


শুকসারী সম তনু মন মম নিশিদিন গাহে তব নাম। শুকতারা সম ছলছল আঁখি পথ চেয়ে থাকি ঘনশ্যাম।। হে চির সুন্দর আধো রাতে আসি’ বল বল কে বাজায় আশার বাঁশি, কেন মোর জীবন-মরণ শ্রীহরি তব শ্রীচরণে সঁপিলাম। কেন গোপন রোদনের যমুনায় জোয়ার আসে? কেন নব নীরদ মায়া ঘনায় হৃদি-আকাশে। দেখা যদি নাহি দেবে কেন মোরে ডাকিলে কেন, অনুরাগ-তিলক ললাটে আঁকিলে কেন কুহু কেকা সম বিরহ অভিমান অন্তরে কাঁদে অবিরাম।।
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

আঁখি-বারি আঁখিতে থাক, থাক ব্যথা হৃদয়ে। হারানো মোর বুকের প্রিয়া রইবে চোখে জল হয়ে।। নিশি-শেষে স্বপন-প্রায় নিলে তুমি চির-বিদায়, ব্যথাও যদি না থাকে হায়, বাঁচিব গো কি ল’য়ে।। ভালোবাসার অপরাধে প্রেমিক জনম জনম কাঁদে, কুসুমে কীট বাসা বাঁধে শত বাধা প্রণয়ে।। আজকে শুধু করুণ গীতে কাঁদিতে দাও দাও কাঁদিতে, আমার কাঁদন-নদীর স্রোতে বিরহের বাঁধ যাক ক্ষয়ে।।
রাগঃ ভৈরবী মিশ্র
তালঃ কাহার্বা

খেলা শেষ হল, শেষ হয় নাই বেলা। কাঁদিও না, কাঁদিও না — তব তরে রেখে গেনু প্রেম-আনন্দ মেলা।। খেলো খেলো তুমি আজো বেলা আছে খেলা শেষ হলে এসো মোর কাছে, প্রেম-যমুনার তীরে ব’সে রব লইয়া শূন্য ভেলা।। যাহারা আমার বিচার করেছে — ভুল করিয়াছে জানি, তাহাদের তরে রেখে গেনু মোর বিদায়ের গানখানি। হই কলঙ্কী, হোক মোর ভুল বালুকার বুকে ফুটায়েছি ফুল, তুমিও ভুলিতে নারিবে সে-কথা — হানো যত অবহেলা।।
পাঠান্তর
খেলা শেষ হল, শেষ হয় নাই বেলা। কাঁদিও না, কাঁদিও না — তব তরে রেখে গেনু প্রেম-আনন্দ মেলা।। খেলো খেলো তুমি আজো বেলা আছে খেলা শেষ হলে এসো মোর কাছে, প্রেম-যমুনার তীরে ব’সে রব লইয়া শূন্য ভেলা।। যাহারা আমার বিচার করেছে আর তাহাদের কেহ, দেখিতে পাবে না কলঙ্ক কালিমাখা মোর এই দেহ। হই কলঙ্কী, হোক মোর ভুল পৃথিবীতে আমি এনেছি গোকুল, তুমিও ভুলিতে নারিবে সে-কথা — হানো যত অবহেলা।।
[গানটি ১৯৬৫ সালে জগন্ময় মিত্রের কণ্ঠে রেকর্ডের সময় প্রশিক্ষক কমল দাশগুপ্ত বাণীর কিছু পরিবর্তন করেছিলেন।
যথা: ১. খেলা শেষ হলে যেয়ো, যেয়ো মোর কাছে, ২. হোক অপরাধ হোক মোর ভুল]
রাগঃ
তালঃ দাদ্রা
বাঁশিতে সুর শুনিয়ে নূপুর রুনঝনিয়ে এলে আজি বাদলপ্রাতে। কদম কেশর ঝুরে পুলকে তোমার পায়ে, তমাল বিছায়ে ছায়া শ্যামল আদুল গায়ে। অলকা পথ বাহি আসিলে মেঘের নায়ে, নাচের তালে বাজিয়া ওঠে চুড়ি কাঁকন হাতে।। ধানি রঙের শাড়ি ফিরোজা রঙ উত্তরীয় প'রেছি এ শ্রাবণ দোলাতে দুলিতে প্রিয়। কেশের কমল-কলি, বনমালী, তুলিয়া আদরে চাঁচর চিকুরে আপনি পরিও তোমার রূপের কাজল পরায়ো আমার আঁখি পাতে।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা (কাহার্বা ও দাদ্রা)

বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী! ঢল ঢল নয়নে রস-ঘন মিনতি।। রুমুঝুমু ঘুমুরে ঘুমুঘুমু বিবশা নিথর বসুমতী, নিশিমদ-অলসা, মুরছিত চরণে শত মদন রতি।। রস-ছলছল গো তব মধু কলসে ঝরঝর ঝরনা অনুখন বরষে, অরুণিত নয়না মধুর রসবতী।।১
১. বধুরম মধুরম মধুর রসবতী।।
রাগঃ
তালঃ মধুমতী (৮ মাত্রা)
নাইয়া! ধীরে চালাও তরণী একে ভরা ভাদর তায় বালা মাতোয়ালা মেঘলা রজনী।। হায় পারে নেওয়ার ছলে নিলে মাঝ নদীতে যৌবন-নদী টলমল নারি রোধিতে ঐ ব্যাকুল বাতাস হরি’ নিল লাজ বাস তায় চঞ্চল-চিত যে তুমি চাহ বধিতে পায়ে ধরি ছাড়, বঁধু আমি পরের ঘরের ঘরণী।। তরঙ্গ ঘোর রঙ্গ করে, অঙ্গে লাগে দোল্ একি এ নেশার ঘোরে তনু মন আঁখি লোল্। দুলিছে নদী দুলে বায়ু দুলিছে তরী কেমনে থির রাখি মোর চিত উতরোল । ওঠে ডিঙি পান্সি ভরি’ বারি কি করি কিশোরী রমণী।।
রাগঃ ভৈরবী
তালঃ ফের্তা (কাশ্মিরী খেমটা ও কাহার্বা)
শিল্পীঃ অঞ্জলি

Nazrulgeeti.org is the largest portal in the world about Nazrulgeeti. Anything and everything about Nazrulgeeti will be found in this portal. All lyrics, used raag and taal, audio/video, swaralipi and unknown stories behind the song, everything will be available here. The collection is growing every day. Be with us and help spread Nazrulgeeti worldwide.
Developed, Owned and Maintained by Mamunur Rahman Khan