আমার নয়নে নয়ন রাখি

বাণী

আমার নয়নে নয়ন রাখি' পান করিতে চাও কোন অমিয়।
আছে এ আঁখিতে উষ্ণ আঁখি-জল মধুর সুধা নাই পরান-প্রিয়।।
	ওগো ও শিল্পী, গলাইয়া মোরে
	গড়িতে চাহ কোন মানস-প্রতিমারে,
ওগো ও পূজারি, কেন এ আরতি জাগাতে পাষাণ- প্রণয়-দেবতারে।
এ দেহ-ভৃঙ্গারে থাকে যদি মদ ওগো প্রেমাষ্পদ, পিও গো পিও।।
	আমারে কর গুণী, তোমার বীণা
	কাঁদিব সুরে সুরে, কণ্ঠ-লীনা
	আমার মুখের মুকুরে কবি
হেরিতে চাহ মোরে কর গো চন্দন তপ্ত তনু তব শীতল করিও ।। 

১. এই অনুচ্ছেদটি গ্রামোফোন রেকর্ডে গাওয়া হয়নি।

সখি আর অভিমান জানাব না

বাণী

সখি আর অভিমান জানাব না বাস্‌ব ভালো নীরবে।
যে চোখের জলে গল্‌ল না, (তার) মুখের কথায় কি হবে॥
অন্তর্যামী হয়ে অন্তরে মোর
	দিবা-নিশি রহে যে চিত-চোর,
অন্তরে মোর কোন্ সে-ব্যথা বোঝে না সে, কে ক’বে॥
সখি এবার আমার প্রেম নিবেদন গোপনে,
সূর্যমুখী চাহে যেমন তপনে।
	কুমুদিনী চাঁদে ভালোবাসে
	তাই চিরদিন অশ্রুর সায়রে ভাসে,
চির জীবন জানি কাঁদিতে হবে তাহারে চেয়েছি যবে॥

১. শেষ পাঁচ পঙক্তির পাঠ্যন্তর :
সখি	এবার আমার প্রেম বিবেদন আপন মনে গোপনে,
	সূর্যমুখী চাহে যেমন চাওয়ার নেশা তপনে।
	কুমুদিনী চাঁদে ভালোবাসে
	তাই সে অশ্রু সায়রে ভাসে,
	হাজার জনম কাঁদিতে হইবে তাহারে চেয়েছি যবে॥

গুঞ্জা মালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা

বাণী

গুঞ্জা মালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা
বনমালী এসো দুলায়ে বনমালা॥
তব পথে বকুল ঝরিছে উতল বায়ে
দলিয়া যাবে বলে অকরুণ রাঙা পায়ে
রচেছি আসন তরুণ তমাল ছায়ে
পলাশ শিমুলে রাঙা প্রদীপ জ্বালা॥
ময়ূরে নাচাও তুমি তোমারি নূপুর তালে
বেঁধেছি ঝুলনিয়া ফুলেল কদম ডালে
তোম বিনা বনমালী বিফল এ ফুল দোল
বাঁশি বাজাবে কবে উতলা ব্রজবালা॥

পরম পুরুষ সিদ্ধ যোগী মাতৃভক্ত যুগাবতার

বাণী

পরম পুরুষ সিদ্ধ যোগী মাতৃভক্ত যুগাবতার,
পরমহংস শ্রীরামকৃষ্ণ লহ প্রণাম নমস্কার।
	জাগালে ভারত শ্মশান তীরে
	অশিব-নাশিনী মহাকালীরে
মাতৃনামের অমৃত-নীরে বাঁচালে মৃত ভারত আবার।।
সত্যযুগের পুণ্য স্মৃতি আনিলে কলিতে তুমি তাপস,
পাঠালে ধরার দেশে দেশে ঋষি পূর্ণতীর্থ-বারি-কলস।
	মন্দিরে মসজিদে গির্জায়
	পূজিলে ব্রহ্মে সমশ্রদ্ধায়,
তব নাম মাখা প্রেম-নিতেকনে ভরিয়াছে তাই ত্রিসংসার।।

নীল সরসীর জলে চতুর্দশীর চাঁদ

বাণী

নীল সরসীর জলে চতুর্দশীর চাঁদ ডোবে আর উঠে গো।
এলোকেশে ঢেউয়ে জড়াজড়ি ক’রে পড়ে লুটে গো।।
	নীল-শাড়ি-বিজড়িত কিশোরী
	কলসী ল’য়ে ফেরে সাঁতরি’
চাঁদ ভেবে মুদিত কুঁড়ি হেসে ওঠে ফুটে গো।।
	সরসির পড়শি পলাশ, পারুল
	সুরভিত সমীরণ হাসিয়া আকুল,
	কলষে কঙ্কণে রিনিঝিনি সুর
	বাজে-তরঙ্গে সজল বিধুর,
কমলিনী হরষে ঢ’লে পড়ে পরশে অধর-পুটে গো।।

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না

বাণী

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না।
মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে —
সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।।
তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে
যে মরিয়া জুড়ায়েছে, ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।