ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি

বাণী

ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি?
ভোরের হাওয়ায় কান্না পাওয়ায় তব ম্লান ছবি
		নীরব কেন কবি।।
যে বীণা তোমার কোলের কাছে
বুক-ভরা সুর ল’য়ে জাগিয়া আছে,
তোমার পরশে ছড়াক্‌ হরষে
আকাশে-বাতাসে তা’র সুরের সুরভি
		নীরব কেন কবি।।
তোমার যে প্রিয়া গেল বিদায় নিয়া অভিমানে রাতে —
গোলাপ হয়ে কাঁদে তাহারই কামনা উদাস-প্রাতে।
ফিরে যে আসিবে না ভোলো তাহারে
চাহ তাহার পানে দাঁড়ায়ে যে দ্বারে,
অস্ত-চাঁদের বাসনা ভুলাতে
অরুণ-অনুরাগে উদিল রবি
		নীরব কেন কবি।।

রিম্‌ঝিম্‌ রিম্‌ঝিম্‌ ঝরে শাওন ধারা

বাণী

রিম্‌ঝিম্‌ রিম্‌ঝিম্‌ ঝরে শাওন ধারা।
গৃহকোণে একা আমি ঘুমহারা।।
	ঘুমন্ত ধরা মাঝে
	জল-নূপুর বাজে,
বিবাগী মন মোর হল পথহারা।।
চেনা দিনের কথা ভেজা সুবাসে,
অতীত স্মৃতি হ’য়ে ফিরে ফিরে আসে।
এমনি ছলছল ভরা সে-বাদরে
তোমারে পাওয়া মোর হয়েছিল সারা।।

ঐ সর্ষে ফুলে লুটালো কার

বাণী

ঐ	সর্ষে ফুলে লুটালো কার হলুদ-রাঙা উত্তরী।
	উত্তরী-বায় গো —
ঐ	আকাশ-গাঙে পাল তুলে যায় নীল সে পরীর দূর-তরী।।
তা’র	অবুঝ বীণার সবুজ সুরে
	মাঠের নাটে পুলক পুরে,
ঐ	গহন বনের পথটি ঘু’রে — আস্‌ছে দূরে কচিপাতা দূত্ ওরি।।
	মাঠ-ঘাট তার উদাস চাওয়ায় হুতাশ কাঁদে গগন মগন
	বেণুর বনে কাঁপ্‌চে গো তার দীঘল শ্বাসের রেশটি সঘন।।
তার	বেতস-লতায় লুটায় তনু
	দিগ্বিলয়ে ভুরুর ধনু,
সে	পাকা ধানের হীরক-রেণু
	নীল নলিনীর নীলিম-অণু — মেখেছে মুখ-বুক্‌-ভরি।।

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়

বাণী

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়
আজিকে যে রাজাধিরাজ কা'ল সে ভিক্ষা চায়।।
অবতার শ্রীরামচন্দ্র যে জানকীর পতি
তারও হলো বনবাস রাবণ করে দুর্গতি।
আগুনেও পুড়িল না ললাটের লেখা হায়।।
স্বামী পঞ্চ পাণ্ডব, সখা কৃষ্ণ ভগবান
দুঃশাসন করে তবু দ্রৌপদীর অপমান
পুত্র তার হলো হত যদুপতি যার সহায়।।
মহারাজ হরিশচন্দ্র, রাজ্য দান ক'রে শেষ
শ্মশান-রক্ষী হয়ে লভিল চণ্ডাল-বেশ
বিষ্ণু-বুকে চরণ-চিহ্ন, ললাট-লেখা কে খণ্ডায়।।

হে মদিনার নাইয়া

বাণী

হে মদিনার নাইয়া!
ভব-নদীর তুফান ভারি কর মোরে পার
তোমার দয়ায় ত’রে গেল লাখো গুনাহ্‌গার॥
পারের কড়ি নাই হে আমার হয়নি নামাজ রোজা
কূলে এসে বসে আছি নিয়ে পাপের বোঝা
(আমায়) ‘পার কর ইয়া রসুল’ বলে কাঁদি জারে জার॥
তোমার নাম গেয়েছি শুধু কেঁদে সুব্‌হ শাম
তরিবার মোর নাই ত’ পুঁজি বিনা তোমার নাম।
হাজরো বার দরিয়াতে ডুবে যদি মরি
ছাড়ব না মোর পারের আশা তোমার চরণ-তরী
সবার শেষে পার যেন হয় এই খিদ্‌মতগার॥

অচেনা সুরে অজানা পথিক

বাণী

অচেনা সুরে অজানা পথিক
		নিতি গেয়ে যায় করুণ গীতি।
শুনিয়া সে গান দু’লে ওঠে প্রাণ
		জেগে ওঠে কোন্ হারানো স্মৃতি॥
ঘুরিয়া মরে উদাসী সে সুর
সাঁঝের কূলে বিষাদ-বিধুর,
নীড়ে যেতে হায় পাখি ফিরে চায়,
		আবেশে ঝিমায় কুসুম-বীথি॥