আনারকলি! আনারকলি!

বাণী

আনারকলি! আনারকলি!
স্বপ্নে দেখে’ কোন্ ডালিম-কুমারে
এসেছিলে রেবা ঝিলামের’ পারে,
দিতে তব রাঙা হৃদয়ের অঞ্জলি।।
মরুর মণিকা বাদশাহী নওরোজে
এসেছিলে কোন্ হারানো হিয়ার খোঁজে,
তব রূপ হেরি’ হেরেমের দীপ-মালা উঠেছিল চঞ্চলি’।।
পতঙ্গ সম পাপড়ির পাখা মেলি’ আনারকলি গো — 
সেলিমের অনুরাগ-মোমের প্রদীপে পড়িলে ঢলি’ গো — 
মিলায়েছে মাটিতে মোগলের মসনদ, আনারকলি।
তুমি আজো দুলিতেছ ফুলের হাসিতে
বিরহীর বাঁশিতে, আনারকলি;
তব জীবন্ত সমাধির বিগলিত পাষাণে
আজও প্রেম-যমুনার ঢেউ ওঠে উথলি’।।

সঙ্গীতালেখ্য: ‘পঞ্চাঙ্গনা’

পিউ পিউ পিউ বোলে পাপিয়া

বাণী

পিউ পিউ পিউ বোলে পাপিয়া
বুকে তারি পিয়ারে চাপিয়া।।
বাতাবি নেবুর ফুলেলা কুঞ্জে
মাতাল সমীরণ প্রলাপ গুঞ্জে
ফুলের মহলায় চাঁদিনী শিহরায়
নদীকূলে ঢেউ ওঠে ছাপিয়া।।
এমনি নেবু ফুল এমনি মধুরাতে
পরাতো বঁধু মোর বিনোদ খোঁপাতে,
বাতায়নে পাখি করিত ডাকাডাকি
মনে পড়ে তায় উঠি কাঁপিয়া।।

নিশীথ হয়ে আসে ভোর

বাণী

নিশীথ হয়ে আসে ভোর, বিদায় দেহ প্রিয় মোর।
রজনী-গন্ধ্যার বনে হের গুঞ্জরিছে ভ্রমর।।
হের ঐ তন্দ্রা ঢুলু ঢুল্, জড়ায়ে হাতে এলোচুল।
বধূ যায় সিনান-ঘাটে পথে লুটায় বসন-আকুল।।
খোল খোল বাহুর মালা, মোছ মোছ প্রিয়া আঁখি,
শোন্ কুঞ্জ-দ্বারে তব কুহু মুহু মুহু ওঠে ডাকি’।
হের লো, শিয়রে তব প্রদীপ হয়ে এলো ম্লান,
দাঁড়াল রাঙা ঊষা ঐ রঙের সাগরে করি’ স্নান।
আকাশ-অলিন্দে কাঁদে পাণ্ডুর-কপোল শশী,
শুকতারা নিবু-নিবু ঐ, মলয়া উঠে উছসি,।
কাঁদে রাতের আঁধার মোর বুকে মুখ রাখি’।।

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে

বাণী

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে
এই বিশ্বের সকল ধ্বনির মাঝে।।
জীবের ভাষায় পাখির মধুর গানে,
সাগর রোলে নদীর কলতানে
সমীরণের মরমরে শুনি সকাল সাঁঝে।।
আমার প্রতি নিঃশ্বাসে মা রক্তধরার মাঝে
প্রাণের অনুরণনে তোর চরণধ্বনি বাজে।
গভীর প্রণব ওঙ্কারে তোর কালি (মা গো মহাকালী)
সেই নৃত্যলীলার স্তবগাথা গান চরণতলে নটরাজে।।

তোমার বিবাহে আপনার হাতে

বাণী

তোমার বিবাহে আপনার হাতে (প্রিয়)
	আমি দেব হার পরায়ে।
মোর চোখে যদি জল করে টলমল
	আমি দু’হাতে দেব গো সরায়ে।।

নাটিকা : ‘লায়লী-মজনু’

খোদায় পাইয়া বিশ্ব বিজয়ী ছিল একদিন যারা

বাণী

খোদায় পাইয়া বিশ্ব বিজয়ী ছিল একদিন যারা
খোদায় ভুলিয়া ভীত পরাজিত আজ দুনিয়ায় তারা।।
	খোদার নামের আশ্রয় ছেড়ে
	ভিখারির বেশে দেশে দেশে ফেরে
ভোগ বিলাসের মোহে ভুলে, হায় নিল বন্ধন কারা।।
খোদার সঙ্গে যুক্ত সদাই ছিল যাহাদের মন
দুঃখ রোগে শোকে অটল যাহারা রহিত সর্বক্ষণ।
	এসে শয়তান ভোগ বিলাসের
	কাড়িয়া লয়েছে ঈমান তাদের
খোদায় হারায়ে মুসলিম আজ হয়েছে সর্বহারা।।