ওরে আলয়ে আজ মহালয়া

বাণী

ওরে	আলয়ে আজ মহালয়া মা এসেছে ঘর।
তোরা 	উলু দে রে, শঙ্খ বাজা, প্রদীপ তুলে ধর্‌।।
		(এলো মা, আমার মা)
		মাকে ভুলে ছিলাম ওরে
		কাজের মাঝে মায়ার ঘোরে,
আজ	বরষ পরে মাকে ডাকার মিলল অবসর।।
	মা ছিল না ব’লে সবাই গেছে পায়ে দ’লে,
	মার খেয়েছি যত তত ডেকেছি মা ব’লে।
		মা এসেছে ছুটে রে তাই 
		ভয় নাইরে আর ভয় নাই,
মা	অভয়া এনেছে রে দশ হাতে তাঁর বর।।

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে বাজিছে শঙ্খ ঐ

বাণী

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে বাজিছে শঙ্খ ঐ
পুণ্য-চিত্ত মৃত্যু তীর্থ-পথের যাত্রী কই।।
আগে জাগে বাধা ও ভয়
ও ভয়ে ভীত নয় হৃদয়
জানি মোরা হবই হব জয়ী।।
জাগায়ে প্রাণে প্রানে নব আশা, ভাষাহীন মুখে ভাষা
হে নবীন আন নব পথের দিশা নিশি শেষের ঊষা
কেহ না দেশে মানুষ তোমরা বৈ।।
স্বর্গ রচিয়া মৃত্যুহীন চল ওরে কাঁচা চল নবীন
দৃপ্ত চরণে নৃত্য দোল জাগায়ে মরুতে রে বেদুইন!
'নাই নিশি নাই' জাগে শুভ্র দীপ্ত দিন।
নাই ওরে ভয় নাই জাগে ঊর্দ্ধে দেবী জননী শক্তিময়ী।।

তুমি কি আসিবে না

বাণী

তুমি কি আসিবে না
বলেছিলে তুমি আসিবে আবার ফুটিবে যবে হেনা।।
	সেদিন ঘুমায়ে ছিল যে মূকুল
	আজি সে পূর্ণ বিকশিত ফুল
সেদিনের ভীরু অচেনা হৃদয় আজি হতে চায় চেনা।।
ঘন পল্লব গুণ্ঠন ঢাকা ছিল সেদিন যে লতা
আজিকে পুষ্প নিবেদন ল’য়ে কহিতে চায় যে কথা।
	প্রদীপ জ্বালায়ে আজি সন্ধ্যায়
	পথ চেয়ে আছি তোমারি আশায়
পূর্ণিমা-তিথি আসিল, হে চাঁদ-অতিথি আসিলে না।।

এলে কি বঁধু ফুল-ভবনে

বাণী

এলে কি বঁধু ফুল-ভবনে।
মেলিয়া পাখা নীল গগনে।।
একা কিশোরী লাজ বিসরি’
তোমারে স্মরি সঙ্গোপনে,
এসো গোধূলির রাঙা লগনে।।
পাতার আসন শাখায় পাত,
বালিকা কলির মালিকা গাঁথ,
দিনু গন্ধ-লিপি ভোর-পবনে।।

চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি মাধবী কানন

বাণী

চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি, মাধবী কানন মধুক্ষরা।
মধুর আনন্দ উল্লাসে রাত্রে ভাসে বসুন্ধরা।।
মুকুল-সৌগন্ধ ভারে দখিনা পবন
নৃত্যের ছন্দে চলে মর্মরিয়া বেণু-বন।
তটিনী ঊর্মির মর্ম নিয়া
শত ভঙ্গে চন্দ্রে নিবেদিয়া —
দুর্নিবার প্রেমোচ্ছ্বাসে কণ্ঠ-কল-গীতে ভরা।।
মধুর পূর্ণিমা নিশি, পূর্ণপাত্র শিরাজি হস্তে যেন সাকি,
জোছনার মদির স্বপ্নে মুকুলিত মাধবীর আঁখি।।
গোলাপের স্নিগ্ধগন্ধে অস্থির অন্তর
আজি রাত্রি হাসিছে সমাহিত প্রসন্ন সুন্দর।
পরিতৃপ্ত চকোরের রুদ্ধ-কণ্ঠ লড়িতে চন্দ্রর
পান করি শারাব গেলাস-ভরা।।

১. সম্ভবত এখানে কবি আরো কিছু শব্দ যুক্ত করতে চেয়েছিলেন।

শ্যাম সুন্দর মন-মন্দিরমে আও

বাণী

শ্যাম সুন্দর মন-মন্দিরমে আও আও।
হৃদয়-কুঞ্জমে রাধা নাম কি বন্‌শী শুনাও শুনাও।।
	বহতা যমুনা নয়ন-নীরকে
	আও শ্যাম ওহি যমুনা তীরপে,
বয়ঠি বনঠন ভক্তি-গোপীন কাহে তুম বিল্‌মাও আও আও।।
চঞ্চল মোহন চরণ-কমল পে নুপুর বাজাও,
প্রীতি চন্দন মনকে মেরে লেকে অঙ্গ সাজাও।
	বিরহ কি মৌর পাপিহা বোলে
	প্রেম কি নাইয়া ডগমগ ডোলে,
আও কানাইয়া রাস রচাইয়া মধুর সুরত দেখ্‌লাও, আও আও।।