রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর

বাণী

রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর।
প্রশান্ত সন্ধ্যার উদার শান্তি দাও —
শ্রান্ত মনের ভার হর, হে গিরিধর।।
যে নিবিড় সমাধির গভীর আনন্দে
হিমালয় লীলায়িত নীরব ছন্দে,
সেই মহাযোগে কর মোরে মগ্ন —
যে মহাভাবে ভোর মৌন নীলাম্বর।। 
অপগত-দুখশোক নিশীথ সুষুপ্তির মাঝে,
নিথর সিন্ধুর অতল তলে যে শান্ত বিরাজে।
যে সুধা লভিয়া ঋষি মধুছন্দা
আনিল বেদবাণী অলকানন্দা
অন্তরে বাহিরে সেই অমৃত দাও —
কর পুরুষোত্তম অজর অমর।।

পরদেশি বঁধুয়া এলে কি এতদিনে

বাণী

পরদেশি বঁধুয়া, এলে কি এতদিনে
আসিলে এতদিন কেমনে পথ চিনে।।
তোমারে খুঁজিয়া কত রবি-শশী
অন্ধ হইল প্রিয় নিভিল তিমিরে
তব আশে আকাশ-তারা দ্বীপ জ্বালি'
জাগিয়াছে নিশি ঝুরিয়া শিশিরে।
শুকায়েছে স্বরগ দেবতা তোমা বিনে।।
কত জনম ধরি' ছিলে বল পাসরি'
এতদিনে বাঁশরি বাজিল কি বিপিনে।।

বরষা ঐ এলো বরষা

বাণী

বরষা ঐ এলো বরষা
আলোর ধারায় জল ঝরঝরি’ অবিরল
ধূসর নীরস ধরা হলো সরসা।।
ঘন দেয়া দমকে দামিনী চমকে
ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর ঝমঝম ঝমকে
মনে পড়ে সুদূর মোর প্রিয়তমকে
মরাল মরালীরে হেরি সহসা।।

সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই

বাণী

সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই ওগো বারিতালা।
তারপরে দরুদ পড়ি মোহাম্মদ সাল্লে আলা।।
সকল পীর আর দেবতা-কুলে
সকল গুরুর চরণ-মূলে,
জানাই সালাম হস্ত তুলে
দোওয়া কর তোমরা সবে, হয় যেন গো মুখ উজালা।
সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই ওগো খোদাতা’লা।।

কেন মেঘের ছায়া আজি চাঁদের চোখে

বাণী

কেন মেঘের ছায়া আজি চাঁদের চোখে?
মোর বুকে মুখ রাখি ঝড়ের পাখি সম কাঁদে ওকে?
গভীর নিশীথের কন্ঠ জড়ায়ে
শ্রান্ত কেশভার গগনে ছড়ায়ে,
হারানো প্রিয়া মোর এলো কি লুকায়ে
		আমার একা ঘরে ম্লান আলোকে॥
গঙ্গায় তারি চিতা নিভেছে কবে,
মোর বুকে সেই চিতা আজো জ্বলে নীরবে;
স্মৃতির চিতা তার নিভিবে না বুঝি আর
		কোন সে জনমে কোন সে লোকে॥

ঝরাফুল-বিছানো পথে এসো

বাণী

ঝরাফুল-বিছানো পথে এসো বিজন-বাসিনী।
জোছনায় ছড়ায়ে হাসি এসো সুচারু-হাসিনী।।
	এসো জড়ায়ে তব তনুতে
	গোধূলী রামধনুতে,
পাপিয়া-পিক-কূজনে গাহিয়া মধু-ভাষিণী।।
	ছন্দ-দোদুল্ গতি
	এসো নোটন্ কপোতী,
বহায়ে মনের মরুতে আনন্দ-মন্দাকিনী।।