আমি হেরে এবার নেবো লো

বাণী

ঘুমপরী	:	আমি হেরে এবার নেবো লো সই বঁধুর গলার হার।
স্বপনপরী	:	হার মেনে তুই জিত্‌বি ওলো হবে না তা আর।।

নাটক : ‘মধুমালা’

বঁধু মিটিলনা সাধ ভালবাসিয়া

বাণী

বঁধু		মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়।
তাই		আবার বাসিতে ভালো আসিব ধরায়।।
		আবার বিরহে তব কাঁদিব
		আবার প্রণয়–ডোরে বাঁধিব,
শুধু		নিমেষেরি তরে আঁখি দুটি ভ’রে —
		তোমারে হেরিয়া ঝ’রে যাব অবেলায়।।
যে		গোধূলি–লগ্নে নববধূ হয় নারী,
সেই		গোধূলি–লগ্নে বঁধু দিল আমারে গেরুয়া শাড়ি।
বঁধু		আমার বিরহ তব গানে
		‌‌সুর হয়ে কাঁদে প্রাণে প্রাণে,
		আমি নিজে নাহি ধরা দিয়ে —
		সকলের প্রেম নিয়ে দিনু তব পায়।।

বসিয়া বিজনে কে গো বিমনা

বাণী

	বসিয়া বিজনে কে গো বিমনা।
	নিরালায় বাসনা-তুলিকায় আঁকিছ কোন্ আল্‌পনা।।
			অনামিকায় কভু জড়াও অঞ্চল
		(কভু)	ভাসাও স্রোতে মালার ফুলদল,
কভু	আনমনে চাই গগন-কোণে যেন কোন্ উদাসী কামনা।।
পলক নাই চোখে, মুখে নাহি বাণী,
ফেলে যাওয়া যেন, কার বাঁশরিখানি।
	তাহারি আগমনী অন্তরে শুনি’
	উছলি’ উঠিবে মৌন সুরধুনী,
				বাজিবে মধু-মুরছনা।।

ওরে ব্যাকুল বেণুবন

বাণী

	ওরে ব্যাকুল বেণুবন!
	তোকে দিয়েই হতো শ্যামের মুরলি মোহন।।
	তোর শাখাতে লেগে আছে শ্যামের হাতের ছোঁওয়া।
	আজো কি তার পরশ-লোভে ডালগুলি তার নোওয়া।
	আমার পড়লো মনে তোরে দেখে ও-বেণুবন পড়লো মনে,
	বৃন্দাবনে যে সাতটি সুর বাজাত শ্যাম বাঁশির সনে।।
	তার প্রথম সুরে আয় আয় ব’লে গোপিকায় ডাকে দূরে,
	তার দ্বিতীয় সুরে বহে যমুনা উজান ব্রজকুমারী ঝুরে।
	তার তৃতীয় সুরে সেই সুরে বাজে তার পায়ের নূপুর
	সেই সুর শুনে নাচে বনের ময়ূর।
	শুনি চতুর্থ সুর গুরু-গম্ভীর রোল,
	মেঘে মৃদঙ্গ বাজে লাগে ঝুলনায় দোল্।
	পঞ্চম সুরে তার কোয়েলা বোলে
	ব্রজ-বসন্ত আসে মাতে হোরির রোলে।
	ষষ্ঠ সুরে কেঁদে ডাকে সে রাধায়
	সপ্তমে নিষাদ সে ভুবন কাঁদায়।
আখর	: [নিষাদ সে তাই সাধ মিটিল না
	ডাকিয়া বাঁশির সুরে বধে হরিণীরে — নিষাদ সে
	তারে ভালোবেসে সাধ মেটে না — নিষাদ সে।।]

নূরজাহান! নূরজাহান!

বাণী

নূরজাহান, নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে, ইরানি গুলিস্তান।।
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর–লতা
শিঁরি ফরহাদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি’
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান।।
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম, সে যে রাজাধিরাজ –
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে কলঙ্ক লোক–লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু প্রেমিকের ইতিহাসে,
দেবে চিরদিন নন্দন–লোক–চারী
তব সেই কলঙ্ক সে প্রেমের সম্মান।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‌‘পঞ্চাঙ্গনা’

হে মাধব হে মাধব হে মাধব

বাণী

হে মাধব, হে মাধব, হে মাধব!
তোমারেই প্রাণের বেদনা কব তোমারি শরণ লব।।
সুখের সাগরে লহরি সমান
হিল্লোলি’ উঠে যেন তব নমি গান
দুঃখে শোকে কাঁদে যবে প্রাণ যেন নাম না ভুলি তব।।
তুমি ছাড়া বিশ্বে কাহারও কাছে
এ প্রাণ যেন কিছু নাহি যাচে।
যেনতোমারি অধিক কেহ প্রিয় নাহি হয়
বিশ্ব ভুবনে যেন হেনি তুমি-ময়
কলঙ্ক-লাঞ্ছনা যত বাধা ভয় তব প্রেমে সকলি স’ব।।