আসিলে কে অতিথি সাঁঝে

বাণী

আসিলে কে অতিথি সাঁঝে।
পূজার ফুল ঝরে বন-মাঝে।।
দেউল মুখরিত বন্দনা-গানে,
আকাশ আঁখি চাহে তব পানে
দোলে ধরাতল, দীপ-ঝলমল
নৌবতে ভূপালি বাজে।।

আঁধার রাতের তিমির দুলে আমার মনে

বাণী

আঁধার রাতের তিমির দুলে আমার মনে।
দুলে গো আমার ঘুমে -  জাগরণে॥
হতাশ-ভরা বাতাস বহে,
আমার কানে কি কথা কহে;
দিনগুলি মোর যায় যে ঝ’রে যায় —
ওগো যায় যে ঝ’রে ঝরা পাতার সনে॥
গিয়াছে চলিয়া সুখে যাহারা ছিল গো সাথি,
গিয়াছে নিভিয়া জ্বলিতেছিল যে শিয়রে বাতি।
স্মৃতির মালার ফুল শুকাইয়া,
একে একে হায় পড়িছে ঝরিয়া;
বিদায়-বেলা শুনিয়ে বাঁশি ক্ষণে ক্ষণে॥

লায়লী লায়লী ভাঙিয়ো না ধ্যান মজনুর

বাণী

লায়লী! লায়লী! ভাঙিয়ো না ধ্যান মজনুর এ মিনতি।
লায়লী কোথায়? আমি শুধু দেখি লা এলা'র জ্যোতি।।
পাথর খুঁজিয়া ফিরিয়াছি প্রিয়া প্রেম-দরিয়ার কূলে,
খোদার প্রেমের পরশ-মানিক পেলাম কখন ভুলে।
	সে মানিক যদি দেখ একবার
	মজনুরে তুমি চাহিবে না আর
জুলেখা-ইয়ুসুফ লাজ মানে হেরি' তাহার খুব -সুরতি।।
মজনুরে ও যে লায়লী ভোলায় সে যে কত সুন্দর
বুঝিবে লায়লী যদি তুমি তারে নেহার এক নজর।
	সাধ মিটিবে না হেথা ভালোবেসে,
	চল চল প্রিয়া লা এলা'র দেশে
নিত্য মিলনে ভুলিব আমরা এই বিরহের ক্ষতি।।

মুখের কথায় নাই জানালে

বাণী

মুখের কথায় নাই জানালে, জানিও গানের ভাষায়।
এসেছিলে মোর কাছে হে পথিক, কিসের আশায়।।
	তোমার মনের কামনারে
	রাখলে আড়ালে অন্ধকারে,
আপনি তুমি করলে হেলা আপন ভালোবাসায়।।
সাধ ছিল যে হাত দিয়ে গো পরিয়ে দেবে হার,
দ্বিধা ভরে সেই হাতে হায় করলে নমস্কার।
	নিশুত রাতে ব’লো সুরে
	কেন থাক দূরে দূরে,
কেন এমন গোপন কর বুক-ভরা পিপাসায়।।

বরষ গেল আশ্বিন এলো উমা এলো কই

বাণী

বরষ গেল, আশ্বিন এলো, উমা এলো কই
শূন্য ঘরে কেমন করে পরান বেঁধে রই।।
‌	ও গিরিরাজ! সবার মেয়ে
	মায়ের কোলে এলো ধেয়ে,
আমারই ঘর রইল আঁধার, আমি কি মা নই?
নাই শাশুড়ি ননদ উমার, আদর করার নাই (কেহ)
মা অনাদরে কালী সেজে বেড়ায় নাকি তাই।
	মোর গৌরী বড় অভিমানী,
	সে বুঝবে না মার প্রাণ-পোড়ানী;
আনতে তারে সাধতে হবে তার যে স্বভাব ঐ।।

উত্তরীয় লুটায় আমার ধানের ক্ষেতে

বাণী

		উত্তরীয় লুটায় আমার
		ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়।
আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥
		ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে
		আমার রবি-ফসল দুলে,
নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥

হৈমন্তী