ইরানের রূপ-মহলের শাহজাদী শিঁরি

বাণী

ইরানের রূপ-মহলের শাহজাদী শিঁরি! জাগো জাগো শিঁরি।
‘প্রিয়া জাগো’ ব’লে ফরহাদ ডাকে শোনো আজো রাতে ধীরি ধীরি।।
তুমি ধরা দিবে তারে বলেছিলে, বে-দরদি,
যদি পাহাড় কাটিয়া আনিতে পারে সে নদী।
হের গো শিলায় শিলায় আজি উঠিয়াছে ঢেউ
সেথা তব মুখ ছাড়া নাহি আর কেউ,
প্রেমের পরশে যেন মোমের পুতুল হয়েছে পাষাণ-গিরি।।
গলিল পাষাণ, তুমি গলিলে না ব’লে —
যে প্রেমিক মরেছিল তোমার পাষাণ-প্রতিমার তলে,
সেই বিরহীর রোদন যেন গো উঠিছে ভুবন ঘিরি’।।

১. আধো

নাটকঃ ‘মদিনা’

গিরিধারী গোপাল ব্রজ গোপ দুলাল

বাণী

গিরিধারী গোপাল ব্রজ গোপ দুলাল
অপরূপ ঘনশ্যাম নব তরুণ তমাল॥
বিশাখার পটে আঁকা মধুর নিরুপম
কান্ত ললিতার শ্রীরাধা প্রীতম
রুক্মিণী-পতি হরি যাদব ভূপাল॥
যশোদার স্নেহডোরে বাঁধা ননীচোর
নন্দের নয়ন-আনন্দ-কিশোর
শ্রীদাম-সুদাম-সখা গোঠের রাখাল॥
কংস-নিসূদন কৃষ্ণ মথুরাপতি
গীতা উদ্‌গাতা পার্থসারথি
পূর্ণ ভগবান বিরাট বিশাল॥

পাপে তাপে মগ্ন আমি জানি

বাণী

	পাপে তাপে মগ্ন আমি জানি জানি তবু।
	পাপের চেয়ে তোমার ক্ষমা অনেক অধিক প্রভু।।
	শিশু যেমন সারা বেলায় ধূলা মাখে
	খেলার শেষে সন্ধ্যাবেলায় মাকে ডাকে,
(ওগো)	ধূলায় মলিন সে ছেলেরে মা কি ত্যাজে কভু।।
	তোমার ক্ষমা যে দেখেছে হে মোর প্রেমময়,
	অশেষ পাপে পাপী হলেও করে না সে ভয়।
	মুছবে তুমি তুমিই যদি মাখাও ধূলি
	কাঁদাও যদি তুমি নেবে কোলে তুলি,
	আমি তাই করি যা করাও তুমি হে লীলাময় প্রভু।।

আর কিছু ত’ জানি না মা

বাণী

	আর কিছু ত’ জানি না মা ঐ চরণে শরণ দে মা।
(আমি)	জানি শুধু তুই মা আমার আপন জনে চায়না কে মা।।
		রজনী আঁধার হলে
		রাখিস মা ফের চরণ তলে,
	দেখিস্‌ যেন অবোধ শিশু বেঘোরে প্রাণ হারায় না মা।।
		সারা দিনের খেলার শেষে
		ফিরবো যখন মলিন বেশে,
		(ফিরবো যখন কেঁদে হেসে)
	আদর ক’রে কোলে নিতে তুই ছাড়া বল্‌ আছে কে মা।।

প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই

বাণী

প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই
পরি চাঁপা ফুলের শাড়ি খয়েরিটিপ,
জাগি বাতায়নে জ্বালি আঁখি প্রদীপ,
মালা চন্দন দিয়ে মোর থালা সাজাই।।
তুমি আসিবে বলে সুদূর অতিথি
জাগে চাঁদের তৃষা লয়ে কৃষ্ণা তিথি,
কভু ঘরে আসিকভু বাহিরে চাই।।
আজি আকাশে বাতাসে কানাকানি,
জাগে বনে বনে নবফুলের বাণী,
আজি আমার কথা যেন বলিতে পাই।।

উদার ভারত! সকল মানবে

বাণী

উদার ভারত! সকল মানবে দিয়াছ তোমার কোলে স্থান।
পার্সি-জৈন-বৌদ্ধ-হিন্দু খ্রিস্টান-শিখ-মুসলমান।।
তুমি পারাবার, তোমাতে আসিয়া মিলেছে সকল ধর্ম জাতি;
আপনি সহিয়া ত্যাগের বেদনা সকল দেশের করেছ জ্ঞাতি;
নিজেরে নিঃস্ব করিয়া, হয়েছ বিশ্ব-মানব-পীঠস্থান।।
নিজ সন্তানে রাখি নিরন্ন, অন্য সবারে অন্ন দাও,
তোমার স্বর্ণ রৌপ্য মানিকে বিশ্বের ভান্ডার ভরাও;
আপনি মগ্ন ঘন তমসায় ভুবনে করিয়া আলোক দান।।
বক্ষে ধরিয়া কত সে যুগের কত বিজেতার গ্লানির স্মৃতি,
প্রভাত আশায় সর্বসহা মা যাইপছ দুখের কৃষ্ণাতিথি,
এমনি নিশীথে এসেছিলে বুকে আসিবে আবার সে ভগবান।।