জয় কৃষ্ণ-ভিখারিনী তুলসী

বাণী

জয় কৃষ্ণ-ভিখারিনী তুলসী হরি-শিব-বিহারিণী তুলসী।
জয় কল্পতরু সমা বিষ্ণুর মনোরমা কলির কলুষ-বারিণী তুলসী।।
	অভিষ্ট-দায়িণী তুমি বসুধায়
	শ্রেষ্ঠ পুষ্প তুমি দেব-পূজায়,
তপে ও জপে তুমি মন্ত্র-শক্তি রূপা ভক্তি-প্রেম সঞ্চারিণী তুলসী।।
	তীর্থসমূহ মাগো তোমার কাছে
	আত্মশুদ্ধি তরে শরণ যাচে,
সকল কর্ম হয় নিষ্ফল ত্রিলোকে তোমার প্রসাদ বিনা তারিণী তুলসী।।
	শুদ্ধ সত্ত্বা রূপা তপস্যা মগ্না
	বিরাজ দীনা বেশে মন্দির-লগ্না,
হে হরি-বল্লভে, তব দীন পল্লবে অনন্ত নারায়ণ-ধারিণী তুলসী।।

‘শ্রীতুলসী-বন্দনা’

পালিয়ে তুমি বেড়াবে কি এমনিভাবে

বাণী

পালিয়ে তুমি বেড়াবে কি এমনিভাবে
এমনি ক'রে জনম কি মোর কেঁদেই যাবে।।
	ওগো চপল বনের পাখি
	ধরা তুমি দেবে না কি,
অন্তরালে থাকি' শুধু গান শোনাবে।।
কেন এলে নিঠুর তুমি পথিক হাওয়া
তোমার স্বভাব ফুল ফুটিয়েই ঝরিয়ে যাওয়া
	হে বিরহী, লীলা-চত্বর,
	অশ্রু কি মোর এতই মধুর!
কবে এসে আমার অভিমান ভাঙাবে।।

তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা

বাণী

তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা
তোর গাঁয়েরি নদীর ঘাটে বাঁধলাম এ মোর না।।
	তোর চরণের আলতা লেগে
	পরান আমার উঠল রেঙে (রে)
ও তোর বাউরি কেশের বিনুনীতে জড়িয়ে গেল পা।
তোর বাঁকা ভুরু বাঁকা আঁখি বাঁকা চলন, সই,
দেখে পটে আঁকা ছবির মতন দাঁড়িয়ে পথে রই।
	উড়ে এলি’ দেশান্তরী
	তুই কি ডানা-কাটা পরী (রে)
তুই শুকতারারি সতিনী সই সন্ধ্যাতারার জা’।।

খর রৌদ্রের হোমানল জ্বালি’

বাণী

খর রৌদ্রের হোমানল জ্বালি’ তপ্ত গগনে জাগি।
রুদ্র তাপস সন্ন্যাসী বৈরাগী।।
	সহসা কখন বৈকালি ঝড়ে
	পিঙ্গল মম জটা খু’লে পড়ে,
যোগী শঙ্কর প্রলয়ঙ্কর জাগে চিত্তে ধেয়ান ভাঙি’।।
	শুষ্ক কণ্ঠে শ্রান্ত ফটিক জল
	ক্লান্ত কপোত কাঁদায় কানন-তল,
চরণে লুটায় তৃষিতা ধরণী আমার শরণ মাগি’।।

১. মম চিত্তে মাতে নৃত্যে যোগী শঙ্কর ধ্যান ভাঙি।

পায়েলা বোলে রিনিঝিনি

বাণী

পায়েলা বোলে রিনিঝিনি।
নাচে রূপ-মঞ্জরি শ্রীরাধার সঙ্গিনী।।
	ভাব-বিলাসে
	চাঁদের পাশে,
ছড়ায়ে তারার ফুল নাচে যেন নিশীথিনী।।
নাচে উড়ায়ে নীলাম্বরী অঞ্চল,
মৃদু মৃদু হাসে আনন্দ রাসে শ্যামল চঞ্চল।
কভু মৃদুমন্দ
কভু ঝরে দ্রুত তালে সুমধুর ছন্দ,
বিরহের বেদনা মিলন-আনন্দ —
ফোটায় তনুর ভঙ্গিমাতে ছন্দ-বিলাসিনী।।

খাতুনে জান্নাত ফাতেমা জননী

বাণী

খাতুনে জান্নাত ফাতেমা জননী — বিশ্ব-দুলালী নবী নন্দিনী,
মদিনাবাসিনী পাপতাপ নাশিনী উম্মত-তারিণী আনন্দিনী।।
	সাহারার বুকে মাগো তুমি মেঘ-মায়া,
	তপ্ত মরুর প্রাণে স্নেহ-তরুছায়া;
মুক্তি লভিল মাগো তব শুভ পরশে বিশ্বের যত নারী বন্দিনী।।
হাসান হোসেনে তব উম্মত তরে, মাগো
কারবালা প্রান্তরে দিলে বলিদান,
বদলাতে তার রোজ হাশরের দিনে
চাহিবে মা মোর মত পাপীদের ত্রাণ।
	এলে পাষাণের বুকে চিরে নির্ঝর সম,
	করুণার ক্ষীরধারা আবে-জমজম;
ফিরদৌস হ’তে রহমত বারি ঢালো সাধ্বী মুসলিম গরবিনী।।