দিও ফুলদল বিছায়ে পথে

বাণী

দিও ফুলদল বিছায়ে পথে বঁধুর আমার।
পায়ে পায়ে দলি’ ঝরা সে-ফুলদল আজি তার অভিসার।।
	আমার আকুল অশ্রুবারি দিয়ে
	চরণ দিও তার ধোয়ায়ে,
মম পরান পুড়ায়ে জ্বেলো দীপালি তাহার।।

নবীন আশা জাগ্‌ল যে রে আজ

বাণী

নবীন আশা জাগ্‌ল যে রে আজ!
নূতন রঙে রাঙা তোদের সাজ॥
কোন সে বাণী বাজ্‌ল প্রাণের মাঝ
বাজরে বীনা বাজ, দীপক-তানে বাজ
আপন কাজে পাস্‌ রে কেন লাজ?
এগিয়ে গিয়ে ধর্‌ রে নিজের কাজ।
শির্‌ উচিয়ে দাঁড়া জগৎ-মাঝ!
তোদের কণ্ঠে হানে যেন প্রবল বাজ॥
ফেলে দে রে যা কিছু সব জীর্ণ
রিক্ত যা, হবে তা দীর্ণ।
থাকিস্‌ নে বসে কেউ শীর্ণ
দুন্দুভি-ঢাক বাজুক না রে আজ॥

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি

বাণী

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।

বেদনার পারাবার করে হাহাকার

বাণী

বেদনার পারাবার করে হাহাকার
তোমার আমার মাঝে হে প্রিয়তম।
অনন্ত এই বিরহের নাহি পার,
হবে না মিলন আর এ জনম।।
এই বুঝি হায়, বিধির লিখন
দু’কূলে থাকি’ কাঁদিব দু’জন
রাতের চখা-চখীর সম।।
বাতায়নে জ্বালি’ আশা-দীপ
চাহিব তোমার আসার পথে
বিফল মালার মলিন কুসুম
ভাসাব নদীর ভাটীর স্রোতে।
নিশুতি রাতের তারার চোখে,
দলিত ফুলে ঝরা-কোরকে
খুঁজিও আমায় ফিরিয়া যদি
আসি এ-ঘরে প্রিয় মম।।

১. আস হে কভু হে বন্ধু মম

এ আঁখি জল মোছ পিয়া

বাণী

এ আঁখি জল মোছ পিয়া ভোলো ভোলো আমারে।
মনে কে গো রাখে তারে (ওগো) ঝরে যে ফুল আঁধারে।।
ফোটা ফুলে ভরি’ ডালা গাঁথ বালা মালিকা,
দলিত এ ফুল লয়ে, (ওগো) দেবে গো বল কারে।।
স্বপনের স্মৃতি প্রিয় জাগরণে ভুলিও,
ভুলে যেয়ো দিবালোকে রাতের আলেয়ারে।
ঘুমায়েছ সুখে তুমি সে কেঁদেছে জাগিয়া,
তুমি জাগিলে গো যবে সে ঘুমায়ে ওপারে।।

বাদল-মেঘের মাদল-তালে

বাণী

বাদল-মেঘের মাদল-তালে ময়ূর নাচে দু’লে দু’লে।
আকাশে নাচে মেঘের পরী বিজ্‌লি-জরীন্ ফিতা পড়ে খুলে’।।
	কদম্ব-ডালে ঝুলনিয়া ঝুলায়ে
	বনের বেণী কেয়াফুল দুলায়ে,
তাল তমাল বনে কাজল বুলায়ে — বর্ষারানী নাচে এলোচুলে।।
	তরঙ্গ-রঙ্গ নাচে নটিনী
	ভরা-যৌবন ভাদর-তটিনী,
পরি’ ফুলমালা নাচে বনমালা — সবুজ সুধার লহর তু’লে।।