নন্দন বন হতে কি গো ডাকো মোরে

বাণী

নন্দন বন হতে কি গো ডাকো মোরে আজো নিশীথে
ক্ষণে ক্ষণে ঘুম হারা পাখি কেঁদে ওঠে করুন-গীতে।।
	ভেঙে যায় ঘুম চেয়ে থাকি
	চাহে চাঁদ ছলছল আখিঁ
ঝরা চম্পার ফুল যেন কে ফেলে চলে যায় চকিতে।।
সহিতে না তিলেক বিরহ ছিলে যবে জীবনের সাতি,
ব'লে যাও আজ কোন অমরায় কেমনে কাটাও দিবারাতি।।
	জীবনে ভুলিলে তুমি যারে
	তারে ভুলে যাও মরনের ওপারে
আঁধার ভুবনে মোরে একাকী দাও মোরে দাও ঝুরিতে।।

মা কবে তোরে পারব দিতে আমার সকল ভার

বাণী

মা	কবে তোরে পারব দিতে আমার সকল ভার।
	ভাবতে কখন পারব মাগো নাই কিছু আমার॥
		কারেও আনিনি মা সঙ্গে ক’রে
		রাখতে নারি কারেও ধ’রে
	তুই দিস্, তুই নিস্ মা হ’রে (আমার) কোথায় অধিকার॥
	হাসি খেলি, চলি, ফিরি ইঙ্গিতে মা তোরই,
মা	তোরই মাঝে লভি, তোরই মাঝে মরি।
		পুত্র-মিত্র-কন্যা-জায়া,
		মহামায়া তোরই মায়া,
মা	তোর লীলার পুতুল আমি ভাবতে দে এবার॥

খুলেছে আজ রঙের দোকান বৃন্দাবনে হোরির দিনে

বাণী

খুলেছে আজ রঙের দোকান বৃন্দাবনে হোরির দিনে।
প্রেম-রঙিলা ব্রজ-বালা যায় গো হেথায় আবির কিনে।।
	আজ গোকুলের রঙ মহলায়
	রামধনু ঐ রঙ পিয়ে যায়
সন্ধ্যা-সকাল রাঙতো না গো ঐ হোরির কুমকুম বিনে।।
রঙ কিনিতে এসে সেথায় রব শশী আকাশ ভেঙে'
এই ফাগুনী ফাগের রাগে অশোক শিমুল ওঠে রেঙে'।
আসে হেথায় রাধা-মাধব এই রঙেরই পথ চিনে।।

বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি

বাণী

বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি
	সেই চির-চেনা সুরে।
যে সুরে বিরহী প্রাণ আজও ঝুরে।।
যে সুরে হৃদয়ে হোরির রং লাগে
ভুলে যাওয়া যৌবন-স্মৃতি মনে জাগে,
আকাশ কাঁদে যে সকরুণ রাগে —
যে সুর ঘুমায়ে আছে প্রিয়ার নূপুরে।।
যে সুর শুনি আজো পল্লীর প্রান্তে
মল্লিকা-কুঞ্জে শ্রান্ত দিনান্তে,
বিরহ বিধূর দূর হারানো দিনের —
ছায়া ফেলে যে-সুর মনের মুকুরে।।

অনাদি কাল হতে অনন্তলোক

বাণী

অনাদি কাল হতে অনন্তলোক গাহে তোমারি জয়।
আকাশ–বাতাস রবি–গ্রহ তারা চাঁদ, হে প্রেমময়।।
সমুদ্র–কল্লোল নির্ঝর–কলতান –
হে বিরাট, তোমার উদার জয়গান;
ধ্যান গম্ভীর কত শত হিমালয় গাহে তোমারি জয়।।
তব নামের বাজায় বীণা বনের পল্লব
জনহীন প্রান্তর স্তব করে, নীরব।
সকল জাতির কোটি উপাসনালয় গাহে তোমারি জয়।।
আলোকের উল্লাসে, আঁধারের তন্দ্রায়
তব জয়গান বাজে অপরুপ মহিমায়,
কোটি যুগ–যুগান্ত সৃষ্টি প্রলয় গাহে তোমারি জয়।।

তোমারে চেয়েছি কত যুগ যুগ ধরি প্রিয়া

বাণী

পুরুষ	:	তোমারে চেয়েছি কত যুগ যুগ ধরি প্রিয়া।
স্ত্রী	:	এসেছি তাই ফিরে পুন পথিকের প্রীতি নিয়া॥
পুরুষ	:	তোমার নয়নে তাই চাহি ফিরে ফিরে,
স্ত্রী	:	হের তব ছবি প্রিয় মোর আঁখি নীরে।
উভয়ে	:	কত জনম শেষে এসেছি ধরণী তীরে
		কার অভিশাপে ছিনু হায় চির পাশরিয়া॥
স্ত্রী	:	আরো প্রিয় আরো হাতে এ নব বাসর রাতে,
পুরুষ	:	যেয়ো না স্বপন সম মিশায়ে নিশীথ প্রাতে।
স্ত্রী	:	তারার দীপালি জ্বলে হের গো গগন তলে
পুরুষ	:	হের শুক্লা একাদশী চাঁদের তরণী দোলে,
উভয়ে	:	মোদের মিলন হেরি নিখিল ওঠে দুলিয়া॥