


দে দোল্ দে দোল্ ওরে দে দোল্ দে দোল্ জাগিয়াছে ভারত সিন্ধু তরঙ্গে কল-কল্লোল।। পাষাণ গলেছে রে অটল টলেছে রে জেগেছে পাগল রে ভেঙেছে আগল।। বন্ধন ছিল যত হল খানখান রে পাষাণ পুরীতে ডাকে জীবনেরি বান রে মৃত্যু ক্লান্ত আজি কুড়াইয়া প্রাণ রে দুর্মদ যৌবন আজি উতরোল।। অভিশাপ রাত্রির আয়ু হল ক্ষয় রে আর নাহি অচেতন আর নাহি ভয় রে আজও যাহা আসেনি আসিবে সে জয় রে আনন্দ ডাকে দ্বারে খোল দ্বার খোল।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা
শিল্পীঃ সন্ধ্যা মুখার্জী

কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ'রে যায়! মুখের হাসি চোখের জলে ম'রে যায়, হায়।। নিশীথে যে কাঁদিল প্রিয় ব'লে হায় নিশি-ভোরে সে কেন হায় স'রে যায়।। হায় আজ যাহার প্রেম করে গো রাজাধিরাজ কাল কেন সে চির-কাঙাল ক'রে যায়।। মান-অভিমান খেলার ছলে ফেরে না আর যে যায় চ'লে মিলন-মালা মলিন ধূলায় ভ'রে যায়।।
রাগঃ পিলু-বারোয়াঁ
তালঃ কাহার্বা

অ-মা! তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং? খাঁদা নাকে নাচ্ছে ন্যাদা-নাক ডেঙাডেং-ড্যাং! ওঁর নাক্টাকে কে করল খ্যাঁদা র্যাঁদা বুলিয়ে? চাম্চিকে-ছা ব’সে যেন ন্যাজুড় ঝুলিয়ে! বুড়ো গুরুর টিকে যেন শুয়ে কোলা ব্যাং! অ-মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং-ড্যাং! ওঁর খ্যাঁদা নাকের ছেঁদা দিয়ে টুকিকে দেয় ‘টু’! ছোড়্দি’ বলে সর্দি ওটা, এ রাম! ওয়াক্! থুঃ কাছিম যেন উপুড় হয়ে ছড়িয়ে আছেন ঠ্যাং! অ-মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং-ড্যাং! দাদু বুঝি চীনাম্যান মা, নাম বুঝি চ্যাংচু? তাই বুঝি ওঁর মুখ্টা অমন চ্যাপ্টা সুধাংশু! জাপান দেশের নোটিশ উনি নাকে এঁটেছেন! অ-মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং-ড্যাং! দাদুর নাকি ছিল না মা অমন বাদুড়-নাক, ঘুম দিলে ঐ চ্যাপ্টা নাকেই বাজ্তো সাতটা শাঁখ, দিদিমা তাই থ্যাবড়া মেরে ধ্যাব্ড়া করেছেন! অ-মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং-ড্যাং! লম্ফানন্দে লাফ দিয়ে মা চ’লতে বেঁজির ছা, দাড়ির জালে প’ড়ে যাদুর আটকে গেছে গা, বিল্লি-বাচ্চা দিল্লি যেতে নাসিক এসেছেন! অ-মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং-ড্যাং! দিদিমা কি দাদুর নাকে টাঙতে ‘আল্মানক্’ গজাল ঠুঁকে দেছেন ভেঙে বাঁকা নাকের কাঁখ? মুচি এসে দাদুর আমার নাক ক’রেছে ‘ট্যান’! অ-মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং-ড্যাং! বাঁশির মতন নাসিকা মা মেলে নাসিকে, সেথায় নিয়ে চল দাদু দেখন-হাসিকে। সেথায় গিয়ে করুন দাদু গরুড় দেবের ধ্যান, খাঁদু-দাদু নাকু হবেন, নাক ডেঙাডেং-ড্যাং!
‘খাঁদু-দাদু’
[সঞ্চিতা, কাজী নজরুল ইসলাম, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ২০০৫]
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

আসল যখন ফুলের ফাগুন, গুল্-বাগে ফুল চায় বিদায়। এমন দিনে বন্ধু কেন বন্ধুজনে ছেড়ে যায়॥ মালঞ্চে আজ ভোর না হতে বিরহী বুলবুল কাঁদে, না ফুটিতে দলগুলি তার ঝর্ল গোলাব হিম-হাওয়ায়॥ পুরানো গুল-বাগ এ ধরা, মানুষ তাহে তাজা ফুল, ছিঁড়ে নিঠুর ফুল-মালী আয়ুর শাখা হতে তায়॥ এই ধূলিতে হল ধূলি সোনার অঙ্গ বে-শুমার, বাদশা অনেক নূতন বধূ ঝরল জীবন-ভোরবেলায়॥ এ দুনিয়ার রাঙা কুসুম সাঁজ না হতেই যায় ঝ’রে, হাজার আফ্সোস, নূতন দেহের দেউল ছেড়ে প্রাণ পালায়॥ সামলে চরণ ফেলো পথিক, পায়ের নিচে মরা ফুল আছে মিশে এই সে ধরার গোরস্থানে এই ধূলায়॥ হল সময় — লোভের ক্ষুধা মোহন মায়া ছাড় হাফিজ, বিদায় নে তো ঘরের কাছে দূরের বঁধূ ডাকছে আয়॥
রাগঃ দুর্গা-মান্দ
তালঃ কাওয়ালি
শিল্পীঃ অনুপ ঘোষাল
স্বরলিপিকার: কাজী নজরুল ইসলাম

বরণ করে নিও না গো নিও হরণ ক’রে। ভীরু আমায় জয় কর গো তোমার মনের জোরে।। পরান ব্যাকুল তোমার তরে চরণ শুধু বারণ করে, লুকিয়ে থাকি তোমার আশায় রঙিন বসন প’রে।। লজ্জা আমার ননদিনী জটিলারই প্রায়, যখনই যাই, শ্যামের কাছে দাঁড়ায়ে আছে ঠায়। চাইতে নারি চোখে চোখে দেখে পাছে কোন লোকে, নয়নকে তাই শাসন (বারণ) করি অশ্রুজলে ভ’রে।।
রাগঃ মিশ্র গান্ধারী
তালঃ কাহার্বা / ত্রিতাল

মজনু : আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে, হায়! আমার যে প্রাণ-পতঙ্গ ওই প্রদীপ পানেই ধায়॥ লায়লী : আমার প্রেম যে অনল শিখা জ্বলে তিমির রাতে পতঙ্গরে পোড়াই আমি নিজেও পুড়ি সাথে। মজনু : একি ব্যথা একি নেশা এই কি গো প্রেম গরল-মেশা! লায়লী : তত আলো দান করে সে যত সে জ্বালায়॥
রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘লায়লী মজনু’
রাগঃ
তালঃ দাদ্রা

Nazrulgeeti.org is the largest portal in the world about Nazrulgeeti. Anything and everything about Nazrulgeeti will be found in this portal. All lyrics, used raag and taal, audio/video, swaralipi and unknown stories behind the song, everything will be available here. The collection is growing every day. Be with us and help spread Nazrulgeeti worldwide.
Developed, Owned and Maintained by Mamunur Rahman Khan