স্বপনে আজ মোহাম্মদ দেখা দিয়েছে

বাণী

স্বপনে আজ মোহাম্মদ দেখা দিয়েছে।
কোরানের মালা দিয়ে পরান নিয়েছে-
		গো আমার পরান নিয়েছে ৷
	গায়ে তাঁর নূরের চাদর
	দীনের ঘোম্‌টা মুখের উপর,
রূপে তাঁর সারা ভুবন উজল হয়েছে ৷৷
	নিজের পায়ে আঁধার-পথে
	জ্বেলে দিয়ে আমার হৃদে,
রূপ দেখায়ে মন ভুলায়ে পাগল করেছে।
	তাঁরই নামের তস্‌বি হয়ে’
	নাইবা বনে থাকবো গিয়ে,
পেয়েছেন পথের দেখা ব'লে দিয়েছে।

গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী

বাণী

	গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী।
	দূরে দাঁড়ায়ে দেখে ভয়-ভীতা মেদিনী।।
	দেখায় মেঘের ঝাপি তুলিয়া
	ফনা তুলি’ বিদ্যুৎ-ফণি ওঠে দুলিয়া,
	ঝড়ের তুব্‌ড়িতে বাজে তার অশান্ত রাগিণী।।
	মহাসাগরে লুটায় তার সর্পিল অঞ্চল
	দিগন্তে দুলে তার এলোকেশ পিঙ্গল
	ছিটায় মন্ত্রপূত ধারাজল অবিরল তন্বী-মোহিনী।।
	অশনি-ডমরু ওঠে দমকি’
	পাতালে বাসুকি ওঠে চমকি’
তার 	ডাক শুনে ছুটে আসে নদীজল যেন পাহাড়িয়া নাগিনী।।

কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ

বাণী

		কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ।
ওরে		আমায় নিয়ে যাও রে নদী সেই সে কন্যার দেশ রে।।
		পরনে তার মেঘ-ডম্বুর উদয়-তারার শাড়ি
ওরে		রূপ নিয়ে তার চাঁদ-সুরুজে করে কাড়াকাড়ি রে
আমি		তারি লাগি রে
		আমি তারি লাগি বিবাগী ভাই আমার চির-পথিক বেশ।।
		পিছ্‌লে পড়ে চাঁদের কিরণ নিটোল তারি গায়ে
ওরে		সন্ধ্যা-সকাল আসে তারি’ আল্‌তা হতে পায়ে রে।
ও সে		রয় না ঘরে রে
ও সে		রয় না ঘরে ঘুরে’ বেড়ায় ময়নামতীর চরে
তা’রে		দেখ্‌লে মরা বেঁচে ওঠে জ্যান্ত মানুষ মরে রে
ও সে		জল-তরঙ্গে বাজে রে তার সোনার চুড়ির রেশ।।

এসো মা ভারত-জননী আবার

বাণী

এসো	মা ভারত-জননী আবার জগৎ-তারিণী সাজে।
	রাজরানী মা’র ভিখারিনী বেশ দেখে প্রাণে বড় বাজে॥
		শিশু-জগতেরে মায়ের মতন,
		তুমি মা প্রথম করিলে পালন,
আজ	মাগো তোরই সন্তানগণ কাঁদিছে দৈন্য-লাজে॥
		আঁধার বিশ্বে তুমি কল্যাণী
		জ্বালিলে প্রথম জ্ঞান-দীপ আনি;
	হইলে বিশ্ব-নন্দিতা রানী নিখিল নর-সমাজে॥
		দেখা মা পুন সে অতীত মহিমা,
		মুছে দে ভীরুতা গ্লানির কালিমা,
	রাঙায়ে আবার দশদিক-সীমা দাঁড়া মা বিশ্ব-মাঝে॥

যায় ঢু’লে ঢু’লে এলোচুল কে বিষাদিনী

বাণী

যায় ঢু’লে ঢু’লে এলোচুল কে বিষাদিনী।
তার চোখে চেয়ে চেয়ে ম্লান হয়ে যায় গো চাঁদিনী।।
তার সোনার অঙ্গ অনাদরে হয়েছে কালি
হায় ধূলায় লুটায় নবীন যৌবন ফুলের ডালি,
কোন্ মদির আঁখির খেয়েছে তীর বন-হরিণী।।
তার চটুল চরণ নাচত যেন নোটন-কপোতী
মরুর বুকে ফুল ফোটাত তার দোদুল গতি,
আজ ধীরে সে যায় যেন শীতের মৃদুল তটিনী।।

জাগো জাগো গোপাল নিশি হ’ল ভোর

বাণী

জাগো	জাগো গোপাল নিশি হ’ল ভোর,
কাঁদে		ভোরের তারা হেরি’ তোর ঘুম-ঘোর॥
		দামাল ছেলে তুই জাগিস্‌নি তাই
বনে		জাগেনি পাখি ঘুমে মগ্ন সবাই ,
		বাতাস নিশ্বাস ফেলে খুঁজিছে বৃথাই
তোর		বাঁশরি লুটায়ে কাঁদে আঙিনায় মোর॥
তুই		উঠিস্‌নি ব’লে দেখ রবি ওঠেনি
ঘরে		আনন্দ নাই, বনে ফুল ফোটেনি।
		ধোয়াবে বলিয়া তোর মুখের কাজল
		থির হ’য়ে আছে ঘাটে যমুনার জল,
		অঞ্চল-ঢাকা মোর, ওরে চঞ্চল,
আমি		চেয়ে আছি কবে ঘুম ভাঙিবে তোর॥