আমার আনন্দিনী উমা আজো এলো না

বাণী

(আমার) 	আনন্দিনী উমা আজো এলো না তার মায়ের কাছে।
		হে গিরিরাজ! দেখে এসো কৈলাসে মা কেমন আছে॥
			মোর মা যে প্রতি আশ্বিন মাসে
			মা মা ব’লে ছুটে আসে,
		‘মা আসেনি’ ব’লে আজও ফুল ফোটেনি লতায় গাছে ॥
		তত্ত্ব-তলাশ নিইনি মায়ের তাই বুঝি মা অভিমানে,
		না এসে তার মায়ের কোলে ফিরিছে শ্মশান মশানে।
			ক্ষীর নবনী ল’য়ে থালায়
			কেদে ডাকি, ‘আয় উমা আয়’।
		যে কন্যারে চায় ত্রিভুবন তাকে ছেড়ে মা কি বাঁচে॥

আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা

বাণী

আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা পিচ্‌কারিতে
আজ শ্যামে লো করব ঘায়েল আবির হাসির টিট্‌কারিতে।।
রঙে রাঙা হয়ে শ্যাম আজ হবে যেন রাই কিশোরী
যমুনা জল লাল হবে আজ আবির ফাগের রঙে ভরি
কপালে কলঙ্ক মোদের ধুয়ে যাবে রঙ ঝারিতে।।
গুরুজনার গঞ্জনা আজ
সইব না লো মানব না লাজ
কূল ভুলে গোকুল পানে ভেসে যাব রাঙা গীতে।।

আজি পিয়াল ডালে বাঁধো বাঁধো ঝুলনা

বাণী

আজি পিয়াল ডালে বাঁধো বাঁধো ঝুলনা।
পড় ধানী শাড়ি, মেঘ-রঙ ওড়না।।
জলদ-তাল বাজে শ্রাবণ-মেঘে
তরুরে জড়ায়ে দোলে বন-লতা পবন বেগে
মনের মাঝে দোলে মিলন-বিরহ-দোলনা।।
শান্ত আকাশে আজি বেদনা ঘনায়
কত কি বলিতে চায় শ্রাবণ-ধারায়,
(তার) তবু মনের কথা বলা হ'ল না।।
তমাল-কুঞ্জে চল চল দুলিতে,
গাহ ঝুলনের গান ব্রজ-বুলিতে,
আজি আসে মনে বৃন্দাবনের তুলনা।।

রেশ্‌মি চুড়ির শিঞ্জিনীতে রিমঝিমিয়ে

বাণী

রেশ্‌মি চুড়ির শিঞ্জিনীতে রিমঝিমিয়ে মরম কথা
পথের মাঝে চম্‌কে’ কে গো থম্‌কে’ যায় ঐ শরম-নতা।।
	কাঁখ-চুমা তার কলসি-ঠোঁটে
	উল্লাসে জল উল্‌সি’ ওঠে,
	অঙ্গে নিলাজ পুলক ছোটে
			বায় যেন হায় নরম লতা।।
অ-চকিতে পথের মাঝে পথ-ভুলানো পরদেশিকে
হান্‌লে দিঠি পিয়াস-জাগা পথ্‌বালা এই উর্বশীকে!
	শূন্য তাহার কন্যা হিয়া
	ভর্‌ল বঁধুর বেদ্‌না নিয়া,
	জাগিয়ে গেল পর্‌দেশিয়া
			বিধুর বধূর মধুর ব্যথা।।

কাল কাল ক’রে গেল কতকাল

বাণী

কাল কাল ক’রে গেল কতকাল কালের নাহিক শেষ।
কাল যাই যথা বন্ধু রে ল’য়ে যাব আমি সেই দেশ।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’

আয় বিজয়া আয় রে জয়া

বাণী

আয় বিজয়া আয় রে জয়া উমার লীলা যা রে দেখে।
সেজেছে সে মহাকালী চোখের কাজল মুখে মেখে।।
	সে ঘুমিয়েছিল আমার কোলে
	জেগে উঠে কেঁদে বলে,
আমায় কালী সাজিয়ে দে মা ছেলেরা মোর কাঁদছে ডেকে।।
চেয়ে দেখি মোর উমা নাই নাচে কালী দিগম্বরী,
হুঙ্কার দেয় কোটি গ্রহের মুণ্ডমালা গলায় পরি’।
	আমি শুধু উমায় চিনি
	এ কোন্ মহামায়াবিনী,
কালোরূপে বিশ্বভুবন আকাশ-পবন দিল ঢেকে।।