তুমি যে আমার আধখানি চাঁদ

বাণী

তুমি যে আমার আধখানি চাঁদ, আধখানি ঐ আকাশে।
তুমি হাস যবে মোর বুকে থাকি’ ঝলকে জোছনা হাসে।।
	কত বেদনায় মোর হিয়াতল
	ঘন হয়ে আসে যেন দীঘিজল,
তারি বুকে তুমি অমল কমল — দুলিছ দখিনা বাতাসে।।
আমি যে বাঁধিনু খেলাঘরখানি, তুমি যে পুতুল তারি,
বাহিব সেথায় তরণী আমার — তুমি যে অসীম বারি।
	পথগুলি মোর মিশিল যেথায়
	আসিনু ফিরিয়া সেই মোহনায়,
ভালোবাসা তব জীবনে আমার সৌরভ হ’য়ে ভাসে।।

ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা

বাণী

ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা এ শাঙনে।
আজি রহিয়া রহিয়া গুমরায় হিয়া একা এ আঙনে
ঘনিমা ঘনায় ঝাউ-বীথিকায় বেণু-বন-ছায় রে —
ডাহুকীরে খুঁজি’ ডাহুক কাঁদে আঁধার-গহনে।।
কেয়া-বনে দেয়া তুণীর বাঁধিয়া,
গগনে গগনে ফেরে গো কাঁদিয়া।
বেতস-বিতানে নীপ-তরুতলে
শিখী নাচ ভোলে পুছ-পাখা টলে,
মালতী-লতায় এলাইয়া বেণী কাঁদে বিষাদিনী রে —
কাজল-আঁখি কে নয়ন মোছে তমাল-কাননে।।

নাটক : ‘ঝিলিমিলি’

আল্লা নামের দরখ্‌তে ভাই

বাণী

	আল্লা নামের দরখ্‌তে ভাই ফুটেছে এক ফুল।
তাঁরে	কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।।
	পয়গম্বর ফেরেশ্‌তা হুর পরী ফকির ওলি
	খুঁজে জমিন আসমান ভাই দেখতে সে ফুল-কলি,
সে-ফুল	যে দেখেছে সেই হয়েছে বেহেশ্‌তি বুলবুল।।
	আল্লা নামের দরিয়াতে ভাই উঠলো প্রেমের ঢেউ
তারে	কেউ বলে আমিনা দুলাল, মোহম্মদ কয় কেউ,
সে-ঢেউ	যে দেখেছে সে পেয়েছে অকূলের কূল।।
	আল্লা নামের খনিতে ভাই উঠেছে এক মণি
	কোটি কোহিনূর ম্লান হয়ে যায় হেরি’ তার রোশ্‌নি,
সেই	মণির রঙে উঠল রেঙে ঈদের চাঁদের দুল
তারে	কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।।

আয় আয় মোর ময়ূর-বিমান

বাণী

আয় আয় মোর ময়ূর-বিমান আকাশ-নদী বেয়ে।
ফুল ফোটানো হাওয়ায় ভেসে চাঁদের আলোয় নেয়ে।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (স্বপনপরীর গান)

অনেক ছিল বলার যদি সেদিন

বাণী

অনেক ছিল বলার, যদি সেদিন ভালোবাস্‌তে গো।
পথ ছিল গো চলার, যদি দু’দিন আগে আস্‌তে গো।।
আজিকে মহাসাগর–স্রোতে, চলেছি দূর পারের পথে
ঝরা–পাতা হারায় যথা, সেই আঁধারে ভাস্‌তে গো।।
গহন রাতি ডাকে আমায় এলে তুমি আজ্‌কে
কাঁদিয়ে গেলে হায় গো আমার বিদায়–বেলার সাঁঝ্‌কে।
আস্‌তে যদি হে অতিথি
ছিল যখন শুক্লা তিথি
ফুটত চাঁপা, সেদিন যদি চৈতালী–চাঁদ হাস্‌তে।।

খুলেছে আজ রঙের দোকান বৃন্দাবনে হোরির দিনে

বাণী

খুলেছে আজ রঙের দোকান বৃন্দাবনে হোরির দিনে।
প্রেম-রঙিলা ব্রজ-বালা যায় গো হেথায় আবির কিনে।।
	আজ গোকুলের রঙ মহলায়
	রামধনু ঐ রঙ পিয়ে যায়
সন্ধ্যা-সকাল রাঙতো না গো ঐ হোরির কুমকুম বিনে।।
রঙ কিনিতে এসে সেথায় রব শশী আকাশ ভেঙে'
এই ফাগুনী ফাগের রাগে অশোক শিমুল ওঠে রেঙে'।
আসে হেথায় রাধা-মাধব এই রঙেরই পথ চিনে।।