বেণুকা ও-কে বাজায় মহুয়া বনে

বাণী

বেণুকা ও-কে বাজায় মহুয়া বনে।
কেন ঝড় তোলে তার সুর আমার মনে।।
বলে আয় সে দুরন্তে সখি
আমারে কাঁদাবে সারা জনম ও-কি,
সে কি ভুলিতে তারে দেবে না জীবনে।।
সখি, ভাল ছিল তার তীর-ধনুক নিঠুর,
বাজে আরো সকরুণ তা’র বেণুকার সুর।
সখি, কেন সে বন-বিলাসী
আমারই ঘরের পাশে বাজায় বাঁশি,
আছে আরো কত দেশ, কত নারী ভুবনে।।

নাচন লাগে ঐ তরুলতায় পাতায় ফুলে

বাণী

নাচন লাগে ঐ তরুলতায় পাতায় ফুলে।
ফুল-সৌখিন দখিন হাওয়া নাচে দু’লে দু’লে।।
নাচে অথির-মতি রঙিন-পাখা প্রজাপতি,
বন দুলায়ে মন ভুলায়ে, ঝিল্লি-নূপুর বাজায়ে
নাচে বনে নিশীথিনী এলোচুলে।।
মৃণাল-তনু কমল নাচে এলোখোঁপায় নীল জলে,
ঝুমুর ঝুমুর ঘুমুর বাজে নির্ঝর পাষাণ-তলে।
বাদ্ল হাওয়ায় তাল্‌বনা ঐ বাজায় চটুল্ দাদ্‌রা তাল,
নদীর ঢেউ-এ মৃদঙ বাজে, পান্‌সি নাচে টাল্‌মাটাল্।
নেচে চেনে গ্রহতারা দিশাহারা নটরাজের নাট-দেউলে।।

আঁধার রাতে দেবতা মোর

বাণী

আঁধার রাতে দেবতা মোর এসে গেছে চ’লে
রেখে গেছে চরণ-চিহ্ন শূন্য গৃহ-তলে।।
	জেগে দেখি বুকের কাছে
	পূজার মালা প’ড়ে আছে
ফেলে গেছে মালাখানি বুঝি খানিক প’রে গলে।।
তার অঙ্গের সুবাস ভাসে মন্দির-অঙ্গনে,
তাহার ছোঁওয়া লেগে আছে কুমকুম-চন্দনে।
	অপূর্ণ মোর প্রণামখানি
	দেবো কবে নাহি জানি,
সে আস্‌বে বুঝি বাসনা-ধূপ পুড়িয়া শেষ হলে’।।

পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে

বাণী

পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে।
‘পিউ পিউ পিউ কাঁহা’ পাপিয়া পিয়া বোলে।।
সে পিয়া পিয়া সুরে বাদল ঝুরে, নদী-তরঙ্গ দোলে।
কূলে কূলে কুলু কুলু নদী-তরঙ্গ দোলে।
ফুটিল দল মেলি’ কেতকী, বেলি, শিখী পেখম খোলে।
দু’লে দু’লে দু’লে নেচে’ শিখী পেখম খোলে।।
পিয়ায় যা’রা নাহি পেল হেথায়, তাহারা কি
এসেছে ধরায় পুন হইয়া পাপিয়া পাখি?
দেখিয়া ঘরে ঘরে তরুণীর কালো আঁখি
‘পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা’ আজিও উঠিছে ডাকি’!
পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে।।

ব্রজগোপী খেলে হোরী

বাণী

ব্রজ–গোপী খেলে হোরী
খেলে আনন্দ নবঘন শ্যাম সাথে।
রাঙা অধরে ঝরে হাসির কুম্‌কুম্‌
অনুরাগ–আবীর নয়ন–পাতে।।

পিরীতি–ফাগ মাখা গোরীর সঙ্গে
হোরি খেলে হরি উন্মাদ রঙ্গে।
বসন্তে এ কোন্ কিশোর দুরন্ত
রাধারে জিনিতে এলো পিচ্‌কারী হাতে।।

গোপীনীরা হানে অপাঙ্গ খর শর ভ্রুকুটি ভঙ্গ
অনঙ্গ আবেশে জর জর থর থর শ্যামের অঙ্গ।

শ্যামল তনুতে হরিত কুঞ্জে
অশোক ফুটেছে যেন পুঞ্জে পুঞ্জে
রঙ–পিয়াসি মন ভ্রমর গুঞ্জে
ঢালো আরো ঢালো রঙ প্রেম–যমুনাতে।।

চাঁপা রঙের শাড়ি আমার

বাণী

চাঁপা রঙের শাড়ি আমার যমুনা-নীর ভরণে গেল ভিজে।
ভয়ে মরি আমি, ঘরে ননদী, কহিব শুধাইলে কি যে।।
	ছি ছি হরি, একি খেল লুকোচুরি
	একেলা পথে পেয়ে কর খুন্‌সুড়ি,
রোধিতে তব কর ভাঙিল চুড়ি — ছলকি গেল কলসি যে।।
	ডাঁশা কদম্ব দিবে বলি হরি
	ডাকিলে-তরুতলে কেন ছল করি’,
কাঁচা বয়সী পাইয়া শ্রী হরি — মজাইলে, মজিলে নিজে।।