা হবে নাকো,
	তাই তো দুঃখে নয়নে মোর শুধুই আসে জল।।
	মনের কোণে অর্ঘ্য রচি’ আঁধার ঘরে একা,
	ডাকলে তোরে সকল ভুলে দিবি না তুই দেখা।
		তখন কি মা দুঃখ-হরা
		শেষ হবে না অশ্রুধারা,
	কি ফুলে তোর পূজা হবে বল — কেন করিস্ ছল।।