ফিরিয়া যদি সে আসে

বাণী

ফিরিয়া যদি সে আসে আমার খোঁজে ঝরা গোলাবে।
আনিয়া সমাধি পাশে আমার বিদায় বাণী শোনাবে।।
	বলিও তারে এখানে এসে
	ডাকে যেন মোর নাম ধ’রে সে,
রবাব যবে কাঁদিবে রমলা সুরের কোমল রেখাবে।।
	তৃষিত মরুর ধুসর গগন
	যেমন হেরে মেঘের স্বপন,
তেমনি দারুণ তিয়াসা লয়ে কাটিল আমার বিফল জীবন —
একটি ফোঁটা আঁখি–জল ঝরে যেন তার হাতের শরাবে।।

ব্রজগোপী খেলে হোরী

বাণী

ব্রজ–গোপী খেলে হোরী
খেলে আনন্দ নবঘন শ্যাম সাথে।
রাঙা অধরে ঝরে হাসির কুম্‌কুম্‌
অনুরাগ–আবীর নয়ন–পাতে।।

পিরীতি–ফাগ মাখা গোরীর সঙ্গে
হোরি খেলে হরি উন্মাদ রঙ্গে।
বসন্তে এ কোন্ কিশোর দুরন্ত
রাধারে জিনিতে এলো পিচ্‌কারী হাতে।।

গোপীনীরা হানে অপাঙ্গ খর শর ভ্রুকুটি ভঙ্গ
অনঙ্গ আবেশে জর জর থর থর শ্যামের অঙ্গ।

শ্যামল তনুতে হরিত কুঞ্জে
অশোক ফুটেছে যেন পুঞ্জে পুঞ্জে
রঙ–পিয়াসি মন ভ্রমর গুঞ্জে
ঢালো আরো ঢালো রঙ প্রেম–যমুনাতে।।

আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে

বাণী

আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে
আশা-প্রদীপ আমি নিশির শীশ-মহলে।।
রাতের কপোলে আমি ছলছল অশ্রুর জল,
আমি ধরণীতে হিম-কণা টলমল, নব দুর্বাদলে।।
নব অরুণোদয়ের আমি ইঙ্গিত
বিহগ-কণ্ঠে আমি জাগাই শুভ-সঙ্গীত।
আমিকনক-কদম তিমির নীপ শাখায়
আমিমধ্যমণি মালিকায়, শ্যাম গগন-গলে।।

মন দিয়ে যে দেখি তোমায় তাই দেখিনে

বাণী

মন দিয়ে যে দেখি তোমায় তাই দেখিনে নয়ন দিয়ে।
পরান আছে বিভোর হয়ে তোমার নামের ধেয়ান নিয়ে॥
	হৃদয় জুড়ে আছ ব’লে,
	এড়িয়ে চলি নানান ছলে।
আছ আমার অন্তরে, তাই অন্তরালে রই লুকিয়ে॥
আমার কথা শুনাই না গো তোমার কথা শোনার আশায়,
ভরে আছে অন্তর মোর বন্ধু তোমার ভালোবাসায়।
	তোমায় ভালো বাসতে পেরে
	পেয়েছি মোর আনন্দেরে
অমর হলাম হে প্রিয় মোর তোমার প্রেমের সুধা পিয়ে॥

কোথায় তখত তাউস কোথায় সে বাদশাহী

বাণী

কোথায় তখত তাউস, কোথায় সে বাদশাহী।
কাঁদিয়া জানায় মুসলিম ফরিয়াদ ইয়া ইলাহী।।
কোথায় সে বীর খালিদ, কোথায় তারেক মুসা
নাহি সে হজরত আলী, সে জুলফিকার নাহি।।
নাহি সে উমর খত্তাব, নাহি সে ইসলামী জোশ
করিল জয় যে দুনিয়া, আজি নাহি সে সিপাহি।।
হাসান হোসেন সে কোথায়, কোথায় বীর শহীদান —
কোরবানি দিতে আপনায় আল্লার মুখ চাহি'।।
কোথায় সে তেজ ঈমান, কোথায় সে শান-শওকত,
তকদীরে নাই সে মাহতাব, আছে প'ড়ে শুধু সিয়াহি।।

সাগর হ’তে চুরি ডাগর তার আঁখি

বাণী

সাগর হ’তে চুরি ডাগর তার আঁখি।
গভীর চাহনীতে করুণা মাখামাখি।।
সফরী সম তাহে ভাসিছে আঁখি-তারা,
তাহারি লোভে যেন উড়িছে ভুরু-পাখি।।
দুলে তরঙ্গ তাহে কভু ঘোর কভু ধীরে,
আঁখির লীলা হেরি’ আঁখিতে আঁখি রাখি।।
ভীরু হরিণ-চোখে অশনি হান কেন,
শারাব-পিয়ালাতে জহর কেন সাকি।।
আঁখির ঝিনুকে কবে ফলিবে প্রেম-মোতি,
ডুবিবে আঁখি-নীরে সেদিনের নাহি বাকী।।