কোন্‌ দূরে ও-কে যায় চ’লে যায়

বাণী

কোন্‌ দূরে ও-কে যায় চ’লে যায়, সে ফিরে ফিরে চায় করুণ চোখে।
তার	স্মৃতি মেশা হায়, চেনা-অচেনায় তারে দেখেছি কোথায়
					যেন সে-কোন্ লোকে।।
শুনি	স্বপ্নে তারি যেন বাঁশি মন-উদাসী
তারি	বার্তা আসে নব মধু-মাসে, পলাশ আশোকে।।
	কৃষ্ণচূড়া তার মালা লুটায় — চৈত্র-শেষে বনের ধূলায়
	কান্না-বিধুর তার ভৈরবী সুর প্রভাতী তারায় অশ্রু ঘনায়,
					চির-বিরহী চিনি ওকে।।

রাঙামাটির পথে লো

বাণী

	রাঙামাটির পথে লো মাদল বাজে, বাজে বাঁশের বাঁশি,
	বাঁশি বাজে বুকের মাঝে লো, মন লাগে না কাজে লো,
	রইতে নারি ঘরে ওলো প্রাণ হলো উদাসী লো।।
	মাদলীয়ার তালে তালে অঙ্গ ওঠে দুলে লো,
	দোল লাগে শাল পিয়াল বনে, নোটন খোঁপার ফুলে লো,
	মহুয়া বনে লুটিয়ে পরে মাতাল চাঁদের হাসি লো।।
	চোখে ভালো লাগে যাকে, তারে দেখবো পথের বাঁকে,
তার 	চাঁচড় কেশে বেঁধে দেবো ঝুমকো জবার ফুল
তার 	গলার মালার কুসুম কেড়ে করব কানের দুল।
তার 	নাচের তালের ইশারাতে বলবো ভালোবাসি লো।।

ফুলবনে যদি বসন্ত এলো

বাণী

ফুলবনে যদি বসন্ত এলো
মনবনে নাহি এলো,
কেন মনবনে নাহি এলো।।
বিবশা এ হিয়া উঠিছে রাঙিয়া
মধুর পরশন মাগিয়া,
ফুরাবে সবই কি, বিফল-চাওয়া চাহিয়া।।
তৃষিত এ প্রাণ চাহে যাহারে
গগন-পারে খোঁজে তাহারে,
অ-ধরা কি রবে পিয়া রে।।

কোন্ ফুলেরি মালা দিই তোমার গলে

বাণী

পুরুষ	:	কোন্ ফুলেরি মালা দিই তোমার গলে লো প্রিয়া
		বুলবুল গাহিয়া উঠে তব ফুলেল পরশ নিয়া॥
স্ত্রী	:	হাতে দিও হেনার গুছি কেশে শিরিন ফুল।
		কর্ণে দিও টগর কুঁড়ি অপ্‌রাজিতার দুল।
		বুন্দকলির মালা দিও নাই পেলে বকুল
		ফুলের সাথে হৃদয় দিতে হয় না যেন ভুল॥
পুরুষ	:	কোন ভূষণে রানী ও রূপের করি আরতি
		হয় সোনার বরণ মলিন হেরি তোমার রূপের জ্যোতি।
স্ত্রী	:	তোমার বাহুর বাঁধন প্রিয় সেই তো গলার হার
		হাতে দিও মিলন রাখি খুলবে না যা আর।
		কানে দিও কানে কানে কথার দু’টি দুল
		নিত্য নূতন ভূষণ দিও প্রেমের কামনার॥
পুরুষ	:	কোন নামেতে ডাকি সাধ না মেটে কোনো নামে
		তব নাম-গানে সব কবি হার মানে ধরাধামে।
স্ত্রী	:	সুখের দিনে সখি ব’লো সেই তো মধুর নাম
		দুখের দিনে বন্ধু ব’লে ডেকো অবিরাম।
		নিরালাতে রানী বলো শ্রবণ অভিরাম
		বুকে চেপে প্রিয়া ব’লো সেই তো আমার নাম॥

নাটিকাঃ ‘বিয়ে বাড়ি’

ঘন-ঘোর-মেঘ-ঘেরা দুর্দিনে ঘনশ্যাম

বাণী

ঘন-ঘোর-মেঘ-ঘেরা দুর্দিনে ঘনশ্যাম ভূ-ভারত চাহিছে তোমায়।
ধরিতে ধরার ভার নাশিতে এ হাহাকার আরবার এসো এ ধরায়।।
		নিখিল মানবজাতি কলহ ও দ্বন্দ্বে
		পীড়িত শ্রান্ত আজি কাঁদে নিরানন্দে,
শঙ্খপদ্ম হাতে এ ঘোর তিমির-রাতে তিমির-বিদারী এসো অরুণ-প্রভায়।।
বিদূরিত কর এই নিরাশা ও ভয়, মানুষে মানুষে হোক প্রেম অক্ষয়।
কলিতে দলিতে এসো এই দুখ-পাপ-তাপ আন বর সুন্দর, শেষ হোক অভিশাপ,
গদা ও চক্র করে অরিন্দম এসো, হত-মার দুর্বল মাগিছে সহায়।।

আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়

বাণী

আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়।
দখিনার দোল্ লেগেছে দোলন্-চাঁপায়।।
	দোলে আজ দোল্-ফাগুনে	
	ফুল-বাণ আঁখির তূণে,
দুলে আজ বিধুর হিয়া মধুর ব্যথায়।।
দুলে আজ শিথিল বেণী, দুলে বধূর মেখলা
দুলে গো মালার পলা জড়াতে বঁধুর গলা!
	মাধবীর দোলন্-লতায়
	দোয়েলা দোল্ খেয়ে যায়,
দুলে যায় হল্‌দে পাখি সোঁদাল-শাখায়।।
বিরহ-শীর্ণা নদীর আজিকে আঁখির কূলে
ভরে জল কানায় কানায় জোয়ারে উঠ্‌ল দু’লে।
	দুলে বসন্ত-রানী
	কুসুমিতা বনানী
পলাশ রঙন দোলে নোটন-খোঁপায়।।
দোলে হিন্দোল-দোলায় ধরণী শ্যাম-পিয়ারী,
দুলিছে গ্রহ-তারা আলোক-গোপ-ঝিয়ারি।
	নীলিমার কোলে বসি’
	দুলে কলঙ্কী-শশী,
দোলে ফুল-উর্বশী ফুল-দোলায়।।