ফিরদৌসের শিরনি এলো

বাণী

	ফিরদৌসের শিরনি এলো ঈদের চাঁদের তশতরিতে।
	লুট ক’রে নে বনি আদম ফেরেশ্‌তা আর হুরপরীতে।।
		চোখের পানি হারাম আজি
		চলুক খুশির আতস বাজি,
(তার)	মউজ লাগুক দূর সেতারা জোহরা আর মোশ্‌তরিতে।।
	দুশমনে আজ দোস্ত মেনে নে তারে তুই বক্ষে টেনে
	হস্‌নে নারাজ দরাজ হাতে দৌলত তোর বিলিয়ে দিতে।।

বন-মল্লিকা ফুটিবে যখন গিরি-ঝর্নার তীরে

বাণী

বন-মল্লিকা ফুটিবে যখন গিরি-ঝর্নার তীরে।
সেই চৈতালি গোধূলি-লগনে এসো তুমি ধীরে ধীরে — 
				গিরি-ঝর্নার তীরে।।
বনের কিশোর এসো সেথা হেসে হেসে
সাজায়ো আমায় বন-লক্ষ্মীর বেশে,
ধোওয়াব তোমার চরণ-কমল বিরহ-অশ্রু নীরে।।
ঘনায়ে গহন সন্ধ্যার মায়া আসিও সোনার রথে,
অতি সুকোমল শিঁরিশ, কুসুম বিছায়ে রাখিব পথে।
মালতী-কুঞ্জে ডাকিবে পাপিয়া পাখি
তুমি এসে বেঁধো আলোক-লতার রাখি,
ভ্রমরের সম পিপাসিত মোর আঁখি কাঁদিবে তোমারে ঘিরে।।

কেন তুমি কাঁদাও মোরে হে মদিনাওয়ালা

বাণী

কেন তুমি কাঁদাও মোরে, হে মদিনাওয়ালা!
অবরোধবাসিনী আমি কুলের কুলবালা।।
ঈদের চাঁদের ইশারাতে কেন ডাক নিঝুম রাতে,
হাসিন ইউসুফ! জুলেখারে কত দিবে জ্বালা।।
একি লিপি পাঠালে নাথ কোরানের আয়াতে —
পড়তে গিয়ে অশ্রু-বাদল নামে আঁখি-পাতে।
বাজিয়ে শাহাদতের বাঁশি কেন ডাক নিত্য আসি';
হাজার বছর আগে তোমায় দিয়েছি তো মালা।।

ছেড়ে দাও মোরে আর হাত ধরিও না

বাণী

ছেড়ে দাও মোরে আর হাত ধরিও না
প্রেম যারে দিতে পারিলে না
	তারে আর কৃপা করিও না।।
আমি  করুনা চাহিনি কভু কারো কাছে
বহু লোক পারে, তব কৃপা যারা যাচে
যারে  হৃদয়ে দিলে না ঠাঁই
	তার তরে কাদিঁও আখিঁজল ঝুরিও না।।
ভুল করেছিনু যেথা শুধু বিষ অসুন্দরের ভিড়,
সেই   পৃথিবীতে কেঁদেছি খুজিঁয়া প্রেম-যমুনার তীর।
যার তরণী ভাসিল বিরহের পারাবারে
পিছু ডেকে আর ফিরাতে চেয়ো না তারে
আমারে পাষাণ-বিগ্রহ ক'রে
	আর মালা পরিও না।।

তোমার বিনা-তারের গীতি

বাণী

তোমার বিনা-তারের গীতি বাজে আমার বীণা-তারে
রইল তোমার ছন্দ-গাথা গাঁথা আমার কণ্ঠ-হারে।।
কি কহিতে চাও হে গুণী, আমি জানি আমি শুনি
কান পেতে রই তারার সাথে তাই তো দূর গগন-পারে।।
পালিয়ে বেড়াও উদাস হাওয়া গোপন কথার ফুল ফুটিয়ে গো
আমি তারে মালা গেঁথে লুকিয়ে রাখি বক্ষে নিয়ে গো।
হয়তো তোমার কথার মালা, কাঁটার মত করবে জ্বালা
সেই জ্বালাতেই জ্বলবে আমার প্রেমের শিখা অন্ধকারে।।

একলা গানের পায়রা উড়াই

বাণী

একলা গানের পায়রা উড়াই।
সে কাছে নাই গো সে কাছে নাই।।
চাঁদ ভালো লাগে না, তার চেনা কার যেন ইহুদী মাক্‌ড়ি,
সে কেন কাছে নাই, অভিমানে ঝ’রে যায় গোলাপের পাপ্‌ড়ি।
ফিরোজা আকাশের জাফ্‌রানি জোছনায়
		মন ভরে না, কি যেন চাই গো কি যেন চাই।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‘কাফেলা’